• বুধবার, ২১ এপ্রিল ২০২১, ৮ বৈশাখ ১৪২৮
  • ||

ভারত ও বাংলাদেশ একই দামে ভ্যাকসিন পাবে: পাপন

প্রকাশ:  ২৪ জানুয়ারি ২০২১, ২১:০৯
নিজস্ব প্রতিবেদক

চুক্তি অনুযায়ী ভারত ও বাংলাদেশ একই দামে ভ্যাকসিন পাবে। ভারত যদি কম দামে ভ্যাকসিন পায়, বাংলাদেশও কম দামে পাবে, তবে ভারত যদি বেশি দামে কিনে বাংলাদেশ সেই দাম দিবে না। বাংলাদেশ কম দাম দিবে বলেই জানিয়েছেন বেক্সিমকো ফার্মাসিটিক্যালস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন।

রোববার (২৪ জানুয়ারি) রাতে গুলশানের নিজ বাসভবন থেকে করোনা ভ্যাকসিন নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন।

নাজমুল হাসান পাপন বলেন, ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট থেকে কেনা তিন কোটি ডোজ ভ্যাকসিনের প্রথম চালান আসবে সোমবার (২৫ জানুয়ারি)। এদিন সকাল সাড়ে ১১টায় একটি ফ্লাইটে ৫০ লাখ ডোজ ভ্যাকসিন দেশে এসে পৌঁছাবে।

তিনি বলেন, ভারত সরকারের ভ্যাকসিন ক্রয়মূল্য তিন ডলারের মতো পড়তে যাচ্ছে। বাংলাদেশও তিন ডলারে কিনবে। তবে ভারত যদি চার ডলারের বেশি দামে কেনে, বাংলাদেশ সেই দামে কিনবে না। বাংলাদেশ তিন থেকে চার ডলারেই কিনবে। এমন ঐতিহাসিক চুক্তি আগে কখনো হয়নি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

পাপন বলেন, ‘প্রথম লটের ভ্যাকসিন যেহেতু আসছে, আমি নিজেই যাবো এয়ারপোর্টে রিসিভ করতে। ভারতের মুম্বাই থেকে এয়ার ইন্ডিয়ার ফ্লাইট সকাল ৮টায় রওনা হবে। আমাদের এখানে সাড়ে ১১টায় পৌঁছাবে। এয়ারপোর্ট থেকে ভ্যাকসিনগুলো বেক্সিমকোর টঙ্গীর ওয়্যারহাউজে নেওয়া হবে।’ এই ভ্যাকসিন সংরক্ষণের জন্য নতুন করে বিশেষভাবে এই ওয়্যারহাউজ তৈরি করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, ‘ভ্যাকসিন হাউজে স্টোর করার পর সেটার প্রত্যেকটি ব্যাচের ড্রাগ টেস্ট হবে। ড্রাগ টেস্টের ক্লিয়ারেন্স পাওয়ার পর সরকার যেভাবে বলবে, আমরা সেভাবেই ৬৪ জেলায় বিতরণ শুরু করবো। সরকার বলার পর ৬৪ জেলার সিভিল সার্জনের কাছে আমরা ভ্যাকসিন পৌঁছে দেবো। কিন্তু এখানে একটি মেজর বিষয় হচ্ছে— সেরাম ইনস্টিটিউট থেকে শুরু করে এয়ারপোর্ট, তারপর আমাদের ওয়্যারহাউজ, সেখান থেকে সিভিল সার্জনের কাছে পৌঁছানো পর্যন্ত কোথাও কোল্ড চেইন ব্রেক হয়েছে কিনা, সেটি আমাদের প্রমাণ করতে হবে। এটা অনেক বড় চ্যালেঞ্জ।’

তিনি আরো বলেন, অক্সফোর্ড ভ্যাকসিনের জন্য বাংলাদেশ সরকার সেরাম ইনস্টিটিউটের সঙ্গে চুক্তি করেছে, বেক্সিমকো এখানে ডিস্ট্রিবিউটার। ভ্যাকসিন আনতে বেক্সিমকো বাংলাদেশ সরকারের কাছ থেকে ডোজপ্রতি এক ডলার করে কমিশন পাবে। আনার সময় কোন ভ্যাকসিন নষ্ট হলে তার দায় বেক্সিমকোকে বহন করতে হবে। তবে ভ্যাকসিনের কোন পাশ্ব:প্রতিক্রিয়া হলে বেক্সিমকোর কোন দায় নেই। সরকার সেই ব্যক্তির চিকিৎসা খরচ বহন করবে। নাজমুল হাসান প্রথমেই ভ্যাকসিন নিতে চেয়েছেন উল্লেখ করে বলেন, আমি অক্সফোর্ড ভ্যাকসিন নেবো। ভ্যাকসিন প্রথমে নিতে আমি একজনকে ফোন করেছিলাম। তবে আমাকে বলা হয়েছে আরো দশদিন অপেক্ষা করতে। কারণ, আমার কিছু ওষুধে রিঅ্যাকশন হয়। ওষুধে অ্যালার্জি যাদের আছে তাদের একটু সময় নিয়ে পরে ভ্যাকসিন দেয়া হবে। শুরুতে ভ্যাকসিন নেয়ার ইচ্ছে ছিলো; তবে টিকাদান শুরুর চার-পাঁচদিন পর হয়তো নেবো।

প্রসঙ্গত, গত ৫ নভেম্বর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট এবং বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের মধ্যে করোনা ভ্যাকসিনের বিষয়ে চুক্তি হয়। সেরাম ইনস্টিটিউটের সঙ্গে চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, বাংলাদেশ পর্যায়ক্রমে তিন কোটি ভ্যাকসিন পাবে।

এর আগে গত ২০ জানুয়ারি দেশে আসে ভারত সরকারের উপহার দেওয়া ২০ লাখ কোভিশিল্ড ভ্যাকসিন। সেরাম থেকে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার তৈরি কোভিশিল্ড নামের এই ভ্যাকসিন দেশে সরবরাহ করছে বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস।

পূর্বপশ্চিমবিডি/এসএস

নাজমুল হাসান পাপন,বেক্সিমকো ফার্মাসিটিক্যালস লিমিটেড
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
cdbl
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close