• রোববার, ১১ এপ্রিল ২০২১, ২৮ চৈত্র ১৪২৭
  • ||

হাজী সেলিমের ছেলের দখলে থাকা জমি উদ্ধার

প্রকাশ:  ২০ ডিসেম্বর ২০২০, ১৮:২২
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর কেরানীগঞ্জের মধ্যের চর এলাকায় ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হাজী মোহাম্মদ সেলিমের ছেলে সোলাইমান সেলিমের দখলে থাকা বুড়িগঙ্গার জমি দখলমুক্ত করেছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডাব্লিউটিএ)।

রোববার (২০ ডিসেম্বর) দুপুরে বুড়িগঙ্গা নদীর তীর রক্ষায় এ অভিযান চালানো হয়। বিআইডাব্লিউটিএ’র ঢাকা নদী বন্দরের যুগ্ম পরিচালক গুলজার আলীর নেতৃত্বে পরিচালিত এই অভিযান চলে বিকাল পাঁচটা পর্যন্ত।

হাজী সেলিমের মালিকানাধীন মদিনা মেরিটাইম লিমিটেডের পক্ষে ওই জমিতে তার বড় ছেলে সোলাইমান সেলিমের নামে সাইনবোর্ড লাগানো ছিল। জমিটি অবৈধভাবে দখলে রেখে মার্কেট নির্মাণ করছিলেন হাজী সেলিম।

গুলজার আলী সাংবাদিকদের বলেন, ‘গত বছর কেরানীগঞ্জের মধ্যের চর এলাকায় নদীর পাড়ে স্থায়ী সীমানা পিলার বাসানো হয়। এই সীমানা পিলারের মধ্যে থাকা জায়গায় উচ্ছেদ চালাচ্ছে বিআইডাব্লিউটিএ।’

সীমানার ভেতরকার অবৈধ সব স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

এদিকে ইরফান সেলিম ও তার দেহরক্ষী জাহিদুল মোল্লার বিরুদ্ধে দায়ের করা মাদক মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ৩ জানুয়ারি দিন ধার্য করেছেন আদালত। রোববার ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট শাহিনুর রহমান এ আদেশ দেন। এদিন মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ধার্য ছিল। কিন্তু এ দিন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা চকবাজার থানার পরিদর্শক (অপারেশন) মুহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন প্রতিবেদন দাখিল করতে না পাড়ায় আদালত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নতুন এ দিন ধার্য করেন।

গত ২৬ অক্টোবর সকালে হাজী সেলিমের ছেলে ইরফান সেলিমসহ চার জনের বিরুদ্ধে ধানমন্ডি থানায় একটি হত্যাচেষ্টার মামলা দায়ের করেন নৌবাহিনীর লেফটেন্যান্ট ওয়াসিফ আহমদ খান।

এর আগের দিন ২৫ অক্টোবর রাতে কলাবাগানের ট্রাফিক সিগন্যালে হাজী সেলিমের একটি গাড়ি থেকে দুই-তিন জন ব্যক্তি নেমে ওয়াসিম আহমেদ খানকে ফুটপাতে ফেলে এলোপাতাড়ি মারধর করে। পরে ট্রাফিক পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে। পথচারীরা এই দৃশ্য ভিডিও করেন, যা মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়। ধানমন্ডি থানা পুলিশ এসে ঘটনাস্থল থেকে গাড়িটি থানায় নিয়ে যায়। বর্তমানে গ্রেফতার মিজানুর ও গাড়ি ধানমন্ডি থানায় রয়েছে। ওয়াসিফ আহেমদ এজাহারে অভিযোগ করেন, তিনি নীলক্ষেত দিয়ে বই কিনে মোহাম্মদপুরের দিকে তার বাসার দিকে মোটোরসাইকেলে করে ফিরছিলেন। তার স্ত্রীও তার সঙ্গে ছিলেন। ল্যাবএইড হাসপাতালের সামনে তার মোটোরসাইকেলটিকে পেছন থেকে একটি গাড়ি ধাক্কা দেয়। ওয়াসিম আহমেদ মোটোরসাইকেল থামিয়ে গাড়িটির গ্লাসে নক করে নিজের পরিচয় দিয়ে ধাক্কা দেওয়ার কারণ জানতে চান। তখন এক ব্যক্তি বের হয়ে তাকে গালিগালাজ করে গাড়িটি চালিয়ে কলাবাগানের দিকে আসে। মোটরসাইকেল নিয়ে ওয়াসিফ আহমেদও তাদের পেছনে পেছনে আসেন। কলাবাগান বাসস্ট্যান্ডে গাড়িটি থামলে ওয়াসিফ তার মোটোরসাইকেল নিয়ে গাড়ির সামনে দাঁড়ান। তখন তিন-চার জন লোক গাড়ি থেকে নেমে বলতে থাকে, ‘তোর নৌবাহিনী/সেনাবিহিনী বাইর করতেছি, তোর লেফটেন্যান্ট/ক্যাপ্টেন বাইর করতেছি। তোকে আজ মেরেই ফেলবো। এই বলতে তাকে কিলঘুষি দিতে থাকে। এরপর তারা পালিয়ে যায়।’

এরপর ২৮ অক্টোবর র‌্যাব-৩ এর ডিএডি কাইয়ুম ইসলাম চকবাজার থানায় এরফান সেলিম ও দেহরক্ষী জাহিদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদকের পৃথক চারটি মামলা করেন।

পূর্বপশ্চিমবিডি/এসএস

হাজী সেলিম,সংসদ সদস্য,রাজধানী,বিআইডাব্লিউটিএ
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
cdbl
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close