• মঙ্গলবার, ০২ মার্চ ২০২১, ১৭ ফাল্গুন ১৪২৭
  • ||
শিরোনাম

গোল্ডেন মনির ও তার স্ত্রীর সম্পদের হিসাব চেয়ে নোটিশ

প্রকাশ:  ২৬ নভেম্বর ২০২০, ১৬:০৫ | আপডেট : ২৬ নভেম্বর ২০২০, ১৭:০৭
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিপুল অর্থ, অস্ত্র-মদ ও সোনাসহ গ্রেপ্তার হওয়া গোল্ডেন মনির হোসেন এবং তার স্ত্রী রওশন আক্তারের সম্পদের হিসাব চেয়ে নোটিশ দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।বৃহস্পতিবার (২৬ নভেম্বর) দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে পাঠানো চিঠিতে তাদের ২১ কার্যদিবসের মধ্যে নির্ধারিত ছকে সম্পদের হিসাব জমা দিতে বলা হয়েছে।

দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রনব কুমার ভট্টাচার্য্য বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

দুদক পরিচালক আকতার হোসেন আজাদ সই করা নোটিশে তাদের নিজের এবং তাদের ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তিদের স্বনামে/বেনামে অর্জিত যাবতীয় স্থাবর/অস্থাবর সম্পত্তি, দায়-দেনা, আয়ের উৎস ও তা অর্জনের বিস্তারিত বিবরণী এ আদেশ পাওয়ার ২১ কার্যদিবসের মধ্যে নির্ধারিত ছকে দাখিল করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পদ বিবরণী দাখিল করতে ব্যর্থ হলে অথবা মিথ্যা বিবরণী দাখিল করলে দুদক আইনে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তাতে বলা হয়েছে।

মনির হোসেন এক সময় কাপড়ের দোকানের সেলসম্যান ছিলেন। তিনি এখন প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকার মালিক বলে অভিযোগ রয়েছে। ইতোমধ্যে মনিরের নামে রাজধানীর অভিজাত এলাকায় ২৬টি প্লট ও অস্থাবর সম্পদসহ ৬১০ কোটি টাকার তথ্য দুদকের হাতে। এছাড়া প্রাথমিক অনুসন্ধানে আরও অনেক সম্পদ ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগকরা অর্থের তথ্য রয়েছে। যা দুদক যাচাই-বাছাই করছে বলে বিভিন্ন সূত্র জানা গেছে।

গোল্ডেন মনিরের নামে পাওয়া সম্পদের রয়েছে, রাজধানীর বাড্ডা রাজউক পুনর্বাসন প্রজেক্টের ২.৫০ কাঠা জমিতে ৬তলা ভবন, উত্তরা কমার্শিয়াল এলাকার জনপথে (প্লট নং-২৩ ও ২৪) ৫ কাঠা, উত্তরার জমজম টাওয়ারে ৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগ, বারিধারা ব্লক-জে-এ প্রগতি সরণিতে ৪ কাঠার প্লট, বাড্ডার বারিধারা জে ব্লক এ ২ নং প্লটে সাড়ে ৪ কাঠার জমি, একই ব্লকের ১৩ নং রোডের ৪ কাঠা জমি, ১ নং রোডের ৪ কাঠার প্লট, বাড্ডা রাজউক এলাকায় ১১ নং রোডে আড়াই কাঠার প্লট, একই এলাকার ১০ নম্বর রোডের ১০ নম্বর প্লট (আড়াই কাঠা), একই এলাকায় ৪২ নম্বর প্লটে আড়াই কাঠা জমি, ব্লক নম্বর-৩২, জমির পরিমাণ আড়াই কাঠা। বাড্ডা রাজউক এলাকার ১১ নম্বর রোডের ৪৪ নম্বর প্লটে আড়াই কাঠা জমি। একই এলাকায় ৩৭ নম্বর প্লট ও ৪১ নম্বর প্লটে মোটি ৫ কাঠা জমি। ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় ৩৩ শতাংশ জমি, বাড্ডা মৌজায় আড়াই কাঠা প্লট এবং পাশেই পৌনে তিন কাঠার প্লট, একই এলাকার ১০ নম্বর রোডে আড়াই কাঠার প্লট, আরো পৌনে তিন কাঠার প্লট, কেরানীগঞ্জে পৌনে চার কাঠা প্লট, বাড্ডা মৌজা আরও আড়াই কাঠা প্লট, উত্তরায় হরিরামপুরে ৩৬ শতাংশ জমি, একই এলাকায় ৫ কাঠার প্লট, উত্তরা এলাকায় নলভোগ মৌজায় চার কাঠার প্লট, পূর্বাচল প্রকল্পে ৫ নম্বর সেক্টরে ১০ কাঠার প্লট,বাড্ডায় রাজউক এলাকায় ১০ নম্বর সড়কে আড়াই কাঠা প্লট, কেরানীগঞ্জে মগর চোর মৌজায় সাড়ে ৭ শতাংশ জমিসহ রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় নামে-বেনামে আত্মীয়-স্বজনের নামে শত শত কোটি টাকার জমি ক্রয় করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ গোল্ডেন মনির গণপূর্ত এবং রাজউকের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আঁতাত করে সরকারি কোটি কোটি টাকার প্লট নিজের করে নিয়ে নেয়। বিনিময়ে সরকারি কর্মকর্তা থেকে শুরু করে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে কোটি কোটি টাকা ঘুষ দিয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্র জানা গেছে।

শুধু নিজের নামে নয় মনিরের স্ত্রী রওশন আক্তারের নামেও সম্পদের পাহাড় গড়েছেন। ৫০০ থেকে ৬০০ ভরি স্বর্ণসহ বাড়ি-গাড়ি ফ্ল্যাট সবকিছুই দিয়েছেন স্ত্রী এবং স্বজনদের নামে। এর মধ্যে স্ত্রী রওশন আক্তারের নামের বাড্ডায় রয়েছে পৌনে ৩ কাঠার একটি প্লট, একই মৌজায় ১১নম্বর রোডে আড়াই কাঠা প্লট, বারিধারা ভাটারা থানা এলাকায় আড়াই কাঠা আরেকটি প্লট, গুলশান ১ এলাকায় ৬ নম্বর রোডে তিন নম্বর বাড়িতে প্রায় সাড়ে তিন হাজার স্কয়ার ফিটের একটি ফ্ল্যাট রয়েছে যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ৫ কোটি টাকা, এছাড়া মনিরের অস্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে মনির বিল্ডার্সের ৬০০ শেয়ার, মেসার্স গালস অটো কারস লিমিটেডের ১৬৫০টি শেয়ার, একটি সেডান কার, মিৎসুবিশি মডেলে একটি জিপ, একটি পিস্তল, বারোটি শটগানসহ অঢেল সম্পদের খোঁজ রয়েছে বলে জানা গেছে।

২০ নভেম্বর মধ্যরাতে মেরুল বাড্ডায় মনিরের ছয়তলা বাড়িতে র‍্যাব-৩ এর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ কুমার বসুর নেতৃত্বে অভিযান চালানো হয়।


পূর্বপশ্চিমবিডি/এসএম

গোল্ডেন মনির,দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক),র‌্যাব
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
cdbl
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close