• বুধবার, ২১ এপ্রিল ২০২১, ৮ বৈশাখ ১৪২৮
  • ||

আবরারের বাবাকে জেরায় যা বললেন অনিকের আইনজীবী

প্রকাশ:  ০৫ অক্টোবর ২০২০, ১৭:২৪
আদালত প্রতিবেদক
আবরার ফাহাদের বাবা বরকত উল্লাহ

আসামিরা আমার ছেলে আবরার ফাহাদ রাব্বীকে ছয় ঘণ্টা ধরে অমানবিকভাবে শারীরিক নির্যাতন করে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে। আমি এই হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার চাই। আদালতে কান্নাভেজা কণ্ঠে কথাগুলো বলছিলেন নিহত বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের বাবা বরকত উল্লাহ।

সোমবার আবরার হত্যা মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছে। ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক আবু জাফর মো. কামরুজ্জামানের আদালতে জবানবন্দি দেন মামলার বাদী ও নিহত আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ। পরে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তাকে জেরা করেন। এজাহারের বক্তব্য সমর্থন করে জবানবন্দি দিয়ে আদালতের কাছে ছেলে হত্যার ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করেন তিনি। এ সময় তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

বিকেল ৩টা থেকে আবরারের বাবাকে জেরা শুরু করেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা। প্রথমে জেরা করেন আসামি বুয়েট ছাত্রলীগের সাবেক তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক মো. অনিক সরকারের আইনজীবী মাহবুব আহম্মেদ। সেটি এখানে তুলে ধরা হলো:

অনিকের আইনজীবী : ‘যখন জামায়াত-শিবির সমর্থিত সরকার ছিল, তখন ছাত্রলীগের অনেক কর্মীকে জামায়াত-শিবির হল থেকে নির্যাতন করে বের করে দেয়। তা কি আপনি জানেন?’

আবরারের বাবা : ‘তা আমার জানা নেই।’

অনিকের আইনজীবী : ‘আপনি গত ২০ সেপ্টেম্বর আদালতে সাক্ষ্য দিতে এসেও কেন সাক্ষী দেননি?’

আবরারের বাবা : ‘আমি অসুস্থ ছিলাম।’

অনিকের আইনজীবী : ‘আপনি ওই দিন থেকে জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে পরামর্শ করে মামলার এজাহার মুখস্থ করে আজ সাক্ষী দিয়েছেন।’

আবরারের বাবা : ‘এটা সত্য নয়।’

অনিকের আইনজীবী : ‘আপনার ছেলে আবরার ঘটনার দুই থেকে চার দিন আগে সরকারের বিরুদ্ধে ফেসবুকে কটূক্তি করেছেন, তা জানেন?’

আবরারের বাবা : ‘আমি জানি না।’

গত ২০ সেপ্টেম্বর এ মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য দিন ধার্য ছিল। কিন্তু বাদী নিহত আবরারের বাবা মো. বরকত উল্লাহ জন্ডিসে আক্রান্ত হয়ে গুরুতর অসুস্থ থাকায় ওই সময় সাক্ষ্য দিতে পারবেন না বলে সময়ের আবেদন করেন। শুনানি শেষে বিচারক ৫ অক্টোবর সাক্ষ্যগ্রহণের পরবর্তী দিন নির্ধারণ করেন।

গত ১৫ সেপ্টেম্বর এ মামলায় অভিযোগ গঠনের আদেশ দেন আদালত। এরপর ১ অক্টোবর পর্যন্ত বিরতিহীন সাক্ষ্যগ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়।

এর আগে গত ১২ মার্চ আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক আবরার হত্যা মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠানোর ফাইল অনুমোদন করেন। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি এ মামলার বিচারকাজ দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠানোর জন্য ঢাকার মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটরের (পিপি) কার্যালয়ে আবেদন করেন নিহত আবরার ফাহাদের বাবা মো. বরকত উল্লাহ। এরপর মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়। কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে আদালতের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় মামলার বিচারকাজ এত দিন বন্ধ ছিল।

এ মামলায় আসামিরা হলেন—বুয়েট ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুহতামিম ফুয়াদ, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক মো. অনিক সরকার ওরফে অপু, সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান রবিন ওরফে শান্ত, আইনবিষয়ক উপসম্পাদক অমিত সাহা, উপসমাজসেবাবিষয়ক সম্পাদক ইফতি মোশাররফ সকাল, ক্রীড়া সম্পাদক মো. মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন, গ্রন্থ ও প্রকাশনাবিষয়ক সম্পাদক ইশতিয়াক আহম্মেদ মুন্না, কর্মী মুনতাসির আল জেমি, খন্দকার তাবাখখারুল ইসলাম তানভীর, মো. মুজাহিদুর রহমান, মো. মনিরুজ্জামান মনির, আকাশ হোসেন, হোসেন মোহাম্মদ তোহা, মো. মাজেদুর রহমান মাজেদ, শামীম বিল্লাহ, মুয়াজ ওরফে আবু হুরায়রা, এ এস এম নাজমুস সাদাত, আবরারের রুমমেট মিজানুর রহমান, শামসুল আরেফিন রাফাত, মোর্শেদ অমত্য ইসলাম, এস এম মাহমুদ সেতু, মুহাম্মদ মোর্শেদ-উজ-জামান মণ্ডল ওরফে জিসান, এহতেশামুল রাব্বি ওরফে তানিম ও মুজতবা রাফিদ।

আসামিদের মধ্যে মুহাম্মদ মোর্শেদ-উজ-জামান মণ্ডল ওরফে জিসান, এহতেশামুল রাব্বি ওরফে তানিম ও মুজতবা রাফিদ পলাতক। বাকি ২২ জন গ্রেপ্তার আছেন। এ মামলায় আটজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

গত বছরের ১৩ নভেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো. ওয়াহিদুজ্জামান ২৫ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

এর আগে ৬ অক্টোবর রাতে বুয়েটের শেরেবাংলা হলের একটি কক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা আবরারকে পিটিয়ে হত্যা করেন। এ ঘটনায় ১৯ জনকে আসামি করে পরের দিন ৭ অক্টোবর চকবাজার থানায় একটি হত্যা মামলা করেন আবরারের বাবা।

আবরার ফাহাদ,বুয়েট
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
cdbl
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close