• মঙ্গলবার, ২৪ নভেম্বর ২০২০, ৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৭
  • ||

ইউএনও ওয়াহিদা জনপ্রশাসনে, স্বামী স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে বদলি

প্রকাশ:  ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৮:৫২
নিজস্ব প্রতিবেদক
স্বামী ইউএনও মেসবাউল হোসেনের সঙ্গে ওয়াহিদা খানম। ফাইল ছবি

দুর্বৃত্তদের হামলায় গুরুতর আহত দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াহিদা খানমকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) এবং তার স্বামী মো. মেজবাউল হোসেনকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব হিসেবে বদলি করা হয়েছে।

গত বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানায়। তবে বিষয়টি শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) গণমাধ্যমের নজরে আসে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ইউএনও ওয়াহিদা খানমকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে বদলি করা হয়েছে। একই সঙ্গে রংপুরের পীরগঞ্জে ইউএনও হিসেবে কর্মরত তার স্বামী মো. মেজবাউল হোসেনকে ঢাকায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগে জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব হিসেবে বদলি করা হয়েছে।

ওয়াহিদা খানম ৩১তম বিসিএসে প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা। তার স্বামী মেজবাউল হোসেনও একই ব্যাচের প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা।

প্রসঙ্গত, গত ২ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা ইউএনওর সরকারি বাসায় ঢুকে ওয়াহিদা খানম ও তার বাবা ওমর আলীকে (৭০) হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে পালিয়ে যায়। বর্তমানে ঢাকার আগারগাঁওয়ে ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস অ্যান্ড হসপিটালে ওয়াহিদা খানমের চিকিৎসা চলছে।

এ ঘটনায় ইউএনও ওয়াহিদা খানমের বড় ভাই শেখ আরিফ হোসেন বাদী হয়ে গত ৩ সেপ্টেম্বর রাতে ঘোড়াঘাট থানায় একটি মামলা করেন। মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করা হয়।

এ মামলায় এখন পর্যন্ত বেশ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হলেও মোট চারজনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। এর মধ্যে আসামি নবিরুল ইসলাম ও সান্টু কুমারকে রিমান্ড শেষে গত ১১ সেপ্টেম্বর কারাগারে পাঠানো হয়। পরদিন ১২ সেপ্টেম্বর রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয় উপজেলা যুবলীগের সদস্য ও মামলার আসামি আসাদুল হককে।

তবে ইউএনওর অফিসের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী রবিউল ইসলামকে গ্রেপ্তারের পর এই মামলার মোড় ঘুরে যায়। গত ৯ সেপ্টেম্বর তাকে নিজ বাড়ি থেকে আটক করে পুলিশ। তিনি এখন দ্বিতীয় দফায় রিমান্ডে রয়েছেন। রবিউল ইউএনও ওয়াহিদার কার্যালয়ে মালি হিসেবে কাজ করতেন। ইউএনওর ব্যাগ থেকে টাকা চুরির অভিযোগে গত জানুয়ারি মাসে তিনি বরখাস্ত হন।

রবিউলকে জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে পুলিশ দাবি করেছে, এ ঘটনার তিনিই একমাত্র পরিকল্পনাকারী ও হামলাকারী। আক্রোশ থেকেই এ ঘটনা ঘটিয়েছেন তিনি।

তার দেয়া তথ্যমতে হামলায় ব্যবহৃত হাতুড়ি, লাঠি, মই, চাবিসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করেছে পুলিশ। তার পরনের প্যান্ট, হাতের ছাপসহ মোবাইলের লোকেশনের তথ্য আলামত হিসেবে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। এসব আলামত বিচারকাজে সহায়ক হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পূর্বপশ্চিমবিডি/জেডআই

ওয়াহিদা খানম
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
cdbl
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close