• বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০, ৯ আশ্বিন ১৪২৭
  • ||

করোনার লক্ষণ-উপসর্গ গোপন করা অপরাধ

প্রকাশ:  ০৭ আগস্ট ২০২০, ২১:০১
নিজস্ব প্রতিবেদক

মহামারির রোগ গোপন করা একটি অপরাধ বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) ডা. নাসিমা সুলতানা। করোনাভাইরাস মহামারিকালে কারো জ্বর-কাশি বা এ ধরনের লক্ষণ-উপসর্গ দেখা দিলে গোপন না করে অবশ্যই নমুনা পরীক্ষা করাতে হবে। শুক্রবার (৮ আগস্ট) আড়াইটায় মহাখালী থেকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত অনলাইন স্বাস্থ্য বুলেটিনে এ কথা বলেন নাসিমা সুলতানা।

নাসিমা সুলতানা বলেন, ‘আমরা কয়েক দিন আগেই কোরবানির ঈদ উদযাপন করেছি। পশুর হাটে অনেক লোক সমাগম হয়েছে। ঈদ উৎসব পালন করতেও আমরা অনেকে সমবেত হয়েছি। এই মুহূর্তে যে কারো লক্ষণ-উপসর্গ থাকলে অবশ্যই নমুনা পরীক্ষা করতে দেবো। কোনো রকম জ্বর-কাশি হলে গোপন করব না। যেহেতু এই মহামারি রোগ গোপন করাও একটি অপরাধ। কাজেই মহামারির কোনো লক্ষণ, উপসর্গ দেখা দিলে অবশ্যই আপনারা নমুনা পরীক্ষা করবেন এবং এই রোগ প্রতিরোধে সহায়তা করবেন।’

তিনি বলেন, ‘আমরা যেসব স্বাস্থ্যবিধি প্রতিনিয়তই বলি, সেগুলো অবশ্যই মেনে চলতে হবে। যেমন সঠিকভাবে মাস্ক পরা, বারবার সাবান পানি দিয়ে হাত ধোয়া, শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা বা জনসমাবেশ এড়িয়ে চলা। প্রত্যেকটি জিনিস একইসাথে করতে হবে, কোনো একটি আলাদাভাবে নয়। তাহলেই আমরা এই করোনাকে মোকাবিলা করতে পারবো। তা ছাড়া যারা অসংক্রামক ব্যাধিতে ভুগছেন, তারা অনেক বেশি সতর্ক-সচেতন থাকবেন। কারণ করোনায় আক্রান্ত হলে তাদের জন্য ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়। কাজেই আপনার সুরক্ষা আপনার হাতে।’

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এ অতিরিক্ত মহাপরিচালক আরো জানান, করোনাভাইরাস শনাক্তে গত ২৪ ঘণ্টায় ১৩ হাজার ২৫৩টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরীক্ষা করা হয় ১২ হাজার ৬৯৯টি নমুনা। এ নিয়ে মোট নমুনা পরীক্ষা করা হলো ১২ লাখ ৩৭ হাজার ৮২৩টি। নতুন পরীক্ষায় করোনা মিলেছে দুই হাজার ৮৫১ জনের মধ্যে। এ নিয়ে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়ালো দুই লাখ ৫২ হাজার ৫৯২ জনে। আক্রান্তদের মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছেন আরো ২৭ জন। ফলে ভাইরাসটিতে মোট মৃত্যু হলো তিন হাজার ৩৩৩ জনের। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন আরো এক হাজার ৬০ জন। এ নিয়ে মোট সুস্থ রোগীর সংখ্যা দাঁড়ালো এক লাখ ৪৫ হাজার ৫৮৪ জনে।

সংক্রামক রোগের কথা গোপন রাখলে জেল-জরিমানা

‘সংক্রামক রোগ (প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল) আইন, ২০১৮’ বিধান অনুযায়ী, সংক্রামক রোগের কথা গোপন রাখার পর এই রোগে আক্রান্ত কারো মাধ্যমে তার বিস্তার ঘটালে তাকে কারাভোগের পাশাপাশি জরিমানা গুণতে হবে।

এই আইনে বলা আছে, যদি কোনো ব্যক্তি সংক্রামক রোগের বিস্তার ঘটান বা ঘটতে সহায়তা করেন বা স্থানের সংস্পর্শে আসার সময় সংক্রমণের ঝুঁকির বিষয়টি গোপন করেন তাহলে তা অপরাধ বলে গণ্য হবে। এই অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ ছয় মাস কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড দেওয়া হবে।

সুস্থ্য কেউ যাতে আক্রান্ত না হন সেজন্য কারো সংক্রামক রোগ হলে সেই তথ্য সরকারি কর্তৃপক্ষকে জানানোর বিষয়ে আইনে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। রোগাক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহৃত দ্রব্যাদি সরকার বিশুদ্ধ বা ধ্বংস করতে পারবে। রোগাক্রান্ত ব্যক্তিকে সরকার দূরে সরিয়ে রাখতে পারবে। সংক্রমিত স্থান বা স্থাপনা জীবাণুমক্ত বা বন্ধ করতেও ব্যবস্থা নিতে পারবে।

এই আইনে উল্লিখিত বিভিন্ন দায়িত্ব পালনে বাধা দিলে ও নির্দেশ পালনে অসম্মতি জানালে সর্বোচ্চ তিন মাস কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড দেওয়া হবে। এছাড়া সংক্রমণ রোগ নিয়ে মিথ্যা বা ভুল তথ্য দিলে সর্বোচ্চ দুই মাসের কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডিত হবেন।

পূর্বপশ্চিমবিডি/এসএস

করোনাভাইরাস
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
cdbl
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close