• মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০, ৭ আশ্বিন ১৪২৭
  • ||
শিরোনাম

বরখাস্ত ওসি প্রদীপকে বাড়তি খাতির, জনমনে নানা প্রশ্ন

প্রকাশ:  ০৭ আগস্ট ২০২০, ২০:৫০ | আপডেট : ০৭ আগস্ট ২০২০, ২১:২৬
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রদীপ কুমার দাশ। ফাইল ছবি

অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা রাশেদ হত্যা মামলার আসামি বরখাস্ত ওসি প্রদীপ কুমার দাশকে চট্টগ্রাম থেকে পুলিশি নিরাপত্তায় কক্সবাজার কোর্টে আত্মসমর্পণ করা নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। আইনবিদরা মনে করেন, এর মাধ্যমে অভিযুক্তকে অতিরিক্ত সুবিধা দেওয়া হয়েছে।

আইনে ৩০২ ধারার মত আমলযোগ্য মামলার আসামিকে গ্রেপ্তারের নির্দেশনা থাকলেও ওসি প্রদীপের ক্ষেত্রে তা করা হয়নি। উল্টো তাকে ব্যাপক নিরাপত্তা দিয়ে কক্সবাজার কোর্টে আত্মসমর্পণের সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া পুলিশের হেফাজতে থাকা ওসি প্রদীপ গ্রেপ্তার না আত্মসমর্পণ করেছে তা নিয়েও সারাদিন ছিল গুঞ্জন।

তবে এ নিয়ে কথা বলতে রাজি হননি সিএমপি উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম ও অপারেশন) শ্যামল কুমার নাথ বলেন, প্রদীপ কুমার দাশের বিরুদ্ধে কক্সবাজার আদালতে মামলা দায়েরের পর আদালতে আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত নেন। সেই অনুযায়ী তিনি আমাদের কাছে তাকে আদালত পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়ার জন্য সহযোগিতা চেয়েছেন। সেই কারণে আমরা তাকে এসকর্ট দিয়ে আদালতে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছি।

তিনি বলেন, ওসি প্রদীপ বাড়তি কোনও সহযোগিতা পাননি। একজন সাধারণ নাগরিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে সহযোগিতা চাইলে তাকেও আমরা একই সহযোগিতা করতাম। আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে কেউ আত্মসমর্পণ করতে চাইলে তাকে সহযোগিতা করাই পুলিশের কাজ।

আরো পড়ুন: টেকনাফ থেকেই নিয়েছেন কোটি কোটি টাকা, নিতেন স্বর্ণালংকারও

এদিকে আইনজীবীররা বলছেন, হত্যা মামলার আসামিকে বিশেষ সুযোগ দেয়ার কোনো অবকাশ নেই। পুলিশের উচিত ছিলো তাকে আগে গ্রেপ্তার দেখিয়ে তারপর আদালতে সোপর্দ করা। অন্য আসামিদের ক্ষেত্রে যে আচরণ করা হয়, প্রদীপের ক্ষেত্রে পুলিশের আচরণ ছিলো আলাদা।

চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এএইচএম জিয়াউদ্দিন বলেন, পুলিশ কিন্তু তাকে হেফাজতে নিয়েছে, গ্রেপ্তার করেনি। তাকে গ্রেপ্তার করা উচিত ছিলো। তাকে স্পেশাল ট্রিট করার কোন সুযোগ নেই। আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান।

আরো পড়ুন: সিনহাকে হত্যার পর ওসিসহ যাদের সাথে কথা হয় লিয়াকতের

চট্টগ্রাম টিআইবির সচেতন নাগরিক কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট আকতার কবীর চৌধুরী বলেন, মামলার আসামি হওয়া সত্বেও তাকে গ্রেপ্তার না করে ভিআইপি মর্যাদায় চট্টগ্রাম থেকে নেয়া হয়েছে। পুলিশ প্রশাসন কর্তৃপক্ষের একাংশের এহেন আচরণ দেশের নাগরিকরা নিতে পারছেনা।

চাঞ্চল্যকর মামলার আসামি হওয়ার পরও প্রদীপকে কেনো এই সুযোগ দেয়া হয়েছে তা খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী ব্যারিস্টার জোতির্ময় বড়ুয়া বলেন, অনেকের মধ্যেই ধারণা যে পুলিশ প্রদীপকে গ্রেপ্তার করে নাই, পুলিশ বলেছে প্রদীপ আত্মসমর্পণ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে তাই আদালতে নিয়ে তাকে আত্মসমর্পণ করানো হয়েছে। তাহলে ভবিষ্যতে তাকে সুবিধা দেয়ার জন্য কি এসব করা হয়েছে, এটা কি আইনে আছে কিনা?

পূর্বপশ্চিমবিডি/জেডআই

সিনহা হত্যা
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
cdbl
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
Latest news
close