• শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১১ আশ্বিন ১৪২৭
  • ||

সাবরিনা-আরিফকে ৩০০ কোটি টাকার কাজ দিতে চেয়েছিলেন এক আমলা

প্রকাশ:  ২১ জুলাই ২০২০, ১৪:৪৬ | আপডেট : ২১ জুলাই ২০২০, ২১:১২
নিজস্ব প্রতিবেদক

করোনাভাইরাসের নমুনা পরীক্ষায় জালিয়াতির ঘটনায় গ্রেপ্তার জোবেদা খাতুন হেলথ কেয়ারের (জেকেজি) প্রধান নির্বাহী আরিফুল হক চৌধুরী ও চেয়ারম্যান ডা. সাবরিনা আরিফ চৌধুরী জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন, তাদের ৩০০ কোটি টাকার কাজ দিতে চেয়েছিলেন একজন আমলা। তবে সম্প্রতি ঐ আমলা বদলি হয়ে গেছেন।

বৈধ অনুমতি পেয়েও টাকার লোভে করোনার নমুনা পরীক্ষায় ভুয়া টেস্ট শুরু করেছিল জেকেজি। প্রতিষ্ঠানটি করোনার ১৫ হাজার ভুয়া রিপোর্ট প্রদান করে। আরিফুল হক চৌধুরী এবং ডা. সাবরিনা আরিফ চৌধুরীর তত্ত্বাবধানে চলে এমন অপকর্ম। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে তারা এটি স্বীকার করেছেন।

এছাড়া জিজ্ঞাসাবাদে এই দম্পতি বলেন, সম্প্রতি ৩০০ কোটি টাকার কাজ দিতে চেয়েছিলেন একজন আমলা। ঐ টাকার ভাগ কে কত পাবে বৈঠকে তাও চূড়ান্ত হয়। সম্প্রতি ঐ আমলা বদলি হয়ে গেছেন।

মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তর ম্যানেজ করে কাজ ভাগিয়ে নিতেন সাবরিনা-আরিফ। তবে অপকর্ম ফাঁস হওয়ার পর গ্রেপ্তার হয়ে এই দম্পতি এখন ডিবির হেফাজতে রয়েছেন। সেখানে গোয়েন্দা জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসছে তাদের অপকর্মের নানা তথ্য।

জিজ্ঞাসাবাদে আরিফ ও সাবরিনা স্বীকার করেছেন, করোনার ভুয়া টেস্ট ও ভুয়া সনদ বিক্রি করে তারা কয়েক কোটি টাকা উপার্জন করেছেন। টাকার অঙ্ক সম্পর্কে অবশ্য তারা একেক সময়ে একেক তথ্য দিচ্ছেন। তবে দুই জনই স্বীকার করেছেন। সন্দেহ এড়াতে টাকাগুলো তারা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে রাখেননি। জেকেজির কর্মীদের খরচ মিটিয়ে অন্তত সাড়ে ৩ কোটি টাকা নগদ আকারে পূর্বপরিচিত কয়েক জনের কাছে রেখেছেন তারা। বেশি টাকা নিয়ে নেন আরিফ। এই টাকার ভাগ নিয়ে মূলত সাবরিনা ও আরিফের মধ্যে দ্বন্দ্ব।

জেকেজি হেলথ কেয়ারের চেয়ারম্যান ডা. সাবরিনা আরিফ চৌধুরী তার ফেসভ্যালু পুঁজি করে সুবিধা নিয়েছে বলেও জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে এসেছে। চিকিৎসক হিসেবে স্বাস্থ্য অধিদফতরসহ বিভিন্ন জায়গায় যে তার পরিচিতি রয়েছে সেটা দিয়েই তিনি প্রতারণা করেছেন।

এছাড়াও করোনার নমুনা পরীক্ষা নিয়ে ভুয়া রিপোর্ট দেওয়ার মামলায় গ্রেপ্তার রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মো. সাহেদ ওরফে সাহেদ করিম ও ডা. সাবরিনা আরিফ চৌধুরীকে মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।

ডিবি সূত্র জানায়, দুজনের অপরাধ অভিন্ন বলে তাদের মুখোমুখি করা হয়। তবে জিজ্ঞাসাবাদে তারা একে অপরকে চেনেন না বলে দাবি করেন। যদিও ডিবি বলছে, তারা যে পূর্ব পরিচিত সেই তথ্য ডিবির হাতে রয়েছে।

এদিকে চার দিনের রিমান্ডের মেয়াদ শেষ হওয়ায় রোববার (১৯ জুলাই) আরিফকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। সোমবার (২০ জুলাই) সাবরিনাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ডিবি হেফাজতে সাহেদের ১০ দিনের রিমান্ড চলছে।

গত ৬ জুলাই রিজেন্ট হাসপাতালে অভিযানের পর গা-ঢাকা দেওয়া সাহেদকে গত বুধবার সাতক্ষীরার সীমান্ত এলাকা থেকে একটি অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। করোনা র সনদ জালিয়াতির অভিযোগে গত ২৩ জুন আরিফুল হক চৌধুরীসহ জেকেজির ছয় কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করে তেজগাঁও থানা পুলিশ। গত ১২ জুলাই জেকেজির চেয়ারম্যান ডা. সাবরিনাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পূর্বপশ্চিমবিডি/জেডআই

আরিফুল হক চৌধুরী,করোনাভাইরাস,ডা. সাবরিনা চৌধুরী
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
cdbl
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close