• শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২০, ৩১ শ্রাবণ ১৪২৭
  • ||

‘এনু-রূপনের ২০টি বাড়ি, ১২৮টি ফ্ল্যাট’

প্রকাশ:  ১৪ জুলাই ২০২০, ২১:৪৬
নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকার গেণ্ডারিয়া থানা আওয়ামী লীগের সাবেক নেতা এনামুল হক এনু ও তার ভাই রূপন ভূঁইয়া

ক্যাসিনো কেলেঙ্কারির মামলায় ঢাকার গেণ্ডারিয়া থানা আওয়ামী লীগের সাবেক নেতা এনামুল হক এনু ও তার ভাই রূপন ভূঁইয়াসহ ৫১ জনের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং আইনে করা চার মামলার অভিযোগপত্র প্রস্তুত করেছে বাংলাদেশ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। শিগগিরই এই চার্জশিট দেওয়া হবে।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে সিআইডি কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ডিআইজি (সিরিয়াস ক্রাইম) ইমতিয়াজ আহমেদ এ কথা জানান।

ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, এনামুল হক এনু ও তার ভাই রূপন ভূঁইয়াসহ ৫১ জনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মানি লন্ডারিং আইনের চার মামলার চার্জশিট প্রস্তুত করা হয়েছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে যেকোনো সময় আদালতে এই চার্জশিট দাখিল করা হবে।

তিনি বলেন, গত পাঁচ বছরে এনু-রূপনের বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে ২০০ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। বর্তমানে ৯১টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ১৯ কোটি টাকা পাওয়া গেছে। আদালতের আদেশে এসব টাকা এখন জব্দ রয়েছে। পুরান ঢাকার বংশাল, ইংলিশ রোড, নয়াবাজার, মতিঝিল, শান্তিনগর, গুলশান, ধোলাইখাল, নবাবপুর এলাকায় সাতটি বেসরকারি ব্যাংকে এসব টাকা জমা রাখেন ক্যাসিনো কারবারি এই দুই ভাই।রাজধানীতে তাদের ২০টি বাড়ি, ১২৮টি ফ্ল্যাট ও ২৫ কাঠা জমির হিসাব পাওয়া গেছে। ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানের সময় তাদের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে সিন্দুক থেকে ২৬ কোটি টাকা উদ্ধার করা হয়।

এনু-রুপনের উত্থাপন সম্পর্কে ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ক্যাসিনো ব্রাদার এনু-রুপনের উত্থাপন পারিবারিকভাবে। তাদের বাবা জুয়ারি ছিলেন। রাজধানীর সদরঘাটে তাদের জুয়ার আড্ডা ছিল। সেখানেই এনু-রুপনের পেশাদারি জুয়া কার্যক্রমের শুরু। ২০১৫ সাল থেকে ওয়ান্ডারার্স ক্লাবের সেক্রেটারি জয় গোপালের হাত ধরেই তাদের ক্যাসিনো ব্যবসার উত্থান হয়।

সম্প্রতি জয় গোপালের গ্রেপ্তারের বিষয়ে ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ক্যাসিনোর সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার তথ্য আসার পর গত ৯ মাস আগেই আত্মগোপনে যান ওয়ান্ডারার্স ক্লাবের সেক্রেটারি জয় গোপাল। সম্প্রতি তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আশা করছি জিজ্ঞাসাবাদে তার কাছ থেকে আমরা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাব।

এনু-রুপনের বিরুদ্ধে চলমান চারটি মানি লন্ডারিং মামলার তদন্ত শেষে এক সপ্তাহের মধ্যে চার্জশিট দেওয়ার কথা উল্লেখ করে ডিআইজি বলেন, আমরা এনু-রুপনের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মানি লন্ডারিংয়ের মামলা তদন্ত করছি। গেন্ডারিয়া থানার মামলায় ১৬ জন, সুত্রাপুরের দুটি মামলায় ১৫ ও ১০ জন এবং ওয়ারির মামলায় ১১ জনের বিরুদ্ধে আগামী মঙ্গলবারের মধ্যে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হবে। তবে আনুষঙ্গিক বিষয়ে আমাদের তদন্ত চলবে। তদন্তে নতুন জড়িত কারো নাম আসলে তাদের বিরুদ্ধে সিআইডি বাদী হয়ে মামলা দায়ের করবে।

এনু-রুপনের ক্যাসিনো থেকে প্রতি রাতে কী পরিমাণ আয় হতো জানতে চাইলে সিআইডির এ কর্মকর্তা বলেন, প্রতি রাতে বিপুল পরিমাণ অর্থ লেনদেন হতো। দেশের বাইরে তাদের সম্পদ পাচার করেছেন কিনা সেটাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে অনুসন্ধানে যেটা মনে হয়েছে, ক্যাসিনোতে অর্জিত অর্থ তারা বাড়ি, ফ্ল্যাট, অলঙ্কারের পেছনে ব্যয় করেছেন।

২০১৯ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর এনামুল হক এনু ও রুপন ভূঁইয়াদের পুরান ঢাকার বানিয়ানগরের বাসায় এবং তাদের দুই কর্মচারীর বাসায় অভিযান চালায় র‌্যাব। সেখান থেকে পাঁচ কোটি টাকা এবং সাড়ে সাত কেজি স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় সূত্রাপুর ও গেণ্ডারিয়া থানায় তাদের নামে ছয়টি মামলা হয়।

পরে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি এনু-রুপনের লালমোহন সাহা স্ট্রিটের বাসায় অভিযান চালায় র‌্যাব। ওই বাড়ি থেকে ২৬ কোটি ৫৫ লাখ ৬০০ টাকা জব্দ করা হয়। আর পাঁচ কোটি ১৫ লাখ টাকার এফডিআরের কাগজ এবং এক কেজি স্বর্ণ জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় দুই ভাইয়ের নামে আরও দুটি মামলা হয়।

অন্যদিকে দুর্নীতি দমন কমিশনও এনু-রুপনের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে পৃথক দুটি মামলা করে। মামলায় এনুর বিরুদ্ধে ২১ কোটি ৮৯ লাখ ৪৩ হাজার টাকার আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের এবং রুপনের বিরুদ্ধে ১৪ কোটি ১২ লাখ ৯৫ হাজার ৮৮২ টাকার আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়। তবে দুদক এখনও আদালতে কোনো প্রতিবেদন জমা দেয়নি। এনু-রুপনের আয়ের বড় উৎস ছিল মতিঝিলের ওয়ান্ডারার্স ক্লাবে ক্যাসিনো ব্যবসা।

চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারি কেরানীগঞ্জের একটি ভবন থেকে এক সহযোগীসহ গ্রেপ্তার হন এনু-রূপন।

পূর্বপশ্চিমবিডি/এসএস

ক্যাসিনো,এনু-রূপন,আওয়ামী লীগ
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close