• শনিবার, ০৮ আগস্ট ২০২০, ২৪ শ্রাবণ ১৪২৭
  • ||

সরকারি কর্মচারী হাসপাতাল

৬ করোনা রোগীকে চিকিৎসা দিয়ে আক্রান্ত ১২ চিকিৎসক

প্রকাশ:  ১৪ জুলাই ২০২০, ১১:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

অব্যবস্থাপনা ও দায়িত্বে অবহেলার কারণে রাজধানীর সরকারি কর্মচারী হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসকরা করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। চিকিৎসকরা বলছেন, নিম্নমানের মাস্ক, পিপিই ও জীবণুনাশক ব্যবহারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি সবাইকে একসঙ্গে গাড়িতে যাতায়াত ও খাবারের জন্য এক ডাইনিং টেবিল ব্যবহার করতে হয়েছে। এ কারণে মাত্র ছয়জন করোনা রোগীকে চিকিৎসা দিতে গিয়ে ১২ চিকিৎসক আক্রান্ত হয়েছেন।

হাসপাতালটিতে গত ১৩ থেকে ১৯ জুন পর্যন্ত চিকিৎসার দায়িত্বে ছিলেন ২২ জন চিকিৎসক। ওই সময়ে চিকিৎসা দেওয়া হয় ছয় করোনা রোগীকে। তাদের চিকিৎসা দিতে গিয়ে আক্রান্ত হন ওই ১২ চিকিৎসক। পরের সপ্তাহে দায়িত্বে ছিলেন ২৬ চিকিৎসক। তাদের মধ্যেও ৯ জন আক্রান্ত হয়েছেন। চিকিৎসক ছাড়াও এ সময়ে হাসপাতালটিতে ১৩ নার্স ও এক স্বাস্থ্যকর্মী আক্রান্ত হয়েছেন।

চিকিৎসকরা অভিযোগ করেন, করোনা আক্রান্ত এই চিকিৎসকদের শাহবাগের বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস প্রশাসন একাডেমির ডরমেটরি ও ইস্কাটনের বিয়াম ফাউন্ডেশনের ডরমেটরিতে আলাদা রুমে থাকার ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু আলাদা রুম দেওয়া হলেও একই বাথরুম ব্যবহার করতে হয়েছে তাদের। রুম থেকে একই লিফট ব্যবহার করে ডাইনিংয়ে একসঙ্গে সবাইকে খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। অনেকটা নোংরা পরিবেশের মধ্যে তাদের থাকতে হয়েছে। নিয়মিত রুম পরিস্কার করার কথা থাকলেও তা করা হচ্ছে না। তাছাড়া ডরমেটরি থেকে একটি গাড়িতে সবাইকে হাসপাতালে আনা-নেওয়া করা হয়। হাসপাতালের মধ্যেও সুরক্ষার ব্যবস্থা যথাযথ করা হয়নি। হাসপাতালের অনেক রুমে জীবাণুনাশক ব্যবহারের জন্য পাওয়া যায়নি। সরকারি অর্থ ব্যয় দেখানো হলেও বাস্তবে মানসম্মত সুরক্ষা সামগ্রী দেওয়া হয়নি। এসব অব্যবস্থাপনার কারণে চিকিৎসকরা বেশি করোনা সংক্রমিত হয়েছেন।

জানা যায়, সরকারি এই হাসপাতালে সব সরকারি কর্মচারীকে চিকিৎসা নেওয়ার কথা থাকলেও তা হয়নি। হাসপাতালের চিকিৎসকদের এই বেহাল অবস্থার কারণে অনেক উচ্চপদস্থ কর্মচারী এ হাসপাতালে চিকিৎসা না নিয়ে বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। সাধারণ কর্মচারীরাই বেশিরভাগ এখান থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তবে হাসপাতালের দুরবস্থার কারণে তারাও বাধ্য হয়ে অন্য হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য যাচ্ছেন। এই হাসপাতালে সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিয়েছেন দু-একজন উপসচিব ও যুগ্ম সচিব। কোনো অতিরিক্ত সচিব বা সচিব পদমর্যাদার কেউ এখান থেকে চিকিৎসা নেননি। অথচ সরকারি কর্মচারীদের জন্য এই হাসপাতালটি নির্দিষ্ট করা।

গত ৬ জুন থেকে এখানে করোনা চিকিৎসা শুরু হলেও সব ব্যবস্থা না থাকায় তা সম্ভব হয়নি। বাস্তবিকভাবে ১৩ জুন থেকে এই হাসপাতালে করোনা চিকিৎসা দেওয়ার জন্য ভর্তি শুরু হয়। ১৪ জুন রোগী ছিলেন মাত্র তিনজন। আর প্রথম সপ্তাহে ছয় রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এখানে একসঙ্গে ৬০ রোগীর চিকিৎসা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। গত মাস পর্যন্ত ৩৬ রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন।

এত কম সংখ্যক রোগীর চিকিৎসা দিতে অস্বাভাবিকভাবে চিকিৎসক আক্রান্ত হয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনেও অব্যবস্থাপনা ও নানা বিষয়ে অসঙ্গতি উঠে এসেছে। কমিটি করোনা সংক্রমণ থেকে সুরাক্ষার জন্য আরও পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সঠিকভাবে সুরক্ষা সমাগ্রী ব্যবহারে সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।

এ বিষয়ে সরকারি কর্মচারী হাসপাতালের পরিচালক মাহবুবুর রহমান বলেন, গত মাসে করোনা চিকিৎসা দেওয়ার শুরুতে অনেক বেশি চিকিৎসক আক্রান্ত হয়েছেন। এখন তা অনেক কমে এসেছে। এ ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত সুরাক্ষা সরঞ্জাম ব্যবহারে আরও সাবধানতা অবলম্বন করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। হাসপাতালে সংক্রমণ রোধের জন্য জীবণুনাশক ব্যবস্থায় ত্রুটি ছিল। শুরুতে এটি সঠিকভাবে ব্যবহার করা যায়নি। এটি এখন ঠিক করা হয়েছে। এর ফলে আক্রান্তের হার কমেছে।


পূর্বপশ্চিমবিডি/এসএম

সরকারি কর্মচারী হাসপাতাল,করোনাভাইরাস
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close