• বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২০, ২৮ শ্রাবণ ১৪২৭
  • ||

দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে করোনা থেকে মুক্তি মিলবে: ডা. বিজন

প্রকাশ:  ১১ জুলাই ২০২০, ২০:৫১ | আপডেট : ১১ জুলাই ২০২০, ২৩:০৯
নিজস্ব প্রতিবেদক
গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের বিজ্ঞানী ডা. বিজন কুমার শীল

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের বিজ্ঞানী ডা. বিজন কুমার শীল বলেছেন, বাংলাদেশে করোনা সংক্রমণের পিক-টাইম চলছে। দেশের একটি বিশাল জনগোষ্ঠীর মধ্যে এন্টিবডি তৈরি হয়েছে। সেটা অত্যন্ত আনন্দের খবর। আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে করোনা থেকে আমাদের মুক্তি হবে।

নিজেদের একটি জরিপের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, যে পরিবারের একজন মানুষের ইনফেকশন হয়েছে, তিনি করোনাতে আক্রান্ত হয়েছেন, সে পরিবারের সব সদস্যের ভেতরে ভেতরে এন্টিবডি তৈরি হয়েছে বলে আমাদের এক জরিপে পাওয়া গেছে। করোনার এই মহামারির সময়ে যেটি অত্যন্ত ভালো সংবাদ। আমরা দেখেছি, যেই পরিবারে একজন আক্রান্ত হয়েছেন, সেই পরিবারের অন্য সদস্যের ভেতরে লক্ষণ-উপসর্গ মারাত্মক আকার ধারণ করেনি। মৃদু লক্ষণের ভেতর দিয়ে গিয়েছেন তারা এবং এর ভেতর দিয়েই তাদের শরীরে এন্টিবডি তৈরি হয়েছে। এই চিত্র আমাকে আশান্বিত করেছে। আমাদের দেশে যত মানুষ করোনাতে আক্রান্ত হয়েছেন, তার ১০ গুণ বেশি মানুষের মধ্যে এন্টিবডি ফিরে এসেছে।

এই চিকিৎসক বলেন, দেশে ১৬ কোটি মানুষ, সেই হিসাবে একজন করে সংক্রমিত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসা মানুষের হিসাব করলে সেটা অনেক। যদিও সংখ্যাটা সার্ভে না করে নির্দিষ্ট করে বলা যাবে না। এন্টিবডি টেস্টের পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার এবং এটি খুবই ভালো খবর। ইতোমধ্যে জানতে পেরেছি, এন্টিবডি টেস্ট হয়তো শুরু হবে। যদি সরকার পদক্ষেপ নেয়, কেবল রাজধানী ঢাকাতেও যদি এটা সার্ভে করা হয়, তাহলেও বোঝা যাবে কত মানুষের মধ্যে এন্টিবডি তৈরি হয়েছে। এটা খুবই আনন্দের কথা। আমার ধারণা, ঢাকা শহরের অনেকের ভেতরেই এন্টিবডি রয়েছে। তবে এটা জানা দরকার। তাহলে মানুষ ভয় থেকে মুক্ত হতেন। আর তখন দেশের অর্থনৈতিক চাকাও ঘোরা শুরু করবে। যেসব এলাকায় লকডাউন বা কোয়ারেন্টিন করা হচ্ছে, সেখানে যদি সার্ভে করা যায়, তাহলে কত মানুষের মধ্যে এন্টিবডি গ্রো করেছে সেটাও দেখা যাবে। আমার ধারণা সেটা কম হবে না, তারা আমাদের জন্য আশীর্বাদ।

বিজন কুমার বলেন, বাংলাদেশে এখন করোনাভাইরাসের পিক টাইম চলছে। পিক যত দ্রুত হবে, তত দ্রুত আমরা সেখান থেকে নেমে আসবো এবং তত দ্রুত ইনফেকশন চলে যাবে। সাধারণত কোথাও ব্যাপক এন্টিবডি গ্রো না হওয়া পর্যন্ত সেখানে পিক চলতে থাকে। যতক্ষণ পর্যন্ত সে ভার্জিন হোস্ট পাবে, ততক্ষণ সে ইনফেক্ট করবে। আর যখন এন্টিবডি গ্রো সম্পন্ন একটা জনগোষ্ঠীকে সামনে পাবে, তখন সেটা ধীরে ধীরে স্থিমিত হয়ে আসবে, কমতে থাকবে, এটাই নিয়ম, এটাই রীতি। আবার যদি একবার চলে যায়, তাহলে সেটা ফিরে আসার সম্ভাবনা খুবই কম। অনেক মানুষের মধ্যে এন্টিবডি তৈরি হবে, অনেক মানুষ ইমিউন তৈরি করবে যার কারণে খুব সহজে এটা ইনফেক্ট করতে পারবে না।

তিনি বলেন, ভাইরাস যত দ্রুত ওঠে, তার চেয়েও বেশি দ্রুত নেমে যায়। কারণ যখন সে কোথাও আক্রমণ করে তখন সে একটা ভার্জিন পপুলেশন পায়, যেখানে ভাইরাসের বিপক্ষে কোনও এন্টিবডি ছিল না। কিন্তু, যতই সেটা দীর্ঘস্থায়ী হয়, ততই তার সামনে অসংখ্য এন্টিবডি সৃষ্টি হয়। ইমিউন সিস্টেমবাহী মানুষের সঙ্গে মোকাবিলা করতে হয় তাকে। আর এন্টিবডি তৈরি হওয়া মানুষের সঙ্গে মোকাবিলা করে ভাইরাস এগোতে পারে না। আমাদের দেশেও সেটা হচ্ছে। এভাবেই ভাইরাসকে বিতাড়ন করা হয়। আমি মনে করি, খুব বেশি হলে আর দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে করোনা থেকে আমাদের মুক্তি হবে। তবে আসন্ন ঈদে এটি আরও সংক্রমিত হতে পারে। তাপমাত্রাসহ অন্যান্য পরিবেশগত কারণে দেশের আবহাওয়া করোনারভাইরাসের উপযোগী নয়।

আবহাওয়ার সঙ্গে করোনাভাইরাসের সম্পর্ক রয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, অবশ্যই রয়েছে। তাপমাত্রার সঙ্গে মানুষ, গাছপালা, পরিবেশ সবকিছুর সম্পর্ক রয়েছে। এটা থাকবেই। বাতাসে যদি হিউমিডিটি বেশি হয় তাহলে সে বেশিক্ষণ থাকতে পারে না, দ্রুত মারা যায়। অপরদিকে, ঠান্ডা তাপমাত্রায় ভাইরাস দীর্ঘসময় থাকতে পারে যেটা আমাদের জন্য অবশ্যই প্লাস পয়েন্ট।

পূর্বপশ্চিমবিডি/এসএস

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র,ডা. বিজন কুমার শীল,করােনাভাইরাস
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close