• বুধবার, ০৫ আগস্ট ২০২০, ২১ শ্রাবণ ১৪২৭
  • ||

অনৈতিক কাজে বাসায় নিয়ে খুন, গ্রীনরোডে সিসিটিভিতে ধরা খুনি

প্রকাশ:  ১০ জুলাই ২০২০, ২১:৪৯ | আপডেট : ১১ জুলাই ২০২০, ০০:৪২
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাস্তার ওপর পড়ে আছে এক নারীর ক্ষতবিক্ষত মরদেহ। কিন্তু চেনেন না এলাকার কেউ। রাজধানীর গ্রীনরোডে শুক্রবার (১০ জুলাই) ভোরে ক্ষত-বিক্ষত এক নারীর মরদেহ দেখে আঁতকে উঠেন পথচারীরা। পুলিশ এসে সংগ্রহ করে আশপাশের এলাকার ক্লোজসার্কিট ক্যামেরা- সিসিটিভির ভিডিও ফুটেজ। একটি দোকানের সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, পাশের ভবনের নিরাপত্তারক্ষী লাশের গলায় দড়ি বেঁধে টেনে এনে ফেলে দিয়ে যাচ্ছে।

এই ছিল ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কাছে মার্ডারের ক্লু। তবে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ বলছে, মরদেহ উদ্ধারের মাত্র ৪ ঘণ্টার মধ্যেই তাদের হাতে ধরা পড়েছে ঘাতক। ডিবি পুলিশের কাছে খুনের বর্ণনাও দিয়েছে সে।

গ্রেপ্তার হওয়া ওই খুনির নাম আনসার আলী। খুন হওয়া নারীর নাম মোমেনা খাতুন। পুলিশ বলছে, অনৈতিক কাজের ওই নারীকে নিয়ে আসে খুনি। কিন্তু একপর্যায়ে নারীটির সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডা হলে সে গলা টিপে হত্যা করে।

শুক্রবার ভোররাতে রাজধানীর পান্থপথ সিগন্যাল সংলগ্ন গ্রীনরোডে ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটির গলিতে মোমেনার ক্ষত-বিক্ষত লাশ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় পর তদন্তে নেমে মাত্র ৪ ঘণ্টার ব্যবধানে খুনিকে ধরে ফেলে ডিবি।

ডিবি সূত্র জানায়, ভোর ৪টার দিকে ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটির গলিতে মোমেনার লাশ পাওয়া যায়। এ ঘটনার তদন্তে নেমে সকাল ৮টার দিকে খুনি আনসারকে গ্রেপ্তার করা হয়। সে খুনের বর্ণনা দিয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে আনসার বলেছে, সে ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটির গলি সড়কের একটি বাড়ির দারোয়ান। ওই বাড়ির পার্কিংয়ের পাশে তার থাকার একটি রুম ও টয়লেট রয়েছে।

পুলিশ জানায়, আনসার আলী দাবি করেছেন বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে তিনি বাসার সামনের রাস্তায় ছিলেন। তখন এই নারী রাস্তায় এদিক-ওদিক ঘোরাঘুরি করছিলেন। এক সময় তিনি তাকে শারীরিক সম্পর্কের প্রস্তাব দিয়ে বাসার ভেতরে নিয়ে যান। পরে টাকা নিয়ে ঝগড়া বাঁধে তাদের মধ্যে। বনিবনা না হওয়ায় নারীটি চিৎকার করার চেষ্টা করেন। তখন বাসার লোকজন বিষয়টি টের পেয়ে যাবে এই ভয়ে তিনি তাকে গলাটিপে মেরে ফেলেন। হত্যার পর নারীর লাশটি টয়লেটেই ফেলে রাখেন আনসার আলী। এরপর রাত দুটার দিকে টেনে হিঁচড়ে রাস্তায় ফেলে আসেন।

ওই ফেলে আসার চিত্র ধরা পড়ে সিসিটিভিতে। আর এতেই ধরা পড়ে খুনি আনসার। এছাড়া সব রক্তের দাগ পরিষ্কার করলেও কিছুটা থেকে যায়। এটিও তার প্রতি পুলিশের সন্দেহ বাড়িয়ে তোলে।

তদন্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আটক আনসার আলীর বক্তব্যই সঠিক বলে তারা ধরে নিচ্ছেন না। ওই নারীর সঙ্গে তার শারিরীক সম্পর্ক হয়েছিলো কিনা সেটিও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে। এর মধ্যে নারীটির পরিচয় মিললে ঘটনা সম্পর্কে তারা আরো বিস্তারিত জানতে পারবেন বলে মনে করছেন।

রহস্য তৈরি হয়েছে হত্যার কারণ নিয়ে। একইসঙ্গে শেরপুরের আমেনা বেগম কেনো গ্রিনরোডে এলো তা নিয়ে রয়েছে ধোঁয়াশা। তিনি গ্রিনরোডের খান মঞ্জিলের ১৫২/১৩ বাসায় কেনো এসেছিলেন, কেনোই বা তাকে হত্যা করা হলো এ নিয়ে কৌতুহল সৃষ্টি হয়েছে এলাকায়।

ডিবি রমনা জোনাল টিমের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) মিশু বিশ্বাসবলেন, প্রথমে ওই নারীর পরিচয় পাওয়া যায়নি বলে অজ্ঞাত পরিচয় সূত্র ধরেই তদন্ত এগোতে থাকে। পরে ফিঙ্গার প্রিন্টের মাধ্যমে তার পরিচয় শনাক্ত করা হয়। চল্লিষোর্ধ্ব ওই নারীর নাম মোমেনা খাতুন। তার গ্রামের বাড়ি শেরপুর বলে আমরা জানতে পেরেছি।

তিনি জানান, আনসারের বক্তব্যে ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা বেরিয়ে এসেছে। তাকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে বিস্তারিত জানা যাবে। মোমেনার বিস্তারিত জানার চেষ্টা চলছে।

ময়নাতদন্তের জন্য নিহতের লাশ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (ঢামেক) মর্গে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় কলবাগান থানায় মামলা একটি হত্যা মামলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পরিতোষ চন্দ্র।

পূর্বপশ্চিমবিডি/এসএস

ঢাকা,রাজধানী,পুলিশ
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close