• বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২০, ২৮ শ্রাবণ ১৪২৭
  • ||

মিঠুকে দুদক ছাড়পত্র দেয় ঘনিষ্ঠ আত্মীয় এক কর্মকর্তা

প্রকাশ:  ০৮ জুলাই ২০২০, ১৫:৫৪ | আপডেট : ০৮ জুলাই ২০২০, ১৫:৫৬
নিজস্ব প্রতিবেদক

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সঙ্গে মোতাজ্জেরুল ইসলাম মিঠুর ইঁদুর দৌঁড় সেই ২০১১ সাল থেকে। মিঠুর বিরুদ্ধে বারবার অভিযোগপত্র গঠন করা হলেও জাল ছিড়ে কিভাবে যেন মুক্ত স্বাধীন হয়ে যায় মিঠু। মিঠুর এই খুঁটির জোর কোথায়? স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কিংবা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে বশে এনে কাজ বাগিয়ে নেওয়া এক কথা, কিন্তু দুদক থেকে ছাড়পত্র পায় কিভাবে? সেক্ষেত্রে মানুষ দুদকের মতো প্রতিষ্ঠানের দিকে আঙ্গুলও তুলছে।

দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ দায়িত্ব পাওয়ার পর দুদকের বেশ কিছু দৃশ্যমান কর্মকাণ্ড প্রশংসিত হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশনে এমন আন্তরিক আরো অনেকেই আছেন। তবে দুর্নীতি দমন কমিশনে এখনো কিছু দুর্বৃত্ত রয়ে গেছে। যাদের কারণে প্রতিষ্ঠানটি সমালোচনার মুখেও পড়ছে বারবার। এর মধ্যে অন্যতম দুদক পরিচালক খন্দকার এনামুল বাছির। সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে কমিশন থেকে অর্পিত দায়িত্ব পালনকালে অসৎ উদ্দেশে ক্ষমতার অপব্যবহার করে ডিআইজি মো. মিজানুর রহমানকে অবৈধ সুবিধা দেয়ার সুযোগ করে দেন। যা ফাঁস হয়ে গেলে বাছিরও ফেঁসে যান। দুদক তাকে ছাড় দেয়নি। বাছিরের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্রও গঠন করা হয়েছে।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, চেয়ারম্যানসহ কমিশনের অনেকের আন্তরিকতা সত্বেও দুদক সেই উচ্চতায় নিজেদের নিয়ে যেতে পারছে না। কারণ নিচের দিক থেকে কিছু অফিসার লাগাম টেনে ধরছেন।

সাম্প্রতিক সময় পাওয়া গেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও মন্ত্রণালয়ের আলোচিত মাফিয়া ডন মোতাজ্জেরুল মিঠুর এক নিকটাত্মীয় এই সংস্থার পরিচালক পদে রয়েছেন। যার ফলে মিঠু বারবার দুদকের ‘সাদা’ সার্টিফিকেট পাচ্ছে। এই আত্মীয়র যোগসাজশেই মিঠুর দুর্নীতির ফাইল বারবার ধামাচাপা পড়ে যায়। দুদকের বারবার পাঠানো চিঠিও তাই তোয়াক্কা করতে হয় না মিঠুর। আর দুর্নীতি দমন কমিশন থেকে ছাড়পত্র পেয়ে মিঠু আরও দুর্নীতিতে মাতে। যার ফলে স্বাস্থ্যখাতের অবস্থা বেহাল থেকে বেহালতর হয়। শুধুমাত্র মিঠুকে বাঁচানোই নয়, মিঠুর প্রতিদ্বন্দ্বিদের মামলায় জড়িয়ে তাদের ফাঁসিয়ে দেওয়াও এই দুদক কর্মকর্তার কাজ। মিঠুর সঙ্গে মিলে তাদেরকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বা অধিদপ্তরের কাজ থেকে নিষিদ্ধ করা হয়। এই কর্মকর্তা এমন পরিস্থিতি তৈরি করেছেন, যেন মিঠুই স্বাস্থ্যখাতে শুধু ব্যবসা করতে পারেন।

শুরু থেকে জাল-জালিয়াতি, নামে-বেনামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সিন্ডিকেট গড়ে তুলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নিয়ন্ত্রণে নিয়েছেন মোতাজ্জেরুল ইসলাম মিঠু। তিনি এতটাই প্রভাবশালী হয়ে উঠেছেন যে, তাকে বলা হয়ে থাকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মাফিয়া ডন। স্বাস্থ্য খাতে তার কথায়ই কেনাকাটা, তার কথায়ই প্রাইজ লিস্ট। কাজ বণ্টনও তার নির্দেশেই। কোনো কর্মকর্তা তার নির্দেশমতো কাজ না করলে তিনি আর সেই পদে বহাল থাকতে পারেন না।

দুর্নীতি দমন কমিশনের সূত্র জানায়, এবার মিঠুকে শক্ত হাতে ধরা হবে। দুর্নীতি দমন কমিশনে মিঠুর যে আত্মীয় তাকেও জবাবদিহিতার আওতায় আনা হবে বলে ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো জানিয়েছে।

সূত্রমতে, গত অর্ধযুগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তার বিরুদ্ধে কয়েক দফায় তদন্তের উদ্যোগ নিলেও কোনোটিই আলোর মুখ দেখেনি। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, কোনো নোটিস হলেই হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন মিঠু। পরে সেটি নথিভুক্ত করার মাধ্যমে ‘অভিযোগ নিষ্পত্তি’ করিয়ে নেন তিনি। মিঠুর বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত একটি ‘নন-সাবমিশন’ মামলা করেছে দুদক। ২০১৬ সালের ১০ মে বনানী থানায় মামলাটি করেন দুদকের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ সিরাজুল হক। গত দুই বছরে স্বাস্থ্য খাত নিয়ে দুদক অনেক অনুসন্ধান করলেও মিঠু রয়েছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। এমনকি দুদকের সুপারিশে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর যে ১৪ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ‘কালো তালিকাভুক্ত’ করেছে সেখানেও মিঠুর ২০টি প্রতিষ্ঠানের একটিরও প্রতিষ্ঠানেরও নাম নেই।

এরই মধ্যে ১ জুলাই মিঠুকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ‘অতীব জরুরি তলবি নোটিস’ পাঠিয়েছে দুদক। দুদকের পরিচালক মীর মো. জয়নুল আবেদীন শিবলী স্বাক্ষরিত ওই নোটিসে তাকে ৯ জুলাই কমিশনে হাজির থাকতে বলা হয়েছে। যদিও সর্বশেষ পাওয়া তথ্যমতে, মিঠু দেশের বাইরে অবস্থান করছে। আর মিঠু যে পন্থা বারবার অবলম্বন করেন, তিনি নোটিস কপি পাননি বলে জানান। এবারও তেমন কিছু হচ্ছে কিনা সেটা সময়ই বলে দিবে। আর মিঠু উপস্থিত না হলে তার যে কোম্পানিগুলো সেগুলোর কার্যক্রম কি স্থগিত করা হবে? মিঠুর আয়কৃত ব্যংক ব্যালেন্স বা অবৈধ সম্পত্তিরও কোন ব্যবস্থা হবে কিনা তার জন্য অপেক্ষা করতে হবে আরও কিছুদিন।

পূর্বপশ্চিমবিডি/এসএস

মোতাজ্জেরুল ইসলাম মিঠু,দুর্নীতি দমন কমিশন,দুদক
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close