• বুধবার, ০৫ আগস্ট ২০২০, ২১ শ্রাবণ ১৪২৭
  • ||

হাসপাতাল থেকে ফেরত পাঠানো রোগীদের মৃত্যুর বিষয়ে তদন্তের নির্দেশ হাইকোর্টের

প্রকাশ:  ০৬ জুলাই ২০২০, ২২:৩৯
নিজস্ব প্রতিবেদক

হাসপাতাল-ক্লিনিকে ভর্তি না করায় বিনা চিকিৎসায় রোগীদের মৃত্যুর ঘটনা তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। রোগী ফেরত পাঠানোর কারণে মৃত্যুর ঘটনা সংক্রান্ত জাতীয় পত্রিকার সংবাদগুলো পর্যালোচনায় এনে ওই তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করতেও নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। অভিযোগ তদন্ত করে ২১ জুলাইয়ের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করতে স্বাস্থ্য সচিব ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের প্রতি এ নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

সোমবার (৬ জুলাই) করোনাকালে হাসপাতালে ভর্তি ও চিকিৎসায় অবহেলায় রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় ব্যবস্থা গ্রহণ, আইসিইউ বণ্টন, বেসরকারি হাসপাতাল অধিগ্রহণ, চিকিৎসা ও অক্সিজেন সরবরাহ নিয়ে দাখিল করা পৃথক ৬টি রিট আবেদনের ওপর শুনানি শেষে বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিমের ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ মোট পাঁচ দফা নির্দেশনা দিয়েছেন।

নির্দেশনাগুলো হচ্ছে

১. বিনা চিকিৎসায় রোগী ফেরতের ঘটনায় দায়েরে করা রিটের অভিযোগগুলো তদন্ত প্রতিবেদন ২১ জুলাইয়ে মধ্য হাইকোর্টে দাখিল করতে হবে।

২. ক্যানসারসহ জটিল রোগে আক্রান্ত রোগীদের করোনার লক্ষণ থাকলে ৩৬/৪৮ ঘণ্টার মধ্যে টেস্ট করে চিকিৎসা অব্যাহত রাখা।

৩. ১০ কার্যদিবসের মধ্যে অক্সিজেনের মূল্য নির্ধারণ করা।

৪. বিনা চিকিৎসার জন্য অভিযোগ দায়ের করতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর অনলাইনে অভিযোগ গ্রহণের পদ্ধতি চালু করা।

৫. বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউতে অস্বাভাবিক বিল এলে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অভিযোগ দায়ের করার নির্দেশ।

আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার অনিক আর হক, অ্যাডভোকেট ইয়াদিয়া জামান, ব্যারিস্টার মাহফুজুর রহমান মিলন, অ্যাডভোকেট জামিউল হক ফয়সাল, ব্যারিস্টার এহসানুর রহমান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

পরে আইনজীবী অ্যাডভোকেট জামিউল হক ফয়সাল বলেন, ‘আমরা হাসপাতালে আগত সাধারণ রোগীদের চিকিৎসা না দিয়ে ফেরত পাঠানো সংক্রান্ত বিভিন্ন অভিযোগ ও তথ্যসংবলিত পত্রিকার প্রতিবেদন আজ আদালতের কাছে দাখিল করেছিলাম। আদালত এসব অভিযোগ তদন্তসহ পাঁচ দফা নির্দেশ দিয়েছেন।’

এর আগে পৃথক ৫টি রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি করে গত ১৫ জুন হাইকোর্ট মোট ১১ দফা নির্দেশনা ও অভিমত দেন।

হাসপাতালে গুরুতর অসুস্থ রোগীকে চিকিৎসাসেবা দিতে অনীহা দেখালে এবং এতে ওই রোগীর মৃত্যু ঘটলে ‘তা অবহেলাজনিত মৃত্যু’, অর্থাৎ ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে বলে দেয়া অভিমতসহ ওই ১১ দফা নির্দেশনা স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে আবেদন জানায়। গত ১৬ জুন রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন শুনে হাইকোর্টের দেয়া ৭টি নির্দেশনা স্থগিত করেন আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতির আদালত। এছাড়া স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনাসমূহ যথাযথভাবে পালিত হচ্ছে কী না তা জানাতে দেয়া নির্দেশনাসহ ৩টি নির্দেশনা বহাল রাখা হয়। আর একটি নির্দেশনা অকার্যকর হয়ে যাওয়ায় সেটা বাদ দেন।

পরে হাইকোর্টের আদেশ অনুযায়ী ৩০ জুনের মধ্যে একটি প্রতিবেদন দাখিল করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, চিকিৎসা না দিয়ে সাধারণ রোগীদের ফেরত পাঠানোর কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ আইসিইউয়ে চিকিৎসাধীন কোভিড-১৯ রোগীর কাছ থেকে মাত্রাতিরিক্ত বা অযৌক্তিক ফি আদায় না করতে পারে সে বিষয়ে মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। অক্সিজেন সিলিন্ডারের খুচরা মূল্য এবং রি-ফিলিংয়ের মূল্য নির্ধারণ করার ব্যবস্থা নিতে কেন্দ্রীয় ঔষধাগারের পরিচালককে (ভান্ডার ও সরবরাহ) নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এ অবস্থায় রোগী ভর্তি না করায় এবং অতিরিক্ত বিল নেয়ার অভিযোগে ঢাকা ও চট্টগ্রামের চারটি বেসরকারি হাসপাতালের পরিচালকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হাইকোর্টের উপরোক্ত বেঞ্চে গত রবিবার একটি সম্পূরক রিট আবেদন করা হয়।

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী থানার মৃত হাজী মোহাম্মদ হোসাইনের ছেলে হেলাল উদ্দিনের পক্ষে অ্যাডভোকেট ইয়াদিয়া জামান এ আবেদন করেন। রিটকারীরর বাবা হাজী মোহাম্মদ হোসেন চিকিৎসা না পেয়ে মারা যান বলে অভিযোগ করা হয় রিটে। ওই আবেদনে হাসপাতালে ভর্তি না করার কারণে যেসব রোগী মারা যাচ্ছেন তাদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেয়া, করোনা সংক্রান্ত রোগী ভর্তি না করার বিষয়ে অভিযোগ জানানোর জন্য পুলিশের একটি পৃথক হটলাইন চালুর বিষয়ে নির্দেশনা চাওয়া হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পাঠানো প্রতিবেদন ও নতুন এ সম্পূরক রিট আবেদনের ওপর একসঙ্গে শুনানি শেষে আজ এ আদেশ দেয় হাইকোর্ট।

পূর্বপশ্চিমবিডি/এসএস

হাইকোর্ট,করোনাভাইরাস
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close