• বুধবার, ২৫ নভেম্বর ২০২০, ১০ অগ্রহায়ণ ১৪২৭
  • ||

গণমাধ্যমে কথা বলায় বিদ্যুৎ কর্মকর্তা বরখাস্ত

প্রকাশ:  ০৪ জুলাই ২০২০, ২৩:০৩
নিজস্ব প্রতিবেদক

দায়িত্বে অবহেলা ও কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া গণমাধ্যমে কথা বলায় বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। তিনি ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডে (ডিপিডিসি) কর্মরত ছিলেন।

বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তার নাম মো. হেলাল উদ্দিন। তিনি ডিপিডিসির নির্বাহী প্রকৌশলী, এনওসিএস হিসেবে আদাবর শাখায় দায়িত্বরত ছিলেন।

শুক্রবার (৩ জুলাই) ডিপিডিসির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (এইচ আর) নুর কামরুন নাহার স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ কথা জানানো হয়েছে।

আদেশে বলা হয়েছে, মো. হেলাল উদ্দিন, নির্বাহী প্রকৌশলী, এনওসিএস- আদাবর, ডিপিডিসি কর্তৃক দায়িত্বে অবহেলা ও গাফিলতির কারণে বিদ্যুৎ বিল প্রস্তুত প্রক্রিয়ায় গ্রাহককে অযৌক্তিক বিল ইস্যুসহ প্রতিষ্ঠানের সম্মানিত গ্রাহকগণ ভোগান্তির শিকার হওয়া, প্রাতিষ্ঠানিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হওয়া এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ব্যতিরেকে গণমাধ্যমে বক্তব্য প্রদান করায় বিধি মোতাবেক চাকরি হতে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হলো। তাকে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসেবে সিস্টেম কন্ট্রোল অ্যান্ড স্ক্যাডা, ডিপিডিসি দপ্তরে সংযুক্ত করা হলো।

আদেশে আরও বলা হয়, সাময়িকভাবে বরখাস্তকালীন সময়ে তিনি বিধি মোতাবেক খোরপোষ ভাতা প্রাপ্ত হবেন। তার খোরপোষ ভাতা তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সিস্টেম কন্ট্রোল অ্যান্ড স্ক্যাডা, ডিপিডিসি দপ্তর হতে পরিশোধ করা হবে। তিনি নিয়মিত দপ্তরে উপস্থিত থাকবেন এবং দপ্তর প্রধানের অনুমতি ব্যতিরেকে কোথাও যাবেন না।

এদিন ডিপিডিসির আরও তিন প্রকৌশলীকে বেঁধে দেয়া সাত দিনের মধ্যে ভুতুড়ে বিল সমন্বয় করতে ব্যর্থ হওয়ায় সাময়িক বরখাস্ত করার সুপারিশ করেছে বিদ্যুৎ বিভাগ গঠিত টাস্কফোর্স। তারা হলেন- উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. রায়হানুল আলম, সহকারী প্রকৌশলী মুজিবুল রহমান ভূঁইয়া এবং কম্পিউটার ডেটা এন্ট্রি কো-অর্ডিনেটর জেসমিন আহমেদ।

ডিপিডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক বিকাশ দেওয়ান বলেন, তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে আমরা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছি।

তদন্ত শেষ হলে চূড়ান্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।

ডিপিডিসি-র কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অতিরিক্ত বিল নিয়ে অধিকাংশ গ্রাহকদের অভিযোগ থাকায়, বিল তৈরির বিষয়ে ডিপিডিসি-র ৩৬ বিভাগীয় প্রকৌশলীকেই তাদের ভূমিকা উল্লেখ করে ব্যাখ্যা চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া, এদিন দেশের চারটি বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থার প্রায় ৩০০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করেছে টাস্কফোর্স।

প্রসঙ্গত, দেশে ছয়টি বিতরণ সংস্থা রয়েছে। এদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে প্রকৃত বিলের চেয়ে কোথাও কোথাও তিন থেকে ১০ গুন বেশি বিল করার অভিযোগ উঠেছে। এরপর গত ২৫শে জুন বিদ্যুৎ বিভাগ একজন অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে টাস্কফোর্স গঠিত হয়।

পূর্বপশ্চিমবিডি/এসএস

গণমাধ্যম,সাংবাদিক,ডিপিডিসি
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
cdbl
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close