• শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২০, ৩১ শ্রাবণ ১৪২৭
  • ||

মুগদা হাসপাতালের সেই দুই আনসারকে প্রত্যাহার

প্রকাশ:  ০৪ জুলাই ২০২০, ১৫:৫৭
নিজস্ব প্রতিবেদক

মুগদা জেনারেল হাসপাতালের করোনাভাইরাস পরীক্ষা করাতে আসা রোগীর ছেলেকে মারধর ও দুইজন ফটোসাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িত দুই আনসার সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

শনিবার (৪ জুলাই) আনসারের উপপরিচালক মেহেনাজ তাবাস্সুম রেবিন বলেন, ওই ঘটনায় দুই আনসার সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত করে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে মুগদা হাসপাতালের ওই ঘটনায় একজন ফটো সাংবাদিক মুগদা থানায় একটি জিডি করেছেন।

মুগদা থানার ওসি প্রলয় কুমার সাহা বলেন, ওই ঘটনায় একজন ফটোসাংবাদিক জিডি করেছেন। আমরা তদন্ত কাজ শুরু করেছি। ওই ঘটনার ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করার চেষ্টা চলছে।

প্রসঙ্গত, শুক্রবার সকালে মুগদা মডেল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শাওন হোসেন তার মাকে নিয়ে মুগদা জেনারেল হাসপাতালে কোভিড-১৯ পরীক্ষার জন্য আসেন। তার মা ক্যান্সারের রোগী। কেমোথেরাপি দেওয়ার জন্য করোনাভাইরাস আক্রান্ত কি না তার প্রতিবেদন লাগে। সেজন্যই মাকে নিয়ে ভোর ৫টায় এসে লাইনে দাঁড়ান শাওন, তাদের সিরিয়াল হয় ৩৬ নম্বরে। সেখানে দুটো লাইন হয় একটি বিনামূল্যে বুথে নমুনা দেওয়া, অপরটি ২০০ টাকা দিয়ে হাসপাতালে পরীক্ষা করানোর। হাসপাতালে পরীক্ষা করানোর জন্যই লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন শাওনের মা।

নিয়ম অনুযায়ী ৪০ জনের পরীক্ষা করার কথা, কিন্তু শাওনের মায়ের সিরিয়াল ছিল ৩৬ নম্বর। ৩৩ নম্বর সিরিয়াল চলে যাওয়ার পর হঠাৎ করে আনসার সদস্যরা এসে বলে, আজ আর হবে না। এরপরে বিষয়টি জানতে চাইলে তারা বলে, ৪০ জন হয়ে গেছে। তাই আর হবে না।

তখন শাওন এ ঘটনার প্রতিবাদ করলে, আনসার সদস্যরা তাকে কলার ধরে টেনেহিঁচড়ে মারধর শুরু করে। এই ঘটনা দেখে ছবি তুলতে এগিয়ে যায় দৈনিক দেশ রূপান্তরের ফটো সাংবাদিক রুবেল রশীদ এবং বাংলাদেশ প্রতিদিনের আলোকচিত্রী জয়ীতা রায়। এ সময় আনসার সদস্যরা তাদের উপরও চড়াও হয়। এতে রুবেলের ক্যামেরায় লেগে লেন্সের ফিল্টার ভেঙ্গে যায়।

এ সময় আনসার সদস্যরা সাংবাদিকদের গালাগাল করতে থাকেন এবং বেঁধে রাখার হুমকি দেন। একপর্যায়ে তারা বলেন- এখানে সাংবাদিকদের রংবাজি চলবে না, আমাদের রংবাজি চলবে।

পূর্বপশ্চিমবিডি/এসএস

করোনাভাইরাস,সাংবাদিক
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close