• শনিবার, ১১ জুলাই ২০২০, ২৭ আষাঢ় ১৪২৭
  • ||
শিরোনাম

ইউনাইটেড হাসপাতালের গাফিলতির প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত কমিটি

প্রকাশ:  ০৭ জুন ২০২০, ০২:৩০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকার গুলশানের ইউনাইটেড হাসপাতালে এসি বিস্ফোরণে লাগা আগুনে চিকিৎসাধীন রোগীসহ ৫ জনের প্রাণহানির ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ‘অবহেলার’ প্রমাণ পেয়েছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদফতরের তদন্ত কমিটি। এছাড়াও হাসপাতালটির করোনা ইউনিট ও এর আশপাশে অগ্নিনির্বাপণের জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকার বিষয়টিও উঠে এসেছে তদন্ত প্রতিবেদনে। আগামী ২-১ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেবে ফায়ার সার্ভিস।

শনিবার (৬ জুন) ফায়ার সার্ভিসের তদন্ত কমিটি সূত্র জানায়, নিহত ৫ জনের পরিবারের সদস্য, প্রত্যক্ষদর্শী, ইউনাইটেড হাসপাতালের আইসোলেশন ইউনিটের কর্তব্যরত চিকিৎসক-নার্স, সিকিউরিটি গার্ড ও বিদ্যুৎ বিভাগের মোট ২০ জনের জবানবন্দি নেয়া হয়েছে।

২৭ মে হাসপাতালটির করোনা ইউনিটে অগ্নিকাণ্ডের ওই ঘটনায় মারা যান চিকিৎসাধীন ৫ রোগী। ওই ঘটনায় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্ত কমিটির এক সদস্য শনিবার বলেছেন, ইতোমধ্যে তদন্ত শেষে একটি প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। আজ (রোববার) ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালকের কাছে ওই প্রতিবেদন জমা দেয়া হবে। প্রতিবেদনে ৫ জনের প্রাণহানির জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলাকেই দায়ী করা হচ্ছে।

আগুনের ঘটনায় গঠিত ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপপরিচালক (ঢাকা বিভাগ) দেবাশীষ বর্ধন বলেছেন, ‘অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও প্রতিকারের বেশকিছু সুপারিশসহ তদন্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছি। আজ (৭ মে) প্রতিবেদন জমা দেয়া হবে বলে তিনি জানান।

তিনি বলেন, প্রতিবেদন তৈরিতে কমিটির সদস্যরা রোগীর স্বজন, হাসপাতালে দায়িত্বরত কর্মকর্তা, কর্মচারী ও প্রত্যক্ষদর্শীসহ ২০ জনের সাক্ষ্য নেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনাস্থল থেকে সরেজমিন পাওয়া বিভিন্ন আলামত ও তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে। প্রতিবেদন তৈরির আগে গুলশান বিভাগ পুলিশের গঠন করা তদন্ত কমিটির সঙ্গেও এ বিষয়ে সমন্বয় করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

এদিকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন তৈরির কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে বলে জানিয়েছেন এ সংক্রান্ত কমিটির প্রধান গুলশান বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) আবদুল আহাদ (পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত)।

তিনি বলেছেন, চলতি সপ্তাহে তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়া হবে। তদন্তের প্রয়োজনে রোগীর স্বজন ও হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট শাখার কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ এখন পর্যন্ত ২৫ জনের জবানবন্দি নেয়া হয়েছে বলে তিনি জানান। প্রতিবেদন তৈরির কাজ চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, ওই ঘটনায় নিহত ভারনন অ্যান্থনি পলের জামাই রোনাল্ড মিকি গোমেজ বাদী হয়ে বুধবার রাতে অবহেলাজনিত হত্যার অভিযোগে একটি মামলা করেছেন। সেটিও পুলিশ তদন্ত করছে। ২৭ মে রাতে গুলশানের অভিজাত ইউনাইটেড হাসপাতালের করোনা ইউনিটে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা তদন্তে ডিএমপির গুলশান বিভাগের উপকমিশনার (এডিসি) আবদুল আহাদের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি কমিটি করা হয়। কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন গুলশান বিভাগের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) রফিকুল ইসলাম ও গুলশান থানার ওসি কামরুজ্জামান।

অন্যদিকে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের (ঢাকা বিভাগ) উপপরিচালক দেবাশীষ বর্ধনকে প্রধান করে চার সদস্যদের তদন্ত কমিটি করা হয়। কমিটির অপর সদস্যরা হলেন- ফায়ার সার্ভিস ট্রেনিং স্কুলের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ বাবুল চক্রবর্তী, ঢাকা জোন-৫-এর উপসহকারী পরিচালক নিয়াজ আহমেদ ও সিনিয়র স্টেশন অফিসার (বারিধারা) মোহাম্মদ আবুল কালাম।

এদিকে, অগ্নিকাণ্ডে চিকিৎসাধীন রোগীসহ ৫ জনের মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার রেদোয়ান আহমেদ রানজীব ও ব্যারিস্টার হামিদুল মিসবাহ রিট করেছেন হাইকোর্টে।

পূর্বপশ্চিমবিডি/জিএম

গুলশান,ইউনাইটেড হাসপাতাল,এসি বিস্ফোরণ,করোনা রোগীর মৃত্যু,তদন্ত কমিটি
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close