• রোববার, ০৫ জুলাই ২০২০, ২১ আষাঢ় ১৪২৭
  • ||

বাড়তি নেয়া লক্ষাধিক টাকা ফেরত দিলো আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতাল

প্রকাশ:  ০৩ জুন ২০২০, ২১:১৬
নিজস্ব প্রতিবেদক

করোনাভাইরাস আক্রান্ত এক রোগীর চিকিৎসার বিল হিসেবে দেড় লাখ টাকা আদায় করার একদিন পর ৩৪ হাজার টাকা রেখে বাকিটা ফেরত দিয়েছে রাজধানীর আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। সাইফুর রহমান নামের ওই রোগীর ছোট ভাই আরিফুর রহমান জানিয়েছেন, বুধবার দুপুরে ১ লাখ ১৫ হাজার ৯৯৫ টাকা ফেরত পেয়েছেন তারা। বাকি টাকা বিভিন্ন বিল দেখিয়ে কেটে রেখেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। আপনারা পাশে ছিলেন বলে অন্তত এই টাকাটা পেলাম।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ২৩ মে আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা ৩৬ বছর বয়সী সাইফুর। সেরে ওঠার পর ২ জুন ছাড়পত্র দেওয়ার সময় ১১ দিনে চিকিৎসার ব্যয়ে ১ লাখ ৭০ হাজার ৮৭৫ টাকার বিল ধরিয়ে দেওয়া হয় তাকে। বিল দেখে তার মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ার মতো অবস্থা। অথচ আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতালকে সরকার ‘কোভিড-১৯ ডেডিকেটেড’ হাসপাতাল ঘোষণা করেছে এবং চিকিৎসার খরচ সরকার বহন করবে জেনেই সেখানে ভর্তি হয়েছিলেন একটি বেসরকারি কোম্পানির কর্মী সাইফুর।

সুস্থ হওয়ার পর মঙ্গলবার বিকালে চিকিৎসকের ছাড়পত্র মিললেও বিলের জন্য হাসপাতাল সাইফুরকে ছাড়ছিল না। পরে ধারদেনা করে বহু কষ্টে দেড় লাখ টাকা জোগাড় করেন সাইফুরের ছোট ভাই আরিফুর। তাই দিয়ে মঙ্গলবার মধ্যরাতে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পান তারা।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত সচিব হাবিবুর রহমান খান মঙ্গলবার রাতে বলেন, আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতাল ‘কোভিড-১৯ ডেডিকেটেড’ হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছে। সুতরাং সেখানে ভর্তি কোভিড-১৯ রোগীর খরচ সরকারই বহন করবে। হাসপাতালে কর্তৃপক্ষ রোগীর কাছ থেকে টাকা নিতে পারে না। আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতাল এখন সরকারের সঙ্গে করা চুক্তি থেকে বের হয়ে যেতে চাইছে। তারা চাইলে মিনিস্ট্রিও হয়তো ছেড়ে দেবে। কিন্তু ৩১ মে পর্যন্ত কোনো বিল নেওয়া চলবে না। বিল ধরলে ১ জুন থেকে বিল নেবে। এই কয়দিন তারা সরকারি হিসাবে চলেছে।

আনোয়ার খান মর্ডান হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক এহতেশামুল হক রাতে বলেন, মে মাসেই সরকারের সঙ্গে তাদের চুক্তি শেষ হয়ে গেছে। আমাদের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় চলবে হাসপাতাল। এ কারণে রোগীকে নিজেই চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে হবে। সাইফুরের ক্ষেত্রে কীভাবে ছাড় দেওয়া যায়, সে ব্যবস্থা তারা করবেন। সরকারের সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, করোনা আক্রান্ত রোগীর ৩১ মে পর্যন্ত চিকিৎসার কোনো টাকা নেব না। যদি কারও নেওয়া হয়ে থাকে, তা ফেরত দেওয়া হবে।

টাকা ফেরত দেওয়া হবে জানতে পেরে সাইফুরের ভাই আরিফুর বুধবার দুপুরে হাসপাতালে যান এবং ১ লাখ ১৫ হাজার ৯৯৫ টাকা ফেরত পান।

রোগীর পরিবারকে টাকা ফেরত দিয়ে আনোয়ার খান মডার্ন কর্তৃপক্ষ বলে, ‘সবাইকে জানাবেন, আমাদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল। বিলটি এমন হওয়ার কথা ছিল না।’ এছাড়া পরিবারটিকে ‘সরি’ বলে দুই দিনের বিল রেখেছে তারা।

সাইফুর মঙ্গলবার রাতে বলেছিলেন, ভর্তি হওয়ার পর মঙ্গলবার পর্যন্ত তার রক্তের দুটি পরীক্ষা এবং তিনটি এক্সরে হয়েছে মডার্ন হাসপাতালে। আর হাসপাতাল থেকে সরবরাহ করেছে শুধু নাপা ও গ্যাস্ট্রিকের ট্যাবলেট। অক্সিজেন দেওয়ার প্রয়োজন তার হয়নি। আমার কোনও অপারেশন হয়নি। আইসিইউতে ছিলাম না।

তাকে প্রথমে ১ লাখ ৭০ হাজার ৮৭৫ টাকার যে বিল দেওয়া হয়েছিল তাতে ২ জুন পর্যন্ত চিকিৎসকের ফি বাবদ ১৮ হাজার ৭০০ টাকা, হাসপাতালের বিল ১ লাখ ১৪ হাজার ৫৭০ টাকা, পরীক্ষার বিল ১৯ হাজার ৪৭৫ টাকা, ওষুধের বিল ৫ হাজার টাকা এবং ১২ হাজার ৯০৩ টাকা সার্ভিস চার্জ দেখানো হয়েছিল।

আর বুধবার দুই দিনের খরচ কেটে রেখে বাকি টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে। সেই বিলে বেড ভাড়া ১২ হাজার, খাবার বিল ১ হাজার ২৬০ টাকা, কোভিড প্রোটেকশন বিল ৪০০ টাকা, পরীক্ষার ফি ১ হাজার ৬৫০ টাকা, ওষুধ ১ হাজার ৬০৪ টাকা, বিশেষ সেবা ৫ হাজার টাকা, নার্সিং ফি ৮০০ টাকা, পালস অক্সিমিটার ফি ৪ হাজার ৮০০ টাকা, ডিউটি ডক্টরের খরচ ১ হাজার টাকা, পরামর্শক ফি ২ হাজার ৪০০ টাকা এবং সার্ভিস চার্জ হিসেবে ৩ হাজার ৯১ টাকা দেখানো হয়েছে।

রাজধানীতে করোনা ডেডিকেটেড হিসেবে যে ১৩টি হাসপাতাল রয়েছে তার মধ্যে বেসরকারি হাসপাতালের তালিকায় ছিল আনোয়ার খান মডার্ন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল। গত ১৬ মে হাসপাতালটির ২০০ বেডের কোভিড-১৯ ডেডিকেটেড ভবন উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। এছাড়া এতে রয়েছে ১০টি আইসিইউ, ১০টি এইচডিও ও পাঁচটি ভেন্টিলেটর। পাশাপাশি কোভিড-১৯ টেস্টের জন্য এখানে পিসিআর মেশিনের ব্যবস্থা করা হয়।

প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান ড. আনোয়ার হোসেন খান এমপি সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে বলেন, সরকারের সঙ্গে আমাদের যে অঙ্গীকার ছিল, তা আমরা পালন করেছি। আমরা মানবতার কল্যাণে কাজ করতে চাই। আমি অন্য কিছু কখনও চাইনি। আমরা এখানে কোনও চিকিৎসা সেবার বিনিময়ে অর্থ উপার্জন করবো না বা রোগীর সঙ্গে ব্যবসা করবো না। সেবা দেওয়াই আমাদের মুখ্য উদ্দেশ্য।

পূর্বপশ্চিমবিডি/এসএস

আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতাল,করোনাভাইরাস
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close