• মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২০, ৩০ আষাঢ় ১৪২৭
  • ||

লিবিয়ায় ২৬ জনকে হত্যা: পল্টন থানায় ৩৮ পাচারকারীর বিরুদ্ধে মামলা

প্রকাশ:  ০২ জুন ২০২০, ২৩:৪৯
নিজস্ব প্রতিবেদক

উত্তর আফ্রিকার দেশ লিবিয়ায় মানব পাচারকারীদের গুলিতে নিহত ২৬ জনসহ আরও অনেক ভুক্তভোগীকে পাচারের অভিযোগে হাজী কামালসহ ৩৮ জনকে আসামি করে মামলা করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর পল্টন থানায় সংস্থার উপ-পরিদর্শক এএইচএম আবুল ফজল বাদী হয়ে মানবপাচার আইনে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে উচ্চ বেতনের প্রলোভন দিয়ে সহজ সরল নিরীহ মানুষকে লিবিয়ায় পাচারের অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলাটি হত্যা ও মানবপাচার আইনের ধারায় রেকর্ড করা হয়েছে।

বাদী এএইচএম আবুল ফজল বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মামলার আসামিরা হলেন- ভৈরবের তানজিমুল ওরফে তানজিদ, বাচ্চু মিলিটারি, নাজমুল, জোবর আলী, জাফর, স্বপন, মিন্টু মিয়া, হেলাল উদ্দিন, কুষ্টিয়ার কামাল হোসেন ওরফে হাজী কামাল, আলী হোসেন, শরিয়তপুরের সাদ্দাম, ঢাকার কামরাঙ্গীর চরের কামাল হোসেন, মাদারীপুরের রাশিদা বেগম, নূর হোসেন শেখ, ইমাম হোসেন শেখ, আকবর হোসেন শেখ, বুলু বেগম, জুলহাস সরদার, আমির শেখ, নজরুল মোল্লা, কামরাঙ্গীর চরের শাহাদাত হোসেন, জাহিদুল শেখ, জাকির মাতুব্বর, আমির হোসেন, লিয়াকত শেখ ওরফে লেকু শেখ, গোপালগঞ্জের আব্দুর রব মোড়ল, কুদ্দুস বয়াতী, মাহবুবুর রহমান, শহীদুর রহমান, কিশোরগঞ্জের হাজী শহীদ মিয়া, খবির উদ্দিন, মুন্নী আক্তার রূপসী ও লালন।

এজাহারে আসামিদের নাম উল্লেখ করে বলা হয় তারাসহ আরও অজ্ঞাত ৩০-৩৫ জন লিবিয়ায় ভালো বেতনের চাকরীর প্রলোভন দেখিয়ে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন রুট ব্যবহার করে মানবপাচার করে। তারা ভিকটিমদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ নিয়ে লিবিয়ায় পাচার করে তাদের কম বেতনে কঠিন পরিশ্রমের কাজ করতে বাধ্য করে। এমনকি তাদেরকে হত্যা ও গুরুতরও জখম করে পাচারকারীরা।

লিবিয়ায় মানব পাচারের ঘটনায় বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলার চারটি থানায় পাঁচটি মামলা করা হয়েছে। এরই মধ্যে মানব পাচারের এক হোতা কামাল উদ্দিন ওরফে হাজি কামালকে (৫৫) গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-৩। সোমবার ভোরে রাজধানীর গুলশানের শাহজাদপুরে র‌্যাব-৩-এর একটি দল তাকে গ্রেপ্তার করে।

র‌্যাব জানিয়েছে, সম্প্রতি লিবিয়ায় পাচার হয়ে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়া বাংলাদেশিদের মধ্যে বড় একটা অংশকেই এই কামাল পাচার করেছিল। ওই ব্যক্তিদের পাচারের পর অপহরণ করে বাংলাদেশে তাদের স্বজনদের কাছ থেকে মুক্তিপণের টাকাও আদায় করে সে। র‌্যাবের একজন কর্মকর্তা জানান, মানব পাচারের পাশাপাশি কামাল একজন ঠিকাদার। বহু টাইলস শ্রমিক তার সংস্পর্শে আসে। এ সুযোগে সে তাদের প্রলুব্ধ করে। এ পর্যন্ত সে ফাঁদে ফেলে অন্তত ৪০০ বাংলাদেশিকে লিবিয়া পাঠিয়েছে। লিবিয়া ছাড়াও সে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবৈধভাবে লোক পাঠায়। কামালের বাড়ি কুষ্টিয়ায়।গত ২৮ মে লিবিয়ার মিজদাহ শহরে ২৬ বাংলাদেশি নৃশংসভাবে হত্যাকাণ্ডের শিকার হন ।

পূর্বপশ্চিমবিডি/জিএম

লিবিয়া,মানব পাচারকারী,নৃশংস হত্যাকাণ্ড,সিআইডি
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close