• শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২০, ২৬ আষাঢ় ১৪২৭
  • ||

বাসে ওঠার প্রথম দিনই স্বাস্থ্যবিধির কথা ভুলে গেছেন

প্রকাশ:  ০২ জুন ২০২০, ০২:৫৬
নিজস্ব প্রতিবেদক

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে দীর্ঘ দুই ২ মাস ৫ দিন বন্ধ থাকার পর সোমবার (১ জুন) থেকে চালু হয়েছে সারাদেশের গণপরিবহন। স্বাস্থ্যবিধি মেনে বাস-মিনিবাস পরিচালনার ৬০ শতাংশ ভাড়া বৃদ্ধি করেছে সরকার। কিন্তু প্রথমদিন সোমবার এই নিয়ম মানেনি সড়ক পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা। দূরপাল্লার ও সিটি সার্ভিস প্রতিটি বাসের ভাড়া দ্বিগুণ ও তিনগুণ আদায় করা হয়েছে যাত্রীরা অভিযোগ করেন। ৫ টাকার ভাড়া নেয়া হচ্ছে ২০ টাকা। দূরপাল্লার বাসের ৮০ টাকার ভাড়া নেয়া হচ্ছে ২০০ টাকা। এছাড়া এসি সিটের ৮০০ টাকার ভাড়া নেয়া হচ্ছে ১৮০০-২০০০ টাকা। করোনাভাইরাসের এই মহামারীর মধ্যে গণপরিবহন অতিরিক্ত ভাড়া জনগণের উপর ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’ পরিণত হয়েছে মন্তব্য করেন যাত্রীরা। এক সিটে একজন যাত্রী বসার নিয়ম থাকলে কোন কোন ক্ষেত্রে তাও অমান্য করা হয়েছে। গাড়িতে হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহারে নিয়ম থাকলেও অনেক পরিবহনে তা দেখা যায়নি বলে যাত্রীরা জানান।

সরেজমিনে রাজধানীর বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখা গেছে, করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি নিয়েই রাজধানীর সড়কে নেমেছে গণপরিবহন। তবে, নেই যাত্রীদের ভিড়। এছাড়া অন্য সময়ের তুলনায় সড়কে গণপরিবহনের সংখ্যা ছিল কম। এক সিট ফাঁকা রেখে অর্ধেক যাত্রী নিয়েই সড়কে চলতে দেখা গেছে পরিবহনগুলোকে। শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে যাতায়াত করছেন যাত্রীরা। আগের মতো ধাক্কাধাক্কি, তাড়াহুড়ো কোনটাই নেই। সরকারের পক্ষ থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে এসব পরিবহন পরিচালনার নির্দেশনা থাকলেও তার পুরোপুরি পালন করতে দেখা যায়নি। তবে এক্ষেত্রে বাসের আসন ফাঁকা রাখার যে নির্দেশনা ছিল সেটি পালন করতে দেখা গেছে। ৬০ শতাংশ ভাড়া বৃদ্ধি করা হলেও কোন কোন ক্ষেত্রে ১২০ শতাংশ ভাড়া বৃদ্ধি করেছে পরিবহন মালিকরা। এতে যাত্রীদের ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।

যাত্রাবাড়ী এলাকায় পাভেল নামের এক যাত্রী বলেন, সরকার মালিকদের স্বার্থের কথা চিন্তা করে হুট করে গণপরিবহনের ভাড়া বৃদ্ধি করে দিয়েছে। করোনাভাইরাসের এই মহামারীর মধ্যে এটা আরেকটি মহামারী। আমাদের হাতে কাজ নেই। পকেটে টাকা নেই। এরমধ্যে কিভাবে বাসের ভাড়া বৃদ্ধি করা হলো। এটা সরকারের বিবেচনা করা উচিত। লকডাউনের আগে বাস মালিকরা সিটিং সার্ভিস নামের দ্বিগুণ ও তিনগুণ ভাড়া আদায় করেছে। এখন স্বাস্থ্যবিধি মানার অজুহাতে তিনগুণ ও চারগুণ ভাড়া আদায় করছে। আগে মিনিবাসের সর্বনিম্ন ভাড়া ছিল ৫ টাকা। এখন সর্বনিম্ন ভাড়া আদায় করা হচ্ছে ২০-৩০ টাকা। স্বাস্থ্যবিধি মানার কথা বলা হলেও একটি বাসেও এটি পালন করা হয় না। বাসে ওঠার আগে হ্যান্ড স্যানিটাইজার দেয়ার কথা বলে হলেও কেউ তা দিচ্ছে না। যাত্রী কম থাকায় একসিটে একজন বসানো হচ্ছে। তবে বেশি হলেই এ নিয়ম মানছে না বাস শ্রমিকরা।

সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল এলাকায় হেলপাররা আগের মতো জোর করে টেনে টেনে যাত্রীদের গাড়িতে তুলতে দেখা গেছে। এ সময় কোন পরিবহনে জীবাণুনাশক ছিটাতে দেখা যায়নি। তবে পরিবহনগুলো বের হওয়ার আগেই জীবাণুমুক্ত করে রাখা হয়েছে বলে দাবি পরিবহন শ্রমিকদের। এ বিষয়ে বলাকা সার্ভিসের চালকের সহযোগী কামাল হোসেন বলেন, বাস নামানোর আগেই আমরা আমাদের সব বাস জীবাণুমুক্ত করেছি। এখনও হ্যান্ড স্যানিটাইজার পাইনি। তাই সেটা নিয়ে বের হতে পারিনি। তবে যাত্রীদের আমরা ধীরে বাসে ওঠাচ্ছি এবং নামাচ্ছি। তিনি নিশ্চিত করেন পাশাপাশি দুটি সিটে কাউকে বসতে দেয়া হচ্ছে না। এর কারণে ভাড়া একটু বেশি নেয়া হচ্ছে।

সাইফুল ইসলাম নামের এক যাত্রী বলেন, মোহাম্মদপুরের বাসা থেকে বের হয়েছি। রামপুরা যাব। বাধ্য হয়েই বাসে ওঠেছি। আসলে যেসব স্বাস্থ্যবিধির কথা বলা হয়েছে সেগুলো পুরোপুরি পালন করা হচ্ছে না। যেখানে ঘন ঘন আসনগুলো জীবাণুনাশক দিয়ে স্প্রে করার দরকার সেখানে দিনে একবারও করা হচ্ছে কিনা সন্দেহ রয়েছে। এছাড়া ভাড়া নেয়া হচ্ছে দ্বিগুণ।

সোমবার সকালে শ্যামলী ও টেকনিক্যাল এলাকায় দেখা যায়, সাভার আশুলিয়া গাজীপুর মানিকগঞ্জ মিরপুর উত্তরা টঙ্গী আব্দুল্লাহপুর থেকে ছেড়ে আসা রাজধানীর বিভিন্ন রুটে চলাচল করছে বাস। মোহাম্মদপুর থেকে আব্দুল্লাহপুর রুটে চলাচলকারী ভূইয়া পরিবহনের একটি বাসের হেল্পার শরিফ বলেন, বাসে হ্যান্ড স্যানিটাইজার আছে, যাত্রীরা চাইলে তা দেয়া হচ্ছে। ট্রান্স সিলভার গাড়িতে দেখা যায়নি জীবাণুনাশক স্প্রে। আলিফ পরিবহনেও একই অবস্থা। তেমনি লাব্বাইক, তুরাগ, আট নম্বর, ভিক্টর, গাজীপুর পরিবহন, প্রভাতী, বনশ্রী, ছালছাবিল, এম এম লাভলী পরিবহনের অনেক গাড়িতে জীবাণুনাশক স্প্রে ও নতুন ভাড়ার তালিকা দেখা যায়নি। ক্ল্যাসিক পরিবহনের কিছু বাসে জীবাণুনাশক স্প্রে দেখা গেছে।

অগ্রদূত বাসের হেল্পার সোহাগ জানান, বাসের ভেতরে যাত্রী নিয়ম মতো বসছে। সেখানে বসার পর স্প্রে করা হচ্ছে। কিন্তু যাত্রী ওঠানো ও নামানোর ক্ষেত্রে টেনে ধরেই যাত্রী ওঠানোর ব্যাপারে কোন সদুত্তর মেলেনি।

মিরপুর আনসার ক্যাম্প থেকে মোহাম্মদপুর বছিলা রুটে চলাচলকারী প্রজাপতি পরিবহনের কয়েকটি বাসে দেখা যায় নিয়ম মেনে যাত্রী ওঠানো ও জীবাণুনাশক স্প্রে দিতে। রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় চলা ট্রাস্ট ট্রান্সপোর্টের বাসে জীবাণুনাশক স্প্রে করতে দেখা গেছে। মিজানুর রহমান নামে ভূইয়া পরিবহনের এক যাত্রী জানান, অনেকক্ষণ অপেক্ষার পর একটি বাস পেলাম। নিয়ম মানার বিষয়টি মাথায় কাজ করলেও তাড়া থাকায় ও বাস ছুটে চলায় আর ত্বর সইছিল না। উঠতে হয় বাধ্য হয়ে।

সরেজমিন পরিস্থিতি দেখতে মহাখালী বাস টার্মিনালে হাজির হয়েছিলেন সড়ক সচিব নজরুল ইসলাম। তিনি বলেন, আমি দেখছি দূরপাল্লার বাসগুলো নিয়ম মেনে যাত্রা করছে। অর্ধেক আসনে যাত্রী দেখেছি। তাছাড়া স্বাস্থ্যবিধি মানার চিত্র সন্তোষজক। আমরা আহ্বান জানাব মালিক-শ্রমিকরা আরও সচেতন হবেন। তাহলে আরও বেশি স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা সম্ভব হবে।

এদিকে বিআরটিএ মোবাইল কোর্টগুলো স্বাস্থ্যবিধি না মানায় বিভিন্ন পরিবহনকে জরিমানা করলেও প্রথমদিন সচেতনতামূলক কার্যক্রম বেশি ছিল। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা চালকদের সচেতন করতে দেখা গেছে।

এ বিষয়ে সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্ল্যাহ সাংবাদিকদের বলেন, সার্বিক পরিস্থিতি অনেক ভালো। যেসব নির্দেশনা দেয়া হয়েছে সেগুলো পুরোপুরি পালনের চেষ্টা চলছে। দূরপাল্লার গাড়িগুলোও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চালানো হচ্ছে। আমি এবং আমাদের মালিকরা সব স্থানেই তদারকি করছেন। মহাখালীসহ বিভিন্ন টার্মিনালে জীবাণুমুক্ত টানেল স্থাপন করা হয়েছে। যাত্রীদের মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। আর যারা স্বাস্থ্যবিধি অমান্য করবে তাদের গাড়ি রাস্তায় নামতে দেয়া হবে না।

চলমান করোনা পরিস্থিতিতে সরকারের নির্দেশিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত আকারে গণপরিবহন চলাচল ও মার্কেট খোলা হয়েছে কিনা, তা দেখার জন্য সরেজমিনে কাজ করছে পুলিশ। পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাচলের দিক নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

সোমবার বংশাল থানার (ওসি) শাহিন ফকির নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল বিষয়গুলো মনিটরিং করেছে। এ সময় তারা ফুলবাড়িয়া বাসস্ট্যান্ডসহ বিভিন্ন মার্কেটে গিয়ে করোনা সুরক্ষিত থাকতে সরকারের দিকনির্দেশনা জানিয়ে দেন।

তিনি জানান, মার্কেট এবং বাসস্ট্যান্ডে শারীরিক দূরত্ব নিশ্চিত করার জন্য নবাবপুর মার্কেটসহ বিভিন্ন মার্কেটের মালিক সমিতির প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে দোকানদারদের ব্রিফিং দেয়া হয়। ফুলবাড়ীয়া বাসস্ট্যান্ডে গাড়ির ড্রাইভার ও হেল্পারদের মাস্ক ব্যবহার এবং যাত্রীদের হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার নিশ্চিত করা হয়। যাত্রীরা যাতে সিটে বসার সময় প্রত্যেকে দূরত্ব বজায় রেখে যাতায়াত করেন এবং মাস্ক ব্যবহার করেন সেই বিষয়ে প্রতিটি বাসে হ্যান্ড মাইকের মাধ্যমে জানানো হয়। এনিয়ে সরকারী নির্দেশসমূহ ব্যানার বানিয়ে গাড়িতে ও বাসস্ট্যান্ডে টানিয়ে দেয়া হয়।

দূরপাল্লার অনেক বাসে স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে না, ভাড়া নেয়া হচ্ছে দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ। স্বাস্থ্য বিধি না মানার পাশাপাশি অনিয়ম এবং অব্যবস্থাপনার মধ্যদিয়ে চট্টগ্রামে চলাচল করছে গণপরিবহন। হাতে গোনা কয়েকটি বাস ছাড়া বেশিরভাগ বাস, হিউম্যান হলার ও টেম্পোতে কোনো ধরনের স্বাস্থ্যবিধি না মেনেই বহন করা হচ্ছে যাত্রী। আবার তুলনামূলক যানবাহন কম থাকায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের। এ সুযোগে দ্বিগুণ ভাড়া হাঁকছেন রিকশা চালকরাও।

এক যাত্রী বলেন, আমবাগান থেকে টাইগার পাস পর্যন্ত রিকশা ভাড়া ১০ টাকা ছিল। এখন সেটা ২০ টাকা হয়েছে।

সিএমপি অতিরিক্ত কমিশনার মোস্তাক হোসেন বলেন, কিছু ক্ষেত্রে হয়তো পাশাপাশি বসে যাচ্ছে। তবে দেখা মাত্রই আমরা তাদের সরিয়ে দিচ্ছি। এবং যে সব বাস দাঁড়িয়ে আছে, তাদের বিরুদ্ধে আমরা মামলা দিচ্ছি।

করোনাভাইরাস সংক্রমণে দীর্ঘদিন বন্ধের পর সারাদেশের মতো কুমিল্লা থেকেও চালু হয়েছে গণপরিবহন। সকাল থেকেই নগরীর ৩টি টার্মিনালে ছিল যাত্রীদের উপস্থিতি। দূরপাল্লার যানবাহনে তেমন যাত্রী না থাকলেও আঞ্চলিক সড়কগুলোতে যাত্রীদের সরব উপস্থিতি ছিল। প্রতিটি যানবাহনে স্বাস্থ্যবিধি মেনেই যাত্রীদের বাসে ওঠানো হয়। তবে এক্ষেত্রে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশের বেশ কয়েকটি স্থানে স্বাস্থ্যবিধি অমান্য করে লোকজনকে ওঠানো হয়েছে। কুমিল্লা থেকে ঢাকা রুটে চলাচলকারী এশিয়া এয়ারকন, তিশা সার্ভিস, রয়্যাল পরিবহনের একাধিক চালক জানান, সরকারি নির্দেশনা অনুসারে করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে আমরা যাত্রীদের বাসে ওঠানোর পর জীবাণুনাশক স্প্রে প্রদান করেছি। এছাড়া সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে বাসে যাত্রীদের বসানো হয়েছে। ঢাকাগামী এক যাত্রী তারেক হাসান জানান, ‘প্রথমদিন যেভাবে গাড়িতে লোকজন ওঠানামা করা হয়েছে এবং জীবাণুনাশক স্প্রে করা হয়েছে। এতে করে গণপরিবহনে যাত্রীদের করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি কম থাকবে। এটা চলমান থাকলেও আমরা স্বস্তিতে যাতায়াত করতে পারব।’ জেলা বাস মালিক সমিতির মহাসচিব মো. তাজুল ইসলাম জানান, ‘সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ৬০ শতাংশ ভাড়া বৃদ্ধি করে স্বাস্থ্যবিধি মেনে গণপরিবহন চালু করা হয়েছে। এক্ষেত্রে কোন পরিবহন বেশি ভাড়া নেয়ার অভিযোগ পেলে সাংগঠনিকভাবে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

করোনাভাইরাসের সংক্রমণের মধ্যেও দীর্ঘ প্রায় আড়াই মাস পর সিলেট থেকে ছেড়েছে দূরপাল্লার বাস। সোমবার সকাল থেকে সিলেটে পরিবহন চলাচল শুরু হয়। তবে বাসের ভেতর শারীরিক দূরত্ব কিছুটা থাকলেও বাস টার্মিনালে মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি। শারীরিক দূরত্ব তো দূরের কথা, মানুষের ব্যাপক ভিড়।

দক্ষিণ সুরমার টার্মিনাল এলাকা ঘুরে দেখা যায়, গণপরিবহনই শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে যাত্রী তুলছে। তবে গাড়ির ভেতর অনেক যাত্রীরই মাস্ক ও হ্যান্ড গ্লাভস নেই। স্বাস্থ্যবিধি না মেনেই গাড়িতে উঠছে যাত্রীরা। কদমতলী বাস টার্মিনাল থেকে কুমিল্লার উদ্দেশে রওয়ানা হওয়া এক যাত্রী জানান, ‘মানুষের অনেক ভিড়। কাউন্টারের বাইরে শারীরিক দূরত্ব নিশ্চিতের দায়িত্ব যেন কারও নেই। অনেক যাত্রীই মাস্ক ব্যবহার করছেন না। কদমতলী থেকে ভোর থেকেই বিভিন্ন গন্তব্যে বাস ছেড়ে যায়। তবে কিছু কিছু বাস শারীরিক দূরত্ব নিশ্চিত করেই চলতে দেখা যায়।’

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে একটানা ৬৬ দিন সাধারণ ছুটির পর বরিশাল কেন্দ্রীয় নথুল্লাবাদ বাস টারমিনাল ও দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম নদীবন্দর সচল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যাত্রী সাধারণের পদচারণায় সরব হয়ে ওঠলেও সাধারণ যাত্রীরা এখনও রয়েছে অসচেতন। তারা কেউ স্বাস্থ্যবিধি না মানার কারণে বাস ও লঞ্চেগুলোতে সরকারি নির্দেশ উপেক্ষিত হচ্ছে। গতকাল সকাল থেকে বরিশাল নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাস টারমিনাল এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, ঢাকাগামী মাওয়া পথের যাত্রীরা কে কার আগে বাসে উঠে বসবেন তা নিয়ে চলছে প্রতিযোগিতা। অন্যদিকে বরিশাল জেলার অভ্যন্তরীণ রুটের যাত্রীবাহী বাস কাউন্টারের মাধ্যমে লাইন দিয়ে টিকিট বিক্রি করার বিধান সৃষ্টি করা হলেও সাধারণ যাত্রীরা সে নিয়ম উপেক্ষা করার পাশাপাশি নিজেরা একে অপরের গা ঘেঁষে লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট সংগ্রহ করছেন। বরিশাল থেকে সীমিত আসনে যাত্রী নিয়ে বাস ছাড়লেও পথিমধ্যে যাত্রী ওঠানামা করায় শেষ পর্যন্ত বিধিনিষেধ থাকছে না। এছাড়া যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ করেন যাত্রীরা।

সোমবার সকাল থেকেই রূপগঞ্জ-ঢাকা-গুলিস্তান রুটে বাস চলাচল শুরু হয়েছে। বাস ছাড়ার পূর্বে জীবাণুমুক্ত করার কথা থাকলেও বেশির ভাগ ক্ষেত্রে তা দেখা যায়নি। এছাড়া ৩০ টাকার ভাড়া ৫০ টাকা নেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন যাত্রীরা।

পূর্বপশ্চিমবিডি/এসএস

করোনাভাইরাস,গণপরিবহন,বাস
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close