• বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২০, ১৮ আষাঢ় ১৪২৭
  • ||

সাধারণ ছুটি আর বাড়ছে না

প্রকাশ:  ২৭ মে ২০২০, ১৭:৪৩ | আপডেট : ২৭ মে ২০২০, ২০:৫৮
নিজস্ব প্রতিবেদক

চলমান করোনা পরিস্থিতিতে দেশে সাধারণ ছুটি আর বাড়ছে না। আগামী ৩১ মে থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত সবাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত আকারে অফিসে কাজ করবে। তবে সব ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আগামী ১৫ জুন পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। তার আগ পর্যন্ত অনলাইনে শিক্ষাকার্যক্রম চালু থাকবে। বুধবার (২৭ মে) জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেন। এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার (২৮ মে) প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে বলে নিশ্চিত করেছেন প্রতিমন্ত্রী।

তিনি জানিয়েছেন, দেশে করোনা প্রাদুর্ভাবের কারণে গত ২৬ শে মার্চ থেকে বেশ কয়েকদফা সরকারি ছুটির মেয়াদ বাড়ানো হলেও ৩১ মে থেকে সাধারণ ছুটি আর বাড়ানো হবে না। তবে ১৫ই জুন পর্যন্ত সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে অফিস-আদালতে কাজ করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান নিজস্ব নিয়মে সীমিত আকারে চালু থাকবে। তবে বয়স্ক এবং গর্ভবতী নারীদের অফিসে আসতে হবে না।

প্রতিমন্ত্রী জানান, সাধারণ ছুটি না বাড়লেও ১৫ জুন পর্যন্ত সব ধরণের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। সীমিত পরিসরে স্বাস্থ্যবিধি মেনে গণপরিবহন চালুর ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী সম্মতি দিয়েছেন। তাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে বিভিন্ন জেলায় বাস, লঞ্চ ও রেল চলাচল ৩১ মে থেকেই চালু করা হবে। বিভিন্ন জেলায় পরিবহনে যাত্রীরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে যাতায়াত করতে পারবেন। সীমিত বলতে আমরা বোঝাচ্ছি, গণপরিবহন চললেও তা নিয়ন্ত্রিতভাবে চলবে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। বেসরকারি বিমানগুলো নিজ ব্যবস্থাপনায় বিমান চলাচল শুরু করতে পারবে।

এর আগে সাধারণ ছুটি সংক্রান্ত সারাংশে প্রধানমন্ত্রী স্বাক্ষর করেন। রাত আটটা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত আগের মতো চলাচল সীমিত থাকবে। হাটবাজার দোকানপাটে বিকাল ৪টা পর্যন্ত চলবে।

অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড চালু রাখতে সীমিত পরিসরে সব অফিস খোলা রাখতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, নাগরিক জীবনের সুরক্ষার জন্য সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। এক জেলা থেকে অন্য জেলায় প্রবেশের ক্ষেত্রে কড়াকড়ি আরোপ করতে হবে। জেলার প্রবেশমুখে চেকপোস্ট থাকবে।

আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এখন যে সকল নির্দশনা দেয়া হয়েছে সেটি ১৫ জুন পর্যন্ত। ১৫ জুনের পর আবার আরেকটি প্রজ্ঞাপন হবে।

এদিকে, গণ জমায়েত ও সভা সমাবেশ নিষিদ্ধ থাকলেও ধর্মীয় উপাসনালয় খোলা থাকবে।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে গত ২৩ মার্চ সরকার প্রথম দফায় ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে। পরে দ্বিতীয় দফায় ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত, তৃতীয় দফায় ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত ও চতুর্থ দফায় ৫ মে পর্যন্ত সাধারণ ছুটি বর্ধিত করা হয়। এরপরও পরিস্থিতির উন্নত না হওয়ায় পঞ্চম দফায় ১৬ মে এবং সর্বশেষ ৩০ মে পর্যন্ত ছুটি বৃদ্ধি করে সরকার।

২৫ এপ্রিল একটি প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, জরুরি পরিষেবা প্রদানের সাথে জড়িত সব মন্ত্রণালয়, বিভাগ এবং তাদের অধীনস্থ অফিসগুলো বর্ধিত সাধারণ ছুটির দিনে সীমিত আকারে খোলা থাকবে।

সর্বশেষ গত ১৪ মে জারি করা প্রজ্ঞাপনে ১৭ থেকে যে সাধারণ ছুটি, শবে কদরের ছুটি, সাপ্তাহিক ছুটি এবং ঈদের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয় এখনও তা চলছে। করোনার সংক্রমণ রোধে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি রেল, সড়ক, নৌ ও বিমান যোগাযোগ বন্ধ রেখেছে সরকার।

করোনাভাইরাস সংক্রমণের উচ্চ ঝুঁকির মধ্যেই গত ২৬ এপ্রিল কিছু পোশাক কারখানা পুনরায় চালু করা হয় এবং কারখানার মালিকরা দাবি করেন যে তারা স্বাস্থ্যবিধি বজায় রেখে শুধুমাত্র ঢাকায় উপস্থিত কর্মীদের মাধ্যমে কাজ করছেন।

গত বছরের ডিসেম্বরে সর্বপ্রথম চীন থেকে সংক্রমণ শুরুর পর করোনাভাইরাস থেকে সৃষ্ট রোগ কোভিড-১৯ এ পর্যন্ত ছড়িয়েছে বিশ্বের ২১২টি দেশ ও অঞ্চলে।

পূর্বপশ্চিমবিডি/এসএস

ছুটি,করোনাভাইরাস
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
Latest news
close