• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২০, ১৩ কার্তিক ১৪২৭
  • ||

যে পদক্ষেপে নিউমার্কেট থানায় গত এক মাসে নতুন সংক্রমণ হয়নি  

প্রকাশ:  ২৩ মে ২০২০, ১৯:৩৮
পূর্বপশ্চিম ডেস্ক
ফাইল ছবি

দেশে করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে জনগণকে সংক্রমণ থেকে রক্ষা করতে গিয়ে একক পেশা হিসেবে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছেন পুলিশের সদস্যরা। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশে কর্মরত সদস্যদের মধ্যে আক্রান্তের হার বেশি এমন একটি থানা নিউমার্কেট। এই থানায় কর্মরত ৩৩ জন সদস্য করোনা পজেটিভ হয়েছেন।

নিউমার্কেট জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার আবুল হাসান জানান, ভাইরাস সংক্রমণের শুরু থেকে কোন প্রশিক্ষণ ও পূর্ব অভিজ্ঞতা ছাড়াই একপ্রকার খালি হাতে করোনার বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন থানার কর্মকর্তা ও সদস্যরা।

তিনি জানান, জনগণকে ঘরে রাখা, সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করা, মানুষকে কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো, ত্রান দেওয়া, নিয়মিত চেকপোস্ট ডিউটিসহ বহুমূখী জনকল্যাণকর কাজে আত্মনিয়োগ করার ফলে পুলিশ জনগণের সাথে মিশে যান, ফলে পুলিশ সদস্যরা ব্যাপকভাবে করোনা আক্রান্ত হতে থাকেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, এপ্রিল মাসের শুরুতে ধানমন্ডি পূর্ব ফাঁড়ির এক সদস্য আক্রান্ত হওয়ার সাথে সাথে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়। এর কিছুদিন না যেতেই নিউমার্কেট থানার দুজন পুলিশ সদস্য আক্রান্ত হলে তাঁদের সংস্পর্শে আসা অন্য সদস্যদের পৃথক করা হয়। তবে হঠাৎ আক্রান্ত হওয়া এই দুই পুলিশ সদস্যের সংস্পর্শে আসেন থানার অধিকাংশ সদস্য। যদিও তাঁদের শরীরে করোনার সুস্পষ্ট কোন লক্ষণ ছিল না।

সহকারী পুলিশ কমিশনার আবুল হাসান জানান, কমিউনিটি ট্রান্সমিশন রোধে এবং পুলিশী কর্মকাণ্ড চলমান রাখতে রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার সাজ্জাদুর রহমানের দিক নির্দেশনা ও সময়োপযোগী পদক্ষেপের ফলে সংক্রমণ শূন্যের কোটায় নেমে আসে নিউমার্কেট থানায়।

তিনি বলেন, পুলিশ সদস্যরা আক্রান্ত হওয়া শুরু করলে থানার সকল সদস্যকে সরিয়ে বিভিন্ন হোটেলে আলাদা কক্ষে থাকার ব্যবস্থা করা হয় এবং ডিএমপির লজিস্টিকস বিভাগের সহায়তায় পুরো থানাকে জীবানুমুক্ত করা হয়।

নিউমার্কেট জোনের এই পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, থানায় কর্মরত পুলিশ এবং আনসার সদস্যদের সবার করোনা পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে যাদের রিপোর্ট নেগেটিভ আসে, তাঁদের থানার কাজে ফিরিয়ে আনা হয় এবং আক্রান্তদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।

তিনি জানান, থানার সদস্য নয় এমন অন্য পুলিশ সদস্যদের থানা থেকে তাদের স্ব স্ব কর্মস্থলের জন্য নির্ধারিত ব্যারাকে পাঠানো হয়, তিনি যোগ করেন।

পুলিশের এই কর্মকর্তা আরো বলেন, পুলিশ সদরদপ্তরের প্রণয়ন করা নকশা মোতাবেক পুলিশ ব্যারাকের বিছানা স্থাপন করে দেয়া হয় এবং অতিরিক্ত বিছানা ও আসবাবপত্র সরিয়ে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করা হয়। অফিসার ও ফোর্সের জন্য আলাদা ব্যারাক নির্ধারণ করে দেয়া হয়।

এর বাইরে প্রতিটি পুলিশ সদস্য যাতে প্রয়োজনীয় সুরক্ষাসহ ডিউটিতে যান তা কঠোরভাবে মনিটরিং করা হয়। সাথে চলে নিয়মিত ব্যারাক পরিদর্শনসহ থানার প্রতিটি সদস্যকে স্বাস্থ্য সচেতন করে তোলার কাজ।

প্রতিদিন ডিউটি শেষে পরিধেয় পিপিই, ইউনিফর্ম, গ্লাভস, মাস্কসহ অন্যান্য উপকরণ যাতে অবশ্যই ডেটল, স্যাভলন বা সাবান দিয়ে পরিষ্কার করা হয় সেটি নিশ্চিত করা হয়।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, থানার মেসের পরিবেশ উন্নত করা হয় এবং বিশেষ প্রণোদনা দিয়ে ভিটামিন সি যুক্ত খাবার বেশি করে যুক্ত করা হয় খাদ্য তালিকায় যাতে সদস্যদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। এর পাশাপাশি জিংক ট্যাবলেট, সিভিট বিতরণ করা হয়। প্রতিটি সদস্যকে স্বাস্থবিধি মেনে চলাসহ নিজস্ব উদ্যোগে এসব ঔষুধ সেবন করতে উদ্বুদ্ধ করা হয়। থানার প্রবেশদ্বারে জীবাণুনাশক টানেল স্থাপন করা হয়। প্রতিদিন জীবানুনাশক দিয়ে পুরো থানা প্রাঙ্গণ পরিষ্কারের ব্যবস্থা নেয়া হয়।

এর বাইরেও আক্রান্ত সদস্যদের মনোবল বৃদ্ধির জন্য রমনা বিভাগের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ নিয়মিতভাবে আক্রান্ত সদস্যদের সাথে যোগাযোগ রাখেন এবং তাঁদের প্রয়োজনীয় সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করতে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। আক্রান্তদের পরিবারের সাথে কথা বলে তাঁদের খোঁজ খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় সহায়তা অব্যাহত রাখেন, যোগান মানসিক শক্তি ও উদ্দীপনা।

অফিসার ও ফোর্সের সংক্রমণ রোধে থানায় কর্মরতদের দুটি গ্রুপে ভাগ করা হয় এবং প্রতিটি গ্রুপ টানা এক সপ্তাহ ডিউটি করেন। ফলে একসপ্তাহ অন্তর তারা এক সপ্তাহের বিশ্রাম লাভ করেন যা তাদের মানসিকভাবে চাঙ্গা রাখে।

থানায় কর্মরত পুলিশ সদস্যরা জানান, আক্রান্ত সদস্যদের মধ্যে ৩২ জন ইতিমধ্যেই সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন। বাকি এক জন অচিরেই ফিরে আসবেন বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নিউমার্কেট জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার আবুল হাসান ডিএমপি নিউজকে বলেন, “গত একমাসে আর নতুন কোন সদস্য নিউমার্কেট থানায় আক্রান্ত হননি। ব্যাপক ছোঁয়াচে রোগ হওয়া সত্ত্বেও নতুন সংক্রমণ না হওয়া একটি বড় অর্জন।”

তিনি বলেন, থানার প্রতিটি সদস্যদের মধ্যে পরিচ্ছন্নতাবোধ গড়ে উঠেছে যা থানার সার্বিক পরিবেশ নতুন মাত্রায় নিয়ে গেছে। অফিসার ও ফোর্সের আবাসন, ডাইনিং ব্যবস্থার মান আগের চেয়ে উন্নত হয়েছে। এসব পদক্ষেপের ফলে সামগ্রিকভাবে থানার শৃঙ্খলা নতুন মাত্রা পেয়েছে। সূত্র: ডিএমপি নিউজ।


পূর্বপশ্চিমবিডি/ওআর

পুলিশ,করোনা,ডিএমপি,স্বাস্থ্য
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
cdbl
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close