• সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২০, ২২ আষাঢ় ১৪২৭
  • ||

বাড়ছে ডেঙ্গু রোগী, বাড়ছে আশঙ্কা

প্রকাশ:  ২২ মে ২০২০, ০০:৫৬ | আপডেট : ২২ মে ২০২০, ০১:৩৪
নিজস্ব প্রতিবেদক

আশঙ্কা আর আতংক পিছু নিয়েছে বাংলাদেশের। করোনাভাইরাস সংক্রমণের গতি বেড়ে যাওয়ার আতঙ্কের মধ্যেই এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাও বাড়তে শুরু করেছে। চলতি বছরে এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে ৩০৩ জন। অথচ ২০১৯ সালের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত চার মাসে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছিল ১৩১ জন। এ চিত্রই বলে দিচ্ছে এবারো ভয়াবহ রূপ নিতে পারে ডেঙ্গু।

বছরের জুন থেকে সেপ্টেস্বর এই চার মাস এডিস মশার মৌসুম। বৃষ্টিপাত বেশি হওয়ায় এসময় ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়ে যায়। কিন্তু চলতি বছর ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে আসতে শুরু করেঝে। এ অবস্থায় এখনই এডিসের বিস্তার নিয়ন্ত্রন করা না গেলে আগস্ট-সেপ্টেম্বর মাসে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়বে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

গত বছরের জুলাই মাসের মাঝামাঝি সময়ে রাজধানীতে মশার উপদ্রব বেড়ে যায়। এসময় রাজধানী চলে যায় এডিস মশার দখলে।ফলে ডেঙ্গু জ্বরের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। এ সময়ে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) ২৭৬টি ডেঙ্গুজনিত মৃত্যুর প্রতিবেদন পায়। তারা সবগুলো পর্যালোচনা করে ১৭৯ জনের মৃত্যু ডেঙ্গুজনিত বলে নিশ্চিত করে। এছাড়াও গত বছর দেশে এক লাখ ১ হাজার ৩৫৪ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে ভর্তি হন। তাদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি ফেরেন এক লাখ ১ হাজার ৩৭ জন।

চলতি বছর গ্রীষ্ম মৌসুম আসতে না আসতেই রাজধানীতে বেড়েছে মশার উৎপাত। মশার যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ নগরজীবন। ঘরে-বাইরে বাসা কিংবা অফিস সব জায়গাতেই মশার প্রভাব। এদিকে টানা লকডাউন থাকায় অফিস পাড়া, বাসা বাড়ি, বাসটার্মিনাল, নির্মানাধীন ভবনের কাজ বন্ধ রয়েছে। ফলে বৃষ্টির পানি জমে সেখানে এডিসের প্রজনন বাড়ছে।

এরই মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন মশক নিধনে ওষুধ ছিটানোর পাশাপাশি এডিসের বিস্তার রোধে সংস্থার ৫টি অঞ্লেচ বিশেষ চিরুনি অভিযান পরিচালনা করছে। এডিস মশার লার্ভা পাওয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে গত ১০ মে থেকে পরিচালিত অভিযানে ২০মে পর্যন্ত মোট ৪ লাখ ৫হাজার ৩শত টাকা জরিমানা করা হয়।

ডিএনসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মমিনুল হক মামুন জানান, ঈদের পরে এডিস মশা নিধনে ব্যাপক কর্মসূচি নেয়া হবে। তিনি বলেন, ডেঙ্গু থেকে সুরক্ষা পেতে আমরা আগাম প্রস্তুতি নিচ্ছি। লকডাউন থাকায় এবারে একটু চ্যালেঞ্জ বেশি রয়েছে। অফিস-আদালত বন্ধ থাকায় সব জায়গায় আমাদের কর্মীরা মশার ওষুধ দিতে পারেনি। তবুও আমরা চেষ্টা করছি সবাইকে সচেতন করার।

পূর্বপশ্চিম -এনই

ডেঙ্গু,ডেঙ্গু রোগী,ডেঙ্গু আক্রান্ত
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close