• বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২০, ১ শ্রাবণ ১৪২৭
  • ||

আমফানে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের প্রণোদনা দেয়ার ঘোষণা কৃষিমন্ত্রীর

প্রকাশ:  ২১ মে ২০২০, ১৯:৫৫ | আপডেট : ২১ মে ২০২০, ২১:৪৪
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঘুর্ণিঝড় আমফানের তাণ্ডবে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের প্রণোদনা দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক। এ ঝড়ে দেশের ১ লাখ ৭৬ হাজার ৭ হেক্টর জমি প্রাথমিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২১মে) রাজধানীর হেয়ার রোডের সরকারি বাসভবন থেকে আমফানের ফলে কৃষিতে ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে সাংবাদিকদের সাথে অনলাইনে (জুম প্ল্যাটফর্মে) মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত শাকসবজি ও মসলা চাষিদের তালিকা প্রণয়ন করে তাঁদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে আমন মৌসুমে বিনামূল্যে সার, বীজ ও নগদ সহায়তাসহ বিভিন্ন প্রণোদনা প্রদান করা হবে। এছাড়াও, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক, ফল ও পান চাষিদেরকে মাত্র ৪ শতাংশ সুদে কৃষি ঋণের আওতায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

গত ১৫ মে ঘূর্ণিঝড় আমফান আঘাত হানার পূর্বাভাস পাওয়া সাথে সাথেই কৃষি মন্ত্রণালয় ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে জানিয়ে তিনি বলেন, মাঠ পর্যায়ের সকল কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট সকলেই ছিলেন সতর্ক। ফসলের ক্ষতি কমিয়ে আনার জন্য কৃষককে দেয়া হয়েছিল প্রয়োজনীয় পরামর্শ। ফলে ঘূর্ণিঝড় আমফানের ফলে কৃষিতে ব্যাপকভিত্তিক ক্ষতি সাধিত হয়নি।

এসময় আমফানের কারণে ক্ষয়ক্ষতির প্রাথমিক প্রতিবেদন তুলে ধরেন কৃষিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি না হলেও অল্প কিছু কৃষিজ ফসলের বিশেষ করে ফলের মধ্যে আম, লিচু, কলা, সবজি, তিল এবং অল্প কিছু বোরো ধানের ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতির চুড়ান্ত হিসাব নিরূপণের কাজ চলছে। প্রাথমিকভাবে ঘুর্ণিঝড়ে আক্রান্ত মোট জমির পরিমাণ ১ লাখ ৭৬ লাখ ৭ হেক্টর। ইতোমধ্যে হাওড়ে শতভাগ, উপকূলীয় অঞ্চলে ১৭ জেলায় শতকরা ৯৬ ভাগসহ সারা দেশে গড়ে ইতোমধ্যে ৭২ শতাংশ বোরো ধান কর্তন করা হয়েছে। ফলে,ক্ষতির পরিমাণ সামান্য যা আমাদের খাদ্য উৎপাদনে তেমন প্রভাব পড়বে না।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, সাতক্ষীরা জেলায় প্রায় ৬০-৭০ ভাগ আম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সাতক্ষীরাসহ বিভিন্ন জেলায় ঝড়ে পড়া আমগুলো ত্রাণ হিসেবে দুস্থ জনগণের মাঝে বিতরণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। এতে একদিকে যেমন আমচাষিরা কিছুটা আর্থিক ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পাবে অন্যদিকে তেমনি দু:স্থ এবং অসহায় জনগণের পুষ্টির ঘাটতি পূরণ হবে।

তিনি জানান, প্রাথমিক প্রতিবেদন বোরো ধান ৪৭,০০২ হেক্টর শতকরা ১০ ভাগ, ভূট্টা ৩,২৮৪ হেক্টর শতকরা ৫ ভাগ, পাট ৩৪,১৩৯ হেক্টর শতকরা ৫ ভাগ, পান ২,৩৩৩ হেক্টর শতকরা ১৫ ভাগ, সবজি ৪১,৯৬৭ হেক্টর শতকরা ২৫ ভাগ, চিনাবাদাম ১,৫৭৫ হেক্টর শতকরা ২০ ভাগ, তিল ১১,৫০২ হেক্টর ২০ ভাগ, আম ৭,৩৮৪ হেক্টর শতকরা ১০ ভাগ, লিচু ৪৭৩ হেক্টর শতকরা ৫ ভাগ, কলা ৬,৬০৪ হেক্টর শতকরা ১০ ভাগ, পেঁপেঁ ১,২৯৭ হেক্টর শতকরা ৫০ ভাগ, মরিচ ৩,৩০৬ হেক্টর শতকরা ৩০ ভাগ, সয়াবিন ৬৪০ হেক্টর শতকরা ৫০ ভাগ, মুগডাল ৭,৯৭৩ হেক্টর শতকরা ৫০ ভাগ এবং আউশ ৬,৫২৮ হেক্টর জমির ফসল আক্রান্ত ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।


পূর্বপশ্চিমবিডি/ওআর

ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক,কৃষিমন্ত্রী,আমফান
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close