• শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২০, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭
  • ||

ইন্দো-বাংলা শিল্প বাণিজ্য প্রতিনিধিদের বৈঠক অনুষ্ঠিত

প্রকাশ:  ১৫ মে ২০২০, ১৮:০১
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

বাংলাদেশ-ভারত (ইন্দো-বাংলা) দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে দু’দেশের ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। কোভিড -১৯ পরবর্তী পরিস্থিতিতে ইন্দোবাংলা বাণিজ্যকে উজ্জীবিত করার লক্ষ্য নিয়ে শুক্রবার (১৫ মে) বেলা ৩টার দিকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বাংলাদেশ এবং ত্রিপুরার শিল্প ও বাণিজ্য দপ্তরের নেতারা এ বৈঠকে মিলিত হন।

দু'দেশের মধ্যে বিরাজমান যে সব সমস্যা রয়েছে সেসব বাধা দূর করে বাণিজ্য সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করে পূর্বোত্তর ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য সচল করতে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সফল আলোচনা হয়েছে বলে ত্রিপুরাস্থ বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনার কিরীটি চাকমা পূর্বপশ্চিমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, বৈঠকে দু’দেশের বাণিজ্য সচলের বিষয়ে করোনা পরবর্তী স্বাভাবিক হওয়ায় বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সমস্যা চিহ্নিত করা হয়েছে এবং সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়। এসময় কিরীটি চাকমা আরও জানান, ইন্দো-বাংলা বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতা নিরসনে বৈঠকে অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ সফল আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে নেওয়া সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে নিবিড় তদারকির জন্য নিজ নিজ দেশের সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবিহিত করা হবে। দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে বর্তমানে যেসব ইস্যু বাধা হিসেবে কাজ করছে সে অনুযায়ী কর্মপরিকল্পনা নিয়ে সমস্যা দ্রুত সমাধান করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে বলেও তিনি জানিয়েছেন।

বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশনার বলেন, চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরকে ব্যবহার করে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় ত্রিপুরা রাজ্যসহ মেঘালয়, আসাম, মনিপুর মিজোরাম, নাগাল্যান্ড ও অরুণাচল-এই সাত রাজ্যের (সেভেন সিস্টার্স) সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য ও পর্যটনশিল্প সম্প্রসারণ করতে বাংলাদেশ ও ভারত সরকার রামগড়-সাব্রুম স্থলবন্দর স্থাপনে উদ্যোগী হয়। পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকায় স্থাপিত এ স্থলবন্দরের বিশাল কর্মযজ্ঞ ওইখানকার দরিদ্র মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তির নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে বৈঠকে আলোচনা করা হয়। রামগড়-সাব্রুম স্থলবন্দর দুই দেশের মানুষের জন্যই আশীর্বাদস্বরূপ। এ স্থলবন্দর নতুন আশায় উজ্জীবিত প্রান্তিক জনগোষ্ঠীসহ দু’দেশের বিনিয়োগকারী ব্যবসায়ীরা এগিয়ে আসবে এবং বাণিজ্য শুরু করবে।

সূত্রে জানা গেছে, আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে ত্রিপুরা রাজ্যের চাহিদা অনুযায়ী শুধু পণ্যসামগ্রী রপ্তানি করা হয়। কিন্তু এ পথে ভারত থেকে কোনো ধরণের পণ্যসামগ্রী আমদানি করা হয়না। ত্রিপুরার ব্যবসায়ীরা চা শিল্পকে বাংলাদেশে রপ্তানির দাবি জানান। এদিকে ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে একটি শক্তিশালী রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য দু'দেশের সরকার আখাউড়া-আগরতলা রেল লিংকের নির্মাণ কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। দুই দেশের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য ও পর্যটনশিল্পের প্রসার এবং মানুষে মানুষে সম্পর্কোন্নয়নে গোটা অঞ্চলের সেতুবন্ধন তৈরি হবে। অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি আসবে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। সর্বোপরি গোটা এলাকায় প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে আসবে বলে দ্বিপাক্ষিয় বৈঠকে আলোচনায় উঠে আসে।

করোনা পরিস্থিতির জন্য ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বৈঠকে ত্রিপুরাস্থ বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনার কিরীটি চাকমা ছাড়াও বাংলাদেশের এফবিসিসিআই'র সভাপতি আব্দুল মাতলুব আহমেদ, ত্রিপুরা রাজ্যের শিল্প ও বাণিজ্য দফতরের সচিব কিরণ গিত্যে, টিআইডিসি চেয়ারম্যান টিংঙ্কু রায়, ত্রিপুরা মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি তুষার চক্রবর্তী, আইবিসিসিআই ত্রিপুরা চ্যাপ্টারের সভাপতি রতন সাহা, ত্রিপুরা ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক প্রাণ গোপাল সাহা ও ত্রিপুরা চা উন্নয়ন নিগমের চেয়ারম্যান সন্তোষ সাহাসহ অনেকে ভিডিও কনফারেন্সের বৈঠকে সংযুক্ত ছিলেন। পূর্বপশ্চিমবিডি/আরএইচ

ইন্দো-বাংলা,বাণিজ্য
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
Latest news
close