• সোমবার, ০১ জুন ২০২০, ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭
  • ||

সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতে বেগ পেতে হচ্ছে ক্রেতাসহ সুপার শপগুলোকে

প্রকাশ:  ০৮ এপ্রিল ২০২০, ০৯:১৪
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিশ্বজুড়ে ভয়াবহ আকার ধারণ করা প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে সোমবার (৬ এপ্রিল) রাজধানীর কাঁচাবাজার ও সুপার শপ প্রতিদিন সকাল ৬টায় খোলা এবং সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে বন্ধ করার বিশেষ নির্দেশনা দেয়া হয়। এতে সময় কমিয়ে দেওয়ার কারণে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে বেগ পেতে হচ্ছে সাধারণ ক্রেতাসহ সুপার শপগুলোকে।

সোমবার এক নির্দেশে বলা হয়, এখন থেকে ফার্মেসি ছাড়া সব দোকান সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে বন্ধ করতে হবে। স্বাভাবিক সময়ে এটি রাত ১০টা পর্যন্ত ছিল।

সুপার শপগুলোর কর্মীরা বলছেন, লম্বা সময় খোলা থাকলে ক্রেতারা নিজেদের মতো সময় করে নিয়ে আসেন। এখন সময় কমে যাওয়ায় ভিড় হয়ে থাকার শঙ্কা আছে। এতে করোনাভাইরাস ঠেকাতে যে সামাজিক দূরত্বের কথা বলা হচ্ছে, ক্রেতাদের মধ্যে সেই তিন ফুট ব্যবধান রাখতে খুবই কষ্ট হচ্ছে। যদিও আমরা আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করে সেটা নিশ্চিত করছি।

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) দুপুর আড়াইটায় ধানমন্ডি পুরনো ২৭ নম্বরে মীনা বাজারের সামনে দেখা গেল লম্বা লাইন। একটু দূরে নন্দনের সামনে দোকানের বাইরে লাইন না থাকলেও ভেতরে বিল কাউন্টারে দীর্ঘ লাইন। ২০ মিনিট ধরে শপের বাইরে অপেক্ষা করছিলেন ২৯ বছর বয়সী রেজওয়ান। সামনে দীর্ঘ লাইন থাকায় বাইরে চিহ্ন এঁকে দেওয়া জায়গাগুলো পার হচ্ছেন অল্প অল্প করে।

এই উদ্যোগটাকে স্বাগত জানালেও শপ খোলা রাখার সময় কমানোর যুক্তি পান না তিনি। বলেন, বাইরে রোদে কষ্ট হচ্ছে। কিন্তু এই নিয়মটা খুব ভালো হয়েছে। নির্দিষ্ট দূরত্বে দাঁড়িয়ে আমরা অপেক্ষা করছি। সামাজিক দূরত্ব মানাটা খুব জরুরি।

তিনি আরও বলেন, যদি হুট করে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত সময় নির্ধারণ না করে দেওয়া হতো তাহলে এতটা সময় নষ্ট হয় না। এখন এটুকু সময়ে সবাই এসে কাজ সারতে চায় বলে ভিড় লেগে থাকছে।

হাতে গ্লাভস, মুখে মাস্ক পরে মেইন গেটে ঢোকার সময় সিকিউরিটির দেওয়া স্যানিটাইজার দিয়ে হাত পরিষ্কার করে বেশ খুশি ফেরদৌস আরা। তিনি বলেন, কাঁচাবাজারের নোংরা ঠেলাঠেলি এড়াতে আমরা সুপার শপগুলোর দ্বারস্থ হই। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে যত উদ্যোগের কথা বলা হচ্ছে এরা সবক’টিই মানছে। কিন্তু কেবল কয়েক ঘণ্টা বিক্রির সময় কমিয়ে দেওয়ার কারণে ভিড়টা বেড়ে গেছে। তাহলে তো সেই একই শঙ্কা দেখা দিলো। সামাজিক দূরত্ব মানতে পারবে না মানুষজন। সেটা তো আমাদের সবার জন্য ক্ষতি।

স্বপ্ন সুপার শপের আউটলেট ইনচার্জ আলাল হোসেন বলেন, কয়েকদিন গেলে পরিস্থিতি বোঝা যাবে। আজ সকাল থেকেই অনেক ভিড়। আমাদের বাড়তি সতর্কতা নিতে হচ্ছে। এখন যেহেতু লকডাউন বেশিরভাগ জায়গায়, মানুষ জানে না কোথায় গেলে তারা সংক্রমণের শিকার হবে। ফলে তারা পরিচ্ছন্ন এবং ঝামেলামুক্ত জায়গায় যেতে চায়। সেখানে বিক্রির সময় কমিয়ে দেওয়াটা কতটা ঠিক সেটা নিশ্চয়ই বিবেচনায় নেওয়া হবে।

মীনা বাজারের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা সালাউদ্দিন বলেন, সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করার বিষয়ে আমরা ছাড় দেবো না। কিন্তু আজকে থেকে সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে আউটলেট বন্ধ করা হবে দেখে সারাদিন ভিড়ের পরিমাণ একই রকম। অন্য সময় সারাদিনে এত ভিড় হতো না। ফলে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করা সহজ হতো।

সময়সীমা নিয়ে সরকারের কাছ থেকে যে নির্দেশনা পেয়েছি সেটা মেনে চলবেন উল্লেখ করে সুপার মার্কেট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কাজী এনাম আহমেদ জানান, সময় কমিয়ে দেওয়ায় সামাজিক দূরত্ব রক্ষা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।

তিনি বলেন, গত এক মাস ধরে বাংলাদেশের সব সুপার মার্কেট ক্রেতাদের সুবিধার্থে যেভাবে সম্ভব স্বাস্থ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চেষ্টা করছে। বিশেষ করে কর্মীরা যেন নিরাপদ থাকে সেজন্য তাদের পরিচ্ছন্নতার বিষয়টিতে বাড়তি কাজ করেছি। দোকানে সব পর্যায়ে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করা হচ্ছে। সব সুপার মার্কেটে চেষ্টা করা হয়েছে চাল, ডাল, আলু, পেঁয়াজের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের যেন দাম না বাড়ে। ৭টার মধ্যে আউটলেট বন্ধ করার নির্দেশও মেনে চলা হবে। কিন্তু সময় চার ঘণ্টা কমে আসায় কিছু সমস্যা তৈরি হবে।

পূর্বপশ্চিমবিডি/অ-ভি

সুপার শপগুলো,ক্রেতা,সামাজিক দূরত্ব,করোনাভাইরাস
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close