• বুধবার, ০৩ জুন ২০২০, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭
  • ||

করোনার সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে ঢাকার ৫২ এলাকা লকডাউন

প্রকাশ:  ০৭ এপ্রিল ২০২০, ২২:২৭ | আপডেট : ০৭ এপ্রিল ২০২০, ২৩:৪১
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা কার্যত থমকে গেছে। প্রতিদিন করোনাভাইরাসে মৃত্যুর নতুন সংখ্যা মানুষের মনে আতঙ্ক যেন আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে ঢাকার ৫২টি এলাকা লকডাউন করা হয়েছে। এর মধ্যে মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) ১০টি এলাকা লকডাউন করা হয়। এসব এলাকার কেউ এখন বাইরে বের হতে পারবেন না, সেখানে কেউ ঢুকতেও পারবেন না। ঢাকা মহানগর পুলিশের পদস্থ কর্মকর্তারা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের উপকমিশনার মাসুদুর রহমান বলেন, যেসব এলাকায় রোগী পাওয়া যাচ্ছে, সেসব এলাকা লকডাউন করা হচ্ছে।

পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, রাজধানীতে সংক্রমণের শুরুর দিকে ঢাকায় মিরপুরের টোলারবাগে রোগী পাওয়ার পর ওই এলাকা আগেই লকডাউন করা হয়। এরপর একে একে পুরান ঢাকায় খাজে দেওয়ান লেনের ২০০ ভবন, মোহাম্মদপুর এবং আদাবরের ৬টি এলাকা, মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটের সামনে, তাজমহল রোড মিনার মসজিদ এলাকা, রাজিয়া সুলতানা রোড, বাবর রোডের একাংশ, বছিলা ও আদাবর এলাকার কয়েকটি বাড়ি ও রাস্তা। বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় এক নারী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর সেখানকার একটি রাস্তা লকডাউন করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশ সূত্র জানায়, আজ পর্যন্ত যেসব এলাকা লকডাউন করা হয় তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো মহাখালীর আরজত পাড়ার একটি ভবন, বসুন্ধরা এলাকার অ্যাপোলো হাসপাতালসংলগ্ন এলাকা, বসুন্ধরা ডি ব্লকের রোড-৫, বুয়েট এলাকার একাংশ, ইস্কাটনের দিলু রোডের একাংশ, মিরপুরের টোলারবাগ, উত্তরা ১৪ নম্বর সেক্টরের একটি সড়ক এলাকা, কাজীপাড়ার একটি অংশ, সেন্ট্রাল রোডের কিছু অংশ, সোয়ারীঘাটের কিছু অংশ, মিরপুর-১০-এর ৭ নম্বর রোড, পল্টনের কিছু অংশ, আশকোনার কিছু অংশ, নয়াটোলার একাংশ, সেনপাড়ার একটি অংশ, মীর হাজিরবাগের একাংশ, নন্দীপাড়ার ব্রিজের পাশের এলাকা, মিরপুর সেকশন ১১-এর একটি সড়ক, লালবাগের খাজে দেওয়ান রোডের একটি, ধানমন্ডি-৬-এর একটি অংশ, উত্তর টোলারবাগ, মিরপুর-১৩ ডেসকো কোয়ার্টার, দক্ষিণ যাত্রাবাড়ীর কুতুবখালী, পশ্চিম মানিকনগর, নারিন্দার কিছু এলাকা, গ্রিন লাইফ হাসপাতাল এলাকা, ইসলামপুরের একাংশ। এসব এলাকা পুলিশি পাহারায় থাকবে। দিনরাতে কাউকে চলাচল করতে দেওয়া হবে না। এলাকায় সব ধরনের দোকানপাট বন্ধ রাখা হবে।

পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, লকডাউনের আগে কেউ বাসার বাইরে থাকলে তিনি ভেতরে যেতে পারবেন। কিন্তু কেউ বের হতে পারবেন না। কেউ বের হতে চাইলে তাঁকে অনুমতি নিয়ে বের হতে হবে।

প্রসঙ্গত, সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে করোনা রোগী শনাক্ত হলেই পুরো এলাকা লকডাউন করার নির্দেশ দেওয়া হয়।গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও ৪১ জনের শরীরে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে মোট ১৬৪ জন করোনা রোগী শনাক্ত হলো বাংলাদেশে। এবং গত ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছেন পাঁচজন। এটা নিয়ে মৃতের সংখ্যা ১৭ জন। মঙ্গলবার দুপুরে করোনা ভাইরাস নিয়ে নিয়মিত অনলাইন সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) পরিচালক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা।

পূর্বপশ্চিমবিডি/জিএম

রাজধানী,লকডাউন,করোনা আতঙ্ক
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close