• সোমবার, ০১ জুন ২০২০, ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭
  • ||

ঢাকায় করোনায় মৃতদের দাফন হচ্ছে যেভাবে (ফটোস্টোরি)

প্রকাশ:  ০৭ এপ্রিল ২০২০, ০৩:০৬
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর খিলগাঁওয়ের তালতলা কবরস্থান প্রস্তুত রাখা হয়েছে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের জন্য। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ব্যবস্থাপনায় থাকা কবরস্থানটিতেই দাফন করা হচ্ছে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃতদের। জানাজাসহ ধর্মীয় বিধিবিধান মেনে লাশ দাফন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ডিএনসিসির কর্মকর্তারা। সরেজমিনে সোমবার (৬ মার্চ) এ কবরস্থানে গিয়ে এক ব্যক্তিকে দাফনেও ধর্মীয় বিধিবিধান মানতে দেখা গেছে।

জানা গেছে, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ব্যবস্থাপনায় কবরস্থান রয়েছে ৯টি। এর মধ্যে ডিএনসিসি ব্যবস্থাপনা করে ছয়টির। বাকি তিনটির ব্যবস্থাপনায় রয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। এসব কবরস্থানের মধ্যে খিলগাঁওয়ের তালতলায় তুলনামূলক কম মানুষের দাফন করা হয়। এ ছাড়া কবরস্থানটি রাজধানীর মাঝামাঝি এলাকায় হওয়ার কারণে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃতদের জন্য এই স্থানটি নির্ধারণ করা হয়েছে।

করোনায় মৃত দুজনকে আজিমপুর কবরস্থান ও দুইজনকে দাফন করা হয়েছে মিরপুরের বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে। করোনায় আক্রান্ত সন্দেহেসহ মৃত বাকিদের দাফন করা হয়েছে তালতলা কবরস্থানে। করোনা আক্রান্ত সন্দেহে দাফন করা হলেও এর মধ্যে আবার কয়েকজনের মারা যাওয়ার পর পরীক্ষায় করোনা ধরা পড়েনি।

তালতলা কবরস্থানে প্রথম করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া এক ব্যক্তির দাফন করা হয়েছিল ২৫ মার্চ রাত ৯টার দিকে। কিন্তু এই কবরস্থানে প্রথমে দাফন করতে দিচ্ছিলেন না স্থানীয় বাসিন্দারা। এতে আক্রান্ত হওয়া ব্যক্তিদের লাশ দাফন নিয়ে একটা জটিলতা তৈরি হয়। পরে ঢাকা উত্তর সিটি ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সাখাওয়াত হোসেন সওকত পুরো বিষয়টি নিজে থেকে তদারকি করেন।

এরপর ২৯ মার্চ রোববার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে তালতলা কবরস্থানে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত সন্দেহে এক নারীকে দাফন করা হয়। ৩১ মার্চ আরও এক ব্যক্তির মৃতদেহ দাফন করা হয় এ কবরস্থানে। ৪ এপ্রিল এক ব্যক্তিকে দাফন করতে দেখেছেন স্থানীয়রা। সর্বশেষ ৬ এপ্রিলও এক ব্যক্তিকে দাফন করতে দেখা গেঝে।

ডিএসসিসির প্রধান সমাজকল্যাণ কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহাদাৎ হোসেন বলেন, ‘খিলগাঁও কবরস্থানটির অবস্থান শহরের মাঝামাঝি। তাই হয়তো সরকার করোনায় মৃতদের দাফনের জন্য এই স্থান নির্ধারণ করেছে। কবরস্থানে কাজ করা সবার সুরক্ষাসামগ্রী রয়েছে।’

কবরস্থান ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা জানান, ডিএনসিসির নিয়োগপ্রাপ্ত কবরস্থান মসজিদের ইমামরা জানাজা পড়ানোর মাধ্যমে করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের দাফন করা হচ্ছে। কাউকেই জানাজা ছাড়া কবরস্থ করা হয়নি। তবে কাউকে কাউকে কফিনসহ কবরস্থ করা হয়েছে। আবার কাউকে কবর দেওয়া হয়েছে সাদা পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায়।

মৃতদেহের কাছাকাছি যাওয়ার ব্যাপারে সাবধানতা অবলম্বন করছেন সিটি করপোরেশনের কর্মীরা। এ ছাড়া যারা মৃতদেহের কাছাকাছি যাচ্ছেন তাদের ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জামাদি (পিপিই) দেওয়া হয়েছে সিটি করপোরেশন থেকে।

খিলগাঁও তালতলা কবরস্থান মসজিদের ইমাম মাওলানা মো. ফেরদৌস হোসেন বলেন, ‘কোনো মুসলমানকে জানাজা ছাড়া কবর দেওয়া হচ্ছে না। আমি নিজেই জানাজা পড়াই। আমি জানাজায় থাকতে না পারলে মাওলানা মো. নাছির উদ্দিন করোনায় আক্রান্তদের জানাজা পড়ান। এ ছাড়া ধর্মীয় অনুশাসন মেনেই সবাইকে সমাহিত করা হচ্ছে।’

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের তিন নম্বর অঞ্চলের সহকারী সমাজকল্যাণ কর্মকর্তা মো. আসাদ বলেন, ‘করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের কাছাকাছি যারা যান তারা সবাই পিপিই পরে যান। সিটি করপোরেশন থেকে পিপিই দেওয়া হয়েছে। আর সবাইকে ধর্মীয় বিধান মেনে কবর দেওয়া হচ্ছে।’

(রাজধানীর খিলগাঁওয়ের তালতলা কবরস্থান থেকে ছবিগুলো সোমবার তোলা)

পূর্বপশ্চিমবিডি/এসএস

করোনাভাইরাস,দাফন,ঢাকা,রাজধানী
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close