• বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২০, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭
  • ||

এফডিএসআরের বিনামূল্যের টেলিমেডিসিন সেবায় ৮১ চিকিৎসক

প্রকাশ:  ০২ এপ্রিল ২০২০, ০৯:৫৬
নিজস্ব প্রতিবেদক

করোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে করোনায় আক্রান্ত রোগী ছাড়াও অন্য যে কোনো রোগীকে বিনামূল্যে টেলিমেডিসিন সেবা দিচ্ছে চিকিৎসকদের সংগঠন ফাউন্ডেশন ফর ডক্টরস সেফটি, রাইটস অ্যান্ড রেসপনসিবিলিটিজ (এফডিএসআর)। ২৬ মার্চ থেকে এই সেবা দিচ্ছে সংগঠনটি। শুরুতে এই সেবার যুক্ত ছিলেন ৫০ জন চিকিৎসক। এখন এতে যুক্ত আছেন ৮১ জন। বেড়েছে সেবার পরিধিও।

এফডিএসআরের যুগ্ম মহাসচিব ডা. রাহাত আনোয়ার চৌধুরী বলেন, ২৬ মার্চ এফডিএসআর বিনামূল্যে টেলিফোনের মাধ্যমে দেশের মানুষদের চিকিৎসা সেবা ও পরামর্শ দেয়ার উদ্যোগ নেয়। এর পর থেকেই বাড়ছে সেবাগ্রহীতাদের সংখ্যা। শুরুতে ৫০ জন চিকিৎসক এর সঙ্গে যুক্ত থাকলেও এখন আছেন ৮১ জন। আগের চেয়ে অনেকটাই সুশৃঙ্খলভাবে টেলিমেডিসিন সেবা দেয়া হচ্ছে।

ডা. রাহাত আনোয়ার চৌধুরী জানান, প্রতিদিন ছয়টা শিফটে সেবা দেয়া হচ্ছে। সকাল আটটা থেকে রাত ২ টা পর্যন্ত ৮১ জন চিকিৎসক টেলিফোনের মাধ্যমে যেকোনো রোগের ব্যবস্থাপত্র, পরামর্শ দিয়ে আসছেন।

ইমার্জেন্সি ব্যাতীত যেসব রোগী দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আছেন, অথচ হোম কোয়ারেন্টাইন বা আইসোলেশনে থাকার কারণে ঘর থেকে বের হতে পারছেন না তাদের টেলিফোনের মাধ্যমে চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেয়া হচ্ছে বলে জানান ডা. রাহাত।

তিনি বলেন, জ্বর, সর্দি-কাশি কিংবা যেকোনো আক্রান্ত ব্যক্তি সংক্রমণের ভয়ে চিকিৎসা কেন্দ্রে যেতে ভয় পাচ্ছেন। অপর দিকে এখন অনেকেই আইসোলেশন কিংবা হোম কোয়ারেন্টিনে আছেন। টেলিফোনের মাধ্যমে তাদের চিকিৎসা পরামর্শ দেয়ার জন্য এই উদ্যোগ। করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে সরকার ঘোষিত ছুটির মধ্যে সার্বক্ষণিকভাবে এফডিএসআরের চিকিৎসা ও পরামর্শ নেয়া যাবে।

সংগঠনটির মহাসচিব ডা. শেখ আব্দুল্লাহ আল মামুনবলেন, এখন তো সারাদেশে সরকারি-বেসরকারি ছুটি চলছে। এটা একরকম লকডাউনের মতোই চলছে বলা চলে। কারণ মানুষকে ঘর থেকে বেরোতে নিষেধ করা হয়েছে। এই অবস্থায় মানুষ শুধু যে করোনা আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে আছে তা নয়, অন্য যেকোনো রোগেও আক্রান্ত হতে পারে। তারা অনেকে ভয়ে হাসপাতালে যেতে চাইবেন না। আবার অনেক হাসপাতালে পর্যাপ্ত চিকিৎসকেরও অভাব থাকতে পারে। এই সংকট সময়ের কথা চিন্তা করেই আমরা জরুরি অবস্থা ব্যতিত অন্যান্য ক্ষেত্রে টেলিফোনে স্বাস্থ্যসেবা বা পরামর্শ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছি। ফার্মেসিগুলো খোলা আছে। যথাযথ পরামর্শ পেলে রোগীরা হয়তো প্রয়োজনীয় ওষুধটি কিনে নিতে পারবেন। এই চিন্তা থেকেই এই উদ্যোগ।

এফডিএসআর ডাক্তারদের নিয়ে একটি অরাজনৈতিক সংগঠন। ২০১৯ সালের এপ্রিলে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। এর সঙ্গে প্রায় ৪০ হাজার ডাক্তার যুক্ত আছেন। এর আগে বাংলাদেশে যখন ডেঙ্গু মহামারি আকার ধারণ করেছিল তখনও আমরা ফ্রিতে সেবা দিয়েছি। যেকোনো দুর্যোগের সময় মানুষের পাশে আছি।

এফডিএসআরের টেলিমেডিসিন সেবায় বিভিন্ন বিষয়ে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার রয়েছেন। তাদেরকে ফোন দিয়ে রোগ অনুযায়ী ব্যবস্থাপত্র ও পরামর্শ নেয়া যাবে। চিকিৎসরা রোগীর অবস্থা বুঝে তাকে পরবর্তী নির্দেশনা দেবেন।

জ্বর-সর্দি, কাশি, গাইনি, নাক-কান-গলা, চক্ষু, শিশু, মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ, মেডিসিনসহ ৫০ জনের একটি বিশেষজ্ঞ দল স্বেচ্ছায় এবং বিনা পারিশ্রমিকে জনগণকে পরামর্শ প্রদান করবেন।

এফডিসিআরের সকালের শিফটের (৮টা-১০টা) কো-অর্ডিনেটর ডা. পারিসা জামিল তপ। তার সঙ্গে যোগাযোগের মোবাইল ফোন নম্বর-০১৭২৪০১৮২১৯। এর পরের শিফট ১০ টা থেকে শুরু হয়ে চলে ২টা পর্যন্ত। এই শিফটেরও দায়িত্বে আছেন ডা. পারিসা জামিল তপ।

বেলা ২টা থেকে তিনটা পর্যন্ত চলমান শিফটের দায়িত্বে আছেন ডা. নাজমুল হোসেন নিপু। তার সঙ্গে যোগাযোগের মোবাইল ফোন নম্বর-০১৭৩৩৭৬৪৬৬৪।

সন্ধ্যা ছয়টা থেকে রাত ১০টার শিফটের কো-অর্ডিনেটর এহসান খান। তার সঙ্গে যোগাযোগের মোবাইল ফোন নম্বর-০১৯১৬৮৯৬৪৯০।

রাত ১০ টা থেকে রাত ১২ টা পর্যন্ত চলমান শিফটের দায়িত্বে আছেন বেনজির বুশরা। তার সঙ্গে যোগাযোগ করা যাবে এই মোবাইল ফোন নম্বরে-০১৮৭৯৫৪৫৮৮৭।

দিনের শেষ শিফট রাত ১২ টায় শুরু হয়ে চলে রাত ২ টা পর্যন্ত। এই শিফটের দায়িত্বে আছে ডা. রাহাত আনোয়ার চৌধুরী। তার সঙ্গে যোগাযোগ করা যাবে এই মোবাইল ফোন নম্বরে- ০১৭১৬১৫১৭২৬, ০১৭৬১৯২৪৯৯৯ এই দু'টো নম্বরে।

এছাড়া সংগঠনটি 'করোনা বার্তা' নামক একটি পাবলিক ফেসবুক গ্রুপ খুলেছে, যেখানে টেলিমেডিসিন এর প্রতিটি শিফটের সব তথ্য দেয়া আছে।

পূর্বপশ্চিমবিডি/এসএম

করোনাভাইরাস,এফডিএসআর
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close