• শুক্রবার, ২৯ মে ২০২০, ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭
  • ||

ক্রেতা শূন্য বাজার, পচে যাচ্ছে তরিতরকারি

প্রকাশ:  ৩১ মার্চ ২০২০, ১২:৫২
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিশ্বজুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করা প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের প্রভাব পড়েছে রাজধানীর কাঁচাবাজারে। উচ্চমাত্রার ছোঁয়াচে এ রোগের আতঙ্কে রাজধানীসহ সারাদেশে অঘোষিত লকডাউন চলছে। গণপরিবহন বন্ধ থাকলেও পণ্যবাহী ট্রাকসহ অন্যান্য পরিবহন চালু রয়েছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিদিনই রাজধানীর বিভিন্ন পাইকারি বাজারে বেগুন, টমেটো, চিচিঙ্গা, পটল, লাউ ও কুমড়াসহ বিভিন্ন তরিতরকারির চালান আসছে।

রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজারে পর্য়াপ্ত তরিতরকারি থাকলেও টানা ১০দিনের সরকারি ছুটিতে লাখ লাখ মানুষ গ্রামে ফিরে যাওয়ায় এবং করোনা ভীতিতে নগরবাসিন্দা খুব বেশি প্রয়োজন না হলে বাজারমুখী না হওয়ায় বিক্রি আশঙ্কাজনকহারে কমে গেছে। অধিকাংশ তরিতরকারি দ্রুত পচনশীল হওয়ায প্রান্তিক চাষি থেকে বাজারে আসার পর স্বল্প সময়ের মধ্যে পচে যাচ্ছে। ফলে তরিতরকারি ব্যবসায়ীরা দুঃশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সকালে সরেজমিন রাজধানীর কারওয়ানবাজার ঘুরে দেখা গেছে, ঢাকা সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নকর্মীরা বাজার থেকে পচে যাওয়া তরিতরকারি ছোট ছোট ময়লার ঠেলাগাড়িতে তুলে নিয়ে যাচ্ছেন। একটি ঠেলাগাড়ি ভর্তি চিচিঙ্গা দেখা যায়। প্রথম দৃষ্টিতে মনে হবে কেউ বোধহয় চিচিঙ্গাগুলো বিক্রির জন্য গাড়িতে রেখেছে।

একজন পরিচ্ছন্ন কর্মী জানালেন, কারওয়ানবাজার থেকে প্রতিদিনই পচে যাওয়া তরিতরকারি বর্জ্যবাহী গাড়িতে করে নিয়ে যাচ্ছেন। ইতোপূর্বে কখনও এত তরিতরকারি পচে যেতে ও ফেলে যেতে দেখেননি।

বাজারের একজন বেগুন ব্যবসায়ীকে ১০ টাকা কেজি দরে বেগুণ বিক্রি করতে দেখা যায়। এ সময় বিক্রেতা কয়েকজন ক্রেতাকে উদ্দেশ্যে করে বলছিলেন , ঢাকা শহরে ১০ টাকা কেজিতে বেগুণ বিক্রি করতে হচ্ছে, করোনার কারণে এমন দিনও দেখতে হলো রে।

বিভিন্ন পাড়ামহল্লার ভ্যানগাড়িতে করে জীবিকা নির্বাহ করেন অসংখ্য ক্ষুদ্র তরিতরকারি ব্যবসায়ী।

এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে তারা জানান, ক্রেতার অভাবে তারাও তরিতরকারি বিক্রি করতে পারছেন না। পাইকারি বাজার থেকে বিক্রির জন্য খুব অল্প করে তরিতরকারি আনলেও তা বিক্রি হচ্ছে না।

এ অবস্থা চলতে থাকলে পরিবার-পরিজন নিয়ে জীবন বাঁচানো মুশকিল হয়ে পড়বে বলে মন্তব্য করেন তারা।

পূর্বপশ্চিমবিডি/ইমি

করোনাভাইরাস,রাজধানী
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close