• মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২০, ২৪ চৈত্র ১৪২৬
  • ||

মানুষকে ঘরে রাখতে তৎপর সেনাবাহিনী

প্রকাশ:  ২৬ মার্চ ২০২০, ২১:৫৩ | আপডেট : ২৬ মার্চ ২০২০, ২২:১৩
নিজস্ব প্রতিবেদক

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ও বিস্তৃতির ঝুঁকি বিবেচনায় বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) দিনভর সারাদেশে কার্যক্রম চালিয়েছে সেনাবাহিনী। এরমধ্যে কোথায়ও মাইকিং করে বাইরে অযথা চলাচলরতদের ঘরে ঢুকানো, একজনের বেশি একসঙ্গে চলাচল না করা, রিকশায় একজনের বেশি না ওঠা নিশ্চিত করা সহ বিভিন্ন কার্যক্রম চোখে পড়ার মতো ছিল। সাধারণ মানুষও এসব কার্যক্রমকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে সেনাবাহিনীর নানা কার্যক্রম চোখে পড়ে। সকাল ১০টা। রাজধানীর মুগদা বিশ্বরোড এলাকায় সরেজমিনে দেখা গেছে সড়কে পুলিশের একটি গাড়ি থেকে মাইকিং করে জানানো হচ্ছে, বিনা কারণে বাইরে কেউ বের হবেন না, বাসায় চলে যান। বাইরে কেউ ভিড় করবেন না, ঘরে অবস্থান করুন। তার পেছনেই দেখতে পাওয়া যায় সেনাবাহিনীর দুটি গাড়ি। সেনাবাহিনীর গাড়ি দেখে যারা বাইরে ছিলেন, তারাও চলে যান বাসায়।

সাড়ে ১১টায় রাজধানীর দয়াগঞ্জ এলাকায় সেনাবাহিনীর দুটি গাড়ি এসে থামে। সেসময় ওই স্থানে একসঙ্গে চারজন লোক পাশাপাশি হেঁটে যাচ্ছিলেন। তাদের মুখে কোনো মাস্ক ছিল না। তাদের থামিয়ে পাশাপাশি না হেঁটে দূরত্ব বজায় রেখে দ্রুত বাসায় যেতে বললে, তারা চলে যান।

বিকেল সাড়ে ৪টায় রাজধানীর কাকরাইল মোড় এলাকায় একটি রিকশায় দুজন যাত্রী যাচ্ছিলেন। রিকশাটিকে থামিয়ে একজনকে নামিয়ে দেয় সেনা সদস্যরা। আরেকজনকে নিয়ে রিকশাওয়ালাকে যেতে বলেন সেনাসদস্যরা। এমন ঘটনা দিনভর সরেজমিনে দেখতে পাওয়া যায় রাজধানীজুড়ে।

এদিকে সড়কে সেনা সদস্যদের এমন টহল দেওয়াকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ। সুত্রাপুরের মুদি দোকানী সাব্বির আহমেদ বলেন, সেনা সদস্যরা মাঠে থাকার কারণে লোকজন বাইরে বের হতে ভয় পাচ্ছেন। এতে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধ করা সম্ভব হবে। কেউ অকারণে ঘর থেকে বাইরে বের হচ্ছেন না। মানুষ স্বস্তিবোধ করছে। তারা থাকলে ফাঁকা শহরে অপরাধের ঝুঁকিও কমে যাবে।

মতিঝিল ফকিরাপুলের বাসিন্দা আব্দুল আজিজ বলেন, সরকারি নির্দেশনা অনেকে মানছিল না। তবে সেনা সদস্যরা থাকায় যেকোনো উপায়ে সরকারি নির্দেশনা মেনে চলেছে সাধারণ মানুষ। জরুরী প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন না।

এদিকে আন্তঃবাহিনী পরিদফতর (আইএসপিআর) থেকে জানানো হয়েছে, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ এড়াতে রাজধানীসহ সারাদেশের মোট ৬১টি জেলায় বুধবার থেকে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা কাজ করছেন। বৃহস্পতিবার সেনাবাহিনীর ২৯০টি দল দেশের ৬১ টি জেলায় করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে একযোগে কাজ করেছে। বাইরে কোনো ক্যাম্প স্থাপন না করেই স্থানীয় সেনানিবাস থেকেই এই কার্যক্রম পরিচালনা করছে সেনাবাহিনী।

আন্তঃবাহিনী পরিদফতর থেকে আরও জানানো হয়, জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের সমন্বয়ে সেনাবাহিনী বিভাগীয় ও জেলা শহরগুলোতে সামাজিক দূরত্ব ও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সাধারণ জনগণকে উৎসাহিত করছে। পাশাপাশি তারা বিদেশ ফেরত ব্যক্তিদের বাধ্যতামূলক কোয়ারেনটাইনে থাকার বিষয়টিও পর্যবেক্ষণ করছে। বর্তমানে সারাদেশে এই কার্যক্রমে সেনাবাহিনীর আড়াই হাজারের অধিক সদস্য নিয়োজিত রয়েছেন।

প্রসঙ্গত, দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। মোট আক্রান্ত ৪৪ জনের মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন সাতজন। আক্রান্ত বাকিদের মধ্যে কেউ কেউ নিজ নিজ বাড়িতে আইসোলেশনের আছেন। বেশিরভাগই আছেন রাষ্ট্রীয়ভাবে আইসোলেশনে। নতুন আক্রান্ত পাঁচজনের মধ্যে একজন বিদেশ থেকে এসেছেন। তিনজন সংস্পর্শে এসে আক্রান্ত হয়েছেন। আক্রান্ত সবাই পুরুষ। এ নিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ালো ৪৪।

সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বৃহস্পতিবার বলেন, ‘গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১২৬ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে পাঁচ জনের মধ্যে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত করা গেছে। এ পর্যন্ত সর্বমোট ৯২০ জনের নমুন পরীক্ষা করা হলো।’

ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, ‘গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত চারজন সুস্থ হয়ে উঠেছেন। ফলে এই ভাইরাসে আক্রান্ত মোট ১১ জন সুস্থ হয়ে উঠলেন। এছাড়া পাঁচজন মারা গেছেন। আর বাকিরা হাসপাতাল ও বাসায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ’

পূর্বপশ্চিমবিডি/এসএস

সেনাবাহিনী,করোনাভাইরাস
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close