• সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২০, ২২ আষাঢ় ১৪২৭
  • ||

দেশে হোম কোয়ারেন্টিন শেষ করলেন ২১ হাজার প্রবাসী

প্রকাশ:  ২৬ মার্চ ২০২০, ০২:০৩
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশজুড়ে চলছে করোনাভাইরাস আতঙ্ক। সরকারের নির্দ্দেশনা রয়েছে বেশি লোক সমাগম, হ্যান্ডশেক বা কোলাকুলি থেকে বিরত থাকার। চলতি মাসে বিদেশ থেকে ফেরা ২১ হাজার প্রবাসী তাদের ‘হোম কোয়ারেন্টিন’ (সঙ্গ–নিরোধ) শেষ করেছেন। তাদের শরীরে অসুস্থতার লক্ষণ পাওয়া যায়নি। এখনো কোয়ারেন্টিনে আছেন ৪৮ হাজার জন। পুলিশ সদর দপ্তর এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

পুলিশের হিসাব অনুযায়ী, ১ মার্চ থেকে ২ লাখ ৯৩ হাজার প্রবাসী দেশে এসেছেন। তাঁদের মধ্যে এখন পর্যন্ত পুলিশ ৬৯ হাজারের ঠিকানা পেয়েছে।

এর আগে, পুলিশ সদর দপ্তরের কর্মকর্তারা প্রথম আলোকে বলেছিলেন, জানুয়ারি থেকে সাড়ে ছয় লাখ মানুষ দেশে এসেছেন। এর মধ্যে মার্চ মাসের প্রথম ২০ দিনেই এসেছেন ২ লাখ ৯৩ হাজার। আজ বুধবারও এসেছেন ৮৭৩ জন, যাদের ৮০৯ জনই প্রবাসী। অনেকে দেশে আসার সময় সঠিক ঠিকানা না দেওয়া এবং পাসপোর্টের ঠিকানায় অবস্থান না করার কারণে ফিরে আসা লোককে খুঁজে পাচ্ছে না পুলিশ।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানিয়েছে, বিদেশফেরত যেসব ব্যক্তি কোয়ারেন্টিনের ব্যাপারে সরকারি নির্দেশনা না মেনে অন্যদের ঝুঁকির মধ্যে ফেলছেন, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এরপর পুলিশের বিশেষ শাখা মার্চ মাসে যাঁরা দেশে এসেছেন, তাঁদের তালিকা প্রস্তুত করে।

দেশে ফেরা লোকজন কোয়ারেন্টিনের নিয়মকানুন সঠিকভাবে অনুসরণ করছেন কি না, তা জানতে পুলিশ তাদের বাড়ি বাড়ি যাচ্ছে। কোয়ারেন্টিনের শর্তভঙ্গের দায়ে মুন্সিগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, মাদারীপুর, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী ও ঝালকাঠিতে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

আজ পুলিশ সদর দপ্তরের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দেশে ফেরা বেশির ভাগ প্রবাসীই তাদের পাসপোর্টে উল্লিখিত ঠিকানায় অবস্থান করছেন না। তাদের অনেকেই সরকারের নির্দেশ অমান্য করে ঘোরাফেরা করছেন, যা বর্তমান পরিস্থিতিতে নিজেদের এবং সাধারণ জনগণের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এ অবস্থায় ১ মার্চ থেকে বিদেশফেরত প্রবাসীদের তাদের বর্তমান অবস্থান (ঠিকানা ও মুঠোফোন নম্বর) কাছের থানা অথবা ৯৯৯–এ যোগাযোগ করে জানাতে হবে। তা না করলে তাঁদের বিরুদ্ধে ‘সংক্রামক রোগ (প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল) আইন-২০১৮ অনুসারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে তাদের পাসপোর্ট স্থগিত হতে পারে।

জানতে চাইলে পুলিশ সদর দপ্তরের মুখপাত্র এআইজি সোহেল রানা বলেন, করোনার প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে দেশের বিভিন্ন স্থানে জনসমাগম বন্ধ করেছে পুলিশ। মানুষকে সচেতন করছে, তাদের সহায়তা দিচ্ছে। আবার এ ক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম পরিলক্ষিত হলে নিয়ম লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হচ্ছে।

এর আগে বুধবার সরকারের রোগতত্ত্ব ও রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেছেন, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে কেউ আক্রান্ত হয়নি।এ পর্যন্ত মোট রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে ৩৯ জন হয়েছে। মোট মারা গেছেন পাঁচজন। এর মধ্যে সবশেষ যিনি মারা গেছেন তার বয়স ৬৫ বছর। তিনি একজন বিদেশফেরতের সংস্পর্শে এসেছিলেন।

পূর্বপশ্চিমবিডি/জিএম

করোনাভাইরাস,স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়,হোম কোয়ারেন্টিন,প্রবাসী
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close