• সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২০, ১৬ চৈত্র ১৪২৬
  • ||

‘অনুসন্ধান ও তদন্তে রাজনৈতিক পরিচয় দেখে না দুদক’

প্রকাশ:  ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০৩:০৩
নিজস্ব প্রতিবেদক

‘দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) একটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠান, এটি স্বাধীনভাবেই কাজ করছে। দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধান ও তদন্তের ক্ষেত্রে এ সংস্থা কারও রাজনৈতিক পরিচয় দেখে না। রাজনৈতিকভাবে দুদক ব্যবহৃত হয় না, রাজনৈতিক দল দেখে কাউকে হয়রানিও করে না। দুদকের কাজের মধ্যেই তা স্পষ্ট। এমপি থেকে শুরু করে সাবেক মন্ত্রী, ক্ষমতাসীন দলের অনেক উচ্চপর্যায়ের নেতাকেও আইন-আমলে এনেছে দুদক।'

দুদকের ওপর ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) গবেষণা প্রতিবেদনের প্রতিক্রিয়ায় এসব কথা বলেছেন কমিশনের সচিব মুহাম্মদ দিলোয়ার বখ্‌ত। রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে টিআইবির গবেষণা প্রতিবেদন প্রসঙ্গে বুধবার সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন তিনি। এর আগে মঙ্গলবার টিআইবি 'দুর্নীতিবিরোধী প্রতিষ্ঠান শক্তিশালীকরণ উদ্যোগ: বাংলাদেশ দুর্নীতি দমন কমিশনের ওপর ফলোআপ গবেষণা' শীর্ষক ওই প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

দুদক সচিব বলেন, ওই গবেষণায় দুদকের স্কোর উচ্চশ্রেণি থেকে মাত্র ৭ ভাগ কম। আমরা প্রত্যাশা করি, সবার সহযোগিতায় কমিশন অচিরেই উচ্চশ্রেণিতে পৌঁছবে। তিনি বলেন, গবেষণা প্রতিবেদনটি পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, কোনো কোনো সূচকে বস্তুনিষ্ঠ তথ্যের প্রতিফলন ঘটেনি। গবেষণায় টিআইবি বলেছে, বড় দুর্নীতিবাজদের ধরার ক্ষেত্রে দুদকের দৃশ্যমান সাফল্য নেই। আবার একই গবেষণায় টিআইবি প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তদন্তে দুদককে উচ্চ স্কোর দিয়েছে।

দিলোয়ার বখ্‌ত আরও বলেন, টিআইবির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুদক রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার হচ্ছে ও রাজনৈতিক পক্ষকে হয়রানি করছে। এ বক্তব্যের প্রকৃত সত্য প্রকাশ করা দরকার। দুদক বর্তমানে যাদের বিষয়ে অনুসন্ধান করছে তাদের রাজনৈতিক পরিচয় যদিও দুদকের কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়, তার পরও টিআইবির গবেষণায় যেহেতু বিষয়টি এসেছে, তাই আমরা যদি এদের রাজনৈতিক পরিচয় লক্ষ্য করি, তাহলে দেখা যাবে বেশির ভাগই বর্তমান সরকারি দলের নেতাকর্মী। এমপি থেকে শুরু করে সাবেক মন্ত্রী, ক্ষমতাসীন দলের অনেক উচ্চপর্যায়ের নেতাকে আইন-আমলে আনা হয়েছে। ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দর্শনের বিরোধী কতজনকে কমিশন প্রসিকিউট করেছে, তার পরিসংখ্যান টিআইবির উপস্থাপন করা উচিত ছিল।

দুদক সচিব বলেন, কমিশনের স্বাধীনতা নিয়ে কথা বলা হয়েছে। কিন্তু কথা হচ্ছে, কমিশনের সিদ্ধান্তে কীভাবে হস্তক্ষেপ হয় তা আমাদের বোধগম্য নয়। কমিশনের বর্তমান নেতৃত্ব দুদকের স্বাধীনতা শতভাগ নিশ্চিতকল্পে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

তিনি আরও বলেন, কমিশনের জনআস্থা যদি না-ই বাড়ে, তাহলে ২০১৫ সালে যেখানে অভিযোগ ছিল মাত্র ১০ হাজার ৪১৫টি, সেখান থেকে অভিযোগের মাত্রা ক্রমাগতভাবে এত বাড়ত না।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে দুদক সচিব বলেন, টিআইবি দুদকের অন্যতম সহযোগী। তারা যেসব তথ্য চেয়েছে, সবই কমিশন থেকে দেওয়া হয়েছে। সমালোচনা যেন বাস্তবসম্মত ও গঠনমূলক হয় এবং টিআইবি দুদকের ভালো কাজের কথাও বলুক- এ প্রত্যাশা কমিশনের।

পূর্বপশ্চিম/ এনই

দুদক,টিআইবি,দুদকের হয়রানি
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
Latest news
close