• রোববার, ২৪ জানুয়ারি ২০২১, ১০ মাঘ ১৪২৭
  • ||

এনু-রুপনের বাড়িতে টাকা আর টাকা, সোনা আর সোনা

প্রকাশ:  ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১১:১৮ | আপডেট : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৯:৩৩
নিজস্ব প্রতিবেদক

ক্যাসিনোয় জড়িত দুই ভাই এনামুল হক এনু ও রূপন ভূঁইয়ার পুরান ঢাকার একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ৫টি সিন্দুকে মোট ২৬ কোটি ৫৫ লাখেরও বেশি টাকা, এক কেজি সোনা ও অসংখ্য বিদেশি মুদ্রা উদ্ধার করেছে র‌্যাব। সোমবার মধ্যরাতে শুরু হওয়া এই অভিযান মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে শেষ ঘোষণা করা হয়। এসময় র‌্যাব-৩ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল রকিবুল হাসান এসব তথ্য জানিয়েছেন।

দুপুরে ঘটনাস্থলেই সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন এই র‌্যাব কর্মকর্তা। তিনি জানান, ওই বাসা থেকে মোট ২৬ কোটি ৫৫ লাখ ৬শ টাকা পাওয়া গেছে।

উদ্ধার জিনিসপত্রের ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘নগদ টাকা ছাড়াও ৫ কোটি ১৫ লাখ মূল্যমানের এফডিআর, এক কেজি সোনা, ৯ হাজার ৩০০ ইউএস ডলার, ৫ হাজার ৩৫০ ভারতীয় রুপি, এক হাজার একশ’ ৯৫ চীনের ইয়েন, এক হাজার ৫৬০ থাই মুদ্রা, একশ’ ইউএই দিরহাম উদ্ধার করা হয়েছে।’

র‌্যাব কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘২০১৯ সালে শুরু হওয়া দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের চলমান অভিযান এটি। আমরা সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার সময় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অপারেশন শুরু করি।’

সবকিছু থানায় জমা দেওয়া হবে উল্লেখ করে এই কর্মকর্তা বলেন, ‘থানা নিয়মানুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দেবে।’

তবে এই টাকার উৎস কী বা কোথায় থেকে এলো সে সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

লে. কর্নেল রকিবুল হাসান বলেছেন, ‘এই টাকা কিসের, তা পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে বের করতে হবে। আমরা মাত্রই সন্ধান পেলাম। তদন্ত শেষে সাংবাদিকদের বিস্তারিত জানানো হবে।’

প্রসঙ্গত, এনামুল হক এনু ও রূপন ভূঁইয়া এখন কারাগারে। গত বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর তাদের বাসায় অভিযান চালিয়ে পাঁচ কোটি টাকা এবং সাড়ে সাত কেজি সোনা উদ্ধার করা হয়। এরপর সূত্রাপুর ও গেণ্ডারিয়া থানায় তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলাও হয়। ক্যাসিনো কারবারি এই দুই ভাইকে জানুয়ারি মাসে গ্রেপ্তার করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

এনামুল ও রূপন গত ছয় থেকে সাত বছরে পুরান ঢাকায় বাড়ি কিনেছেন কমপক্ষে ১২টি। ফ্ল্যাট কিনেছেন ৬টি। পুরোনো বাড়িসহ কেনা জমিতে গড়ে তুলেছেন নতুন নতুন ইমারত। স্থানীয় লোকজন জানান, এই দুই ভাইয়ের মূল পেশা জুয়া। আর নেশা হলো বাড়ি কেনা।

জুয়ার টাকায় এনামুল ও রূপন কেবল বাড়ি ও ফ্ল্যাটই কেনেননি, ক্ষমতাসীন দলের পদও কেনেন বলে জানা যায়।

২০১৮ সালে এনামুল পান গেন্ডারিয়া থানা আওয়ামী লীগের সহসভাপতির পদ। আর রূপন পান যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের পদ। তাদের পরিবারের পাঁচসদস্য, ঘনিষ্ঠজনসহ মোট ১৭ জন আওয়ামী লীগ ও যুবলীগে পদ পান। তারা সরকারি দলের এসব পদ-পদবি জুয়া ও ক্যাসিনো কারবার নির্বিঘ্নে চালানোর ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে আসছিলেন বলে স্থানীয় লোকজন জানান।


পূর্বপশ্চিমবিডি/এসএম

এনামুল হক এনু,রুপন ভূঁইয়া,ক্যাসিনো,র‌্যাব,সিন্দুক
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
cdbl
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close