• শনিবার, ০৪ এপ্রিল ২০২০, ২১ চৈত্র ১৪২৬
  • ||

ধনকুবের এমপির বিরুদ্ধে মানব পাচারের অভিযোগ তদন্তের অনুরোধ কাদেরের

প্রকাশ:  ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০২:০৫
নিজস্ব প্রতিবেদক

লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য কাজী শহীদ ইসলাম পাপুলের বিরুদ্ধে মানব পাচারের অভিযোগ তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। এ ব্যাপারে তিনি দুর্নীতি দমন কমিশনকে তদন্তের অনুরোধ জানাবেন বলেও জানান কাদের।

রোববার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে কাদের তার কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এই কথা জানান। তিনি বলেন, দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে (শহীদ ইসলামের বিরুদ্ধে)।

কুয়েতে মানব পাচারে যুক্ত বাংলাদেশের তিন পাচারকারীর একজন কাজী শহিদ ইসলাম—এমন খবর গণমাধ্যমে আসার পর এই মন্তব্য করলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।

কুয়েতের গণমাধ্যমের খবরে জানানো হয়, ওই মানব পাচারকারীদের ধরতে অভিযান শুরু হওয়ার আগ মুহূর্তে তিনি পালিয়েছেন। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে উদ্ধৃত করে দৈনিক আল কাবাস, এমবিএস নিউজ ও আরব টাইমস—এর প্রতিবেদনে এই কথা জানিয়েছে। তবে কুয়েতি গণমাধ্যমে বাংলাদেশিদের নাম উল্লেখ না করে বলা হয়, তাদের একজন বাংলাদেশের সংসদ সদস্য। কুয়েতে বাংলাদেশ দূতাবাসে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অভিযুক্ত সাংসদের নাম কাজী শহিদ ইসলাম ওরফে পাপুল।

কুয়েতে একটি ক্লিনিং কোম্পানির সুপারভাইজার থেকে অবৈধভাবে কোটিপতি বনে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে এমপি পাপুলের বিরুদ্ধে। কুয়েত সিআইডির দাবি, অন্তত ২০ হাজার মানুষকে কুয়েতে পাচার করে চক্রটি এক হাজার ৪০০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।

তবে কুয়েতের সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। কুয়েতের সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনের বলা হয়, এই বাংলাদেশি সংসদ সদস্য কুয়েতে অবৈধ ভিসা ব্যবসায় জড়িত। মানবপাচার ও অবৈধ ভিসা ব্যবসায় জড়িত যে তিন বাংলাদেশিকে কুয়েতের নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ খুঁজছেন, তাদের মধ্যে ওই সংসদ সদস্যও রয়েছেন।

নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাত দিয়ে এসব সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, কুয়েতের একটি শীর্ষ পর্যায়ের ক্লিনিং কোম্পানিতে সুপারভাইজার হিসেবে কাজ শুরু করেন এই বাংলাদেশি সংসদ সদস্য। সেখানে চাকরি নিতে মোটা অঙ্কের টাকাও খরচ করেন তিনি। চাকরি করতে করতেই এক সময় তিনি কোম্পানির একজন অংশীদার হয়ে যান এবং ইচ্ছে মতো প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতে শুরু করেন। পাশাপাশি তিনি ঠিকাদারি ব্যবসা শুরু করেন। লাভ হবে না জেনেও তিনি কুয়েতে বেশ কয়েকটি ঠিকাদারির কাজ নেন। মূল উদ্দেশ্য ছিল ঠিকাদারি কাজের আড়ালে বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি শ্রমিক কুয়েতে নিয়ে যাওয়া।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক পাঠানোর কাজ পেতে তিনি কুয়েত সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাঁচটি দামি গাড়ি উপহার দিয়েছিলেন। এরপর কুয়েতে বিপুল সংখ্যক শ্রমিক নিয়ে যান তিনি। তার বেশিরভাগ সম্পদ তিনি যুক্তরাষ্ট্রে স্থানান্তর করেছেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। তার স্ত্রীও একজন সংসদ সদস্য।

আরও পড়ুন: বিতর্কিত এক ধনকুবের এমপির কীর্তি

পূর্বপশ্চিমবিডি/এসএস

এমপি,মানব পাচার
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close