• শনিবার, ৩০ মে ২০২০, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭
  • ||

তিন হাজার ৬০০ কোটি টাকা পাচার, ২০ জনের পাসপোর্ট জব্দের আদেশ বহাল

প্রকাশ:  ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ২১:০৫
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রায় ৩ হাজার ৬০০ কোটি টাকা পাচারের ঘটনায় ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স সার্ভিস লিমিটেডের পরিচালক প্রশান্ত কুমার হালদারসহ (পিকে হালদার) ২০ সম্পদ, ব্যাংক হিসাব জব্দ ও পাসপোর্ট আটকানোর হাইকোর্টের আদেশ বহাল রেখেছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। একইসঙ্গে তাদের প্রত্যেকের আয়কর রিটার্ন দাখিলের নির্দেশও বহাল রেখেছেন আদালত।

সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এই আদেশ দেন। আদালতে আবেদনকারীর পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান খান।

এর আগে গত ২১ জানুয়ারি প্রশান্ত কুমার হালদারসহ (পিকে হালদার) ২০ জনের সব সম্পদ, ব্যাংক হিসাব জব্দ ও পার্সপোর্ট আটকানোর নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।

অন্যরা হলেন, কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম নুরুল আলম, পরিচালক জহিরুল আলম, নাসিম আনোয়ার, বাসুদেব ব্যানার্জী, পাপিয়া ব্যানার্জী, মোমতাজ বেগম, নওশেরুলইসলাম, আনোয়ারুল কবির, প্রকৌশলী নরুজ্জামান, আবুল হাসেম,মো. রাশেদুল হক, পি কে হালদারের মা লীলাবতী হালদার, স্ত্রী সুষ্মিতা সাহা, ভাই প্রিতুষ কুমার হালদার, চাচাতো ভাই অমিতাব অধিকারী, অভিজিৎ অধিকারী, ব্যাংক এশিয়ার সাবেক পরিচালক ইরফান উদ্দিন আহমেদ, পি কে হালদারের বন্ধু উজ্জ্বল কুমার নন্দী।

শুনানি শেষে আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান খান বলেন, ‘গত ২২ জানুয়ারির হাইকোর্টের প্রদত্ত আদেশ-যেখানে বলা হয়েছে পিপল লিজিংয়ের আগের পরিচালক এবং বর্তমান পরিচালক তাদের পাসপোর্ট জব্দ থাকবে। একই সঙ্গে আগের পরিচালক ও বর্তমান পরিচালকসহ তাদের পরিবার-পরিজনের আয়কর রিটার্ন হাইকোর্টে জমা দেবে। এই সংক্রান্ত হাইকোর্টের আদেশ আপিল বিভাগ কোনো রকম হস্তক্ষেপ করেনি।’

তিনি আরও বলেন, ‘হাইকোর্টের ওই আদেশের বিরুদ্ধে দুজন পরিচালক যে রিট পিটিশন দায়ের করেছিলেন আপিল বিভাগ তা খারিজ করে দিয়েছে। তবে তাদের পরিচালক ক্যানসার আক্রান্ত তিনি চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার আবেদন করলে আদালত তা সু-বিবেচনা করেন।’

পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেডে বিনিয়োগকারী দুই জনের আবেদনের প্রেক্ষিতে এ আদেশ দেওয়া হয়। পরে এই আদেশ স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে যান দুইজন পরিচালক।

বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, পুরো নাম প্রশান্ত কুমার হালদার। সংক্ষিপ্ত রূপ পি কে হালদার। তিনি বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বে থেকে লোপাট করেছেন অন্তত সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা।

প্রথমে তিনি রিলায়েন্স ফাইন্যান্স এবং পরে এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ (এমডি) বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন।

প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস, পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস, এফএএস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড ও বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি (বিআইএফসি) ইত্যাদি।

অভিযোগ রয়েছে, ওই সকল প্রতিষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন ও নতুন আরো কিছু কাগুজে প্রতিষ্ঠান তৈরির মাধ্যমে প্রায় তিন হাজার ৬০০ কোটি টাকা আত্মসাত ও বিদেশে পাচার করেছেন পি কে হালদার। নিজেও পাড়ি জমিয়েছেন বিদেশে।

ক্যাসিনো অভিযানের ধারাবাহিকতায় তার বিরুদ্ধে এরইমধ্যে প্রায় ২৭৫ কোটি টাকা অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়। এ ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সহকারী পরিচালক মামুনুর রশীদ বাদী হয়ে মামলা করেন। তবে মামলা করার আগেই পালিয়ে যান পি কে হালদার।

পূর্বপশ্চিমবিডি/এসএস

প্রশান্ত কুমার হালদার,পিকে হালদার
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close