• শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২০, ১৪ চৈত্র ১৪২৬
  • ||

ডেইজীসহ তিন প্রার্থীর কাছ থেকে ১৭ লাখ টাকা নিয়ে গ্রেপ্তার ২

প্রকাশ:  ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ২১:৪১
নিজস্ব প্রতিবেদক

সদ্যসমাপ্ত সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জিতিয়ে আনার প্রলোভন দেখিয়ে ঢাকা উত্তরের তিন প্রার্থীর কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে ১৭ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে করা মামলায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- সাইদুল ইসলাম বিপ্লব (৩০) ও পলাশ ইসলাম (২৮)।

তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার বিপ্লব বিজয় তালুকদার রবিবার সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, শনিবার রাজধানীর হাজারীবাগ এলাকা থেকে প্রথমে বিপ্লবকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পলাশকে একই এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশের দাবি, চক্রটি ২০১৭ সাল থেকে মোট ৮১১ জনের পরিচয় ব্যবহার করে পুলিশ কর্মকর্তা ও সচিবসহ প্রভাবশালী ব্যক্তিদের মোবাইল নম্বর স্পুফিং (কল স্পুফিং হলো প্রকৃত নম্বর গোপন রেখে অন্য এক ব্যবহারকারীর নম্বর, অথবা বিশেষ কোনও নম্বর দিয়ে কল করার প্রযুক্তি) করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃতরা জানিয়েছেন, ওসিদের নম্বর স্পুফিং করে এই প্রতারণা করেছে। তারা একটি ভিওআইপি সার্ভিস থেকে নিবন্ধন নিয়ে অ্যাপসের মাধ্যমে নম্বর স্পুফিং করত।

বিপ্লব বিজয় তালুকদার জানান, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের পরাজিত প্রার্থী ইয়াসিন মোল্লার কাছে পাঁচ লাখ ও জয়ী আওয়ামী লীগের প্রার্থী আবুল কাশেমের কাছে সাত লাখ এবং ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের পরাজিত প্রার্থী ডেইজী সারওয়ারের কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা প্রতারণার মাধ্যমে গ্রেপ্তারকৃতরা হাতিয়ে নিয়েছে।

তিনি বলেন, ওসির মোবাইল নম্বর স্পুফিং করে ম্যাজিস্ট্রেট পরিচয়ে ফোন করে প্রার্থীদের ভোটে জেতানোর জন্য সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে বিপ্লব এই প্রতারণা করে। পলাশ তাকে সহযোগিতা করে। এ ঘটনায় আদাবর ও মোহাম্মদপুর থানায় তিনটি মামলা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, এই চক্রটিকে ধরতে ফেনী, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, লক্ষ্মীপুরে অভিযান চালানো হয়। পরে এই দুজনকে হাজারীবাগ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের সময় তাদের কাছ থেকে বিকাশ অ্যাকাউন্ট সক্রিয় ২৯টি মোবাইল সিম, চারটি মোবাইল ফোন, নগদ ৪০ হাজার টাকা, ১২০০ ডলার ও একটি পাসপোর্ট পাওয়া গেছে।

ভোটে জিততে প্রার্থীদের এভাবে টাকা দেয়ার বিষয়ে করা এক প্রশ্নের জবাবে উপকমিশনার বলেন, বিষয়টি নির্বাচন কমিশনকে জানানো হয়েছে। তাদের নির্দেশনা পাওয়া গেলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রসঙ্গত, গত ১৯ জানুয়ারি ডিএনসিসির ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী আবুল কাশেমকে ও ২২ জানুয়ারি একই ওয়ার্ডের ইয়াছিন মোল্লাকে আদাবর থানার ওসির মোবাইল নম্বর স্পুফিং করে ফোন দিয়ে জিতিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দেয় প্রতারকরা। বিনিময়ে দুজনের কাছে ১৫ লাখ টাকা দাবি করে তারা। দুই প্রার্থীই টাকা দিতে রাজি হন। তাদের মধ্যে আবুল কাশেম সাত লাখ এবং ইয়াছিন মোল্লা পাঁচ লাখ টাকা বিকাশ, নগদ ও রকেটের মাধ্যমে পরিশোধ করেন। এরপর ২৪ জানুয়ারি ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী ডেইজিকে মোহাম্মদপুর থানার ওসির নম্বর স্পুফিং করে ফোন দেওয়া হয়। তার কাছেও মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করে প্রতারকরা। তিনিও একই ভাবে পাঁচ লাখ টাকা দেন। পরে দ্বিতীয় দফায় আবারও টাকা চাইলে ওই তিন প্রার্থী বুঝতে পারেন, তারা প্রতারিত হয়েছেন। এরপর তারা পৃথকভাবে বিষয়টি থানা-পুলিশকে জানান। তিনজনই এই ঘটনায় মামলা করেন।

পূর্বপশ্চিমবিডি/এসএস

ঢাকা সিটি নির্বাচন
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close