• বুধবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ৬ ফাল্গুন ১৪২৬
  • ||

এসিল্যান্ডের ডাবল সেঞ্চুরি!

প্রকাশ:  ২১ জানুয়ারি ২০২০, ২০:১৪ | আপডেট : ২১ জানুয়ারি ২০২০, ২০:৩৩
নিজস্ব প্রতিবেদক

রেকর্ড সৃষ্টি করে আলোচনায় উঠে এসেছেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) আনিসুর রহমান। সিরাজগঞ্জে ২২ মাসে ২০৩ বাল্যবিয়ে বন্ধ করে তিনি এই রেকড গড়েন। সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসন এটিকে দেখছে ইতিবাচক হিসেবে। এজন্য গত বছরের ২৩ জুন আন্তর্জাতিক পাবলিক সার্ভিস দিবসে সিরাজগঞ্জ সদরের এ সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) বিশেষ সম্মাননা দেন তৎকালীন জেলা প্রশাসক কামরুন নাহার সিদ্দীকা।

জানা গেছে, আনিসুর রহমান যেখানেই দায়িত্বে ছিলেন সেখানেই নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেছেন। ২০১৪ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত তিনি যশোরে সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ সময় তার ভেজালবিরোধী অভিযানে ব্যাপক সাড়া ফেলে। ভেজাল কারবারিরাও নিয়ম মানতে বাধ্য হন। এজন্য যশোরের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মুখে এখনও এ কর্মকর্তার প্রশংসা শোনা যায়।

২০১৭ সালের শেষ দিকে যশোর থেকে তিনি বদলি হয়ে যমুনা নদীবিধৌত সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলায় যোগ দেন। তিনি সেখানে সহকারী কমিশনারের (ভূমি) পাশাপাশি ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেন। সেখানকার বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধেও মাঠে নামেন তিনি। দুটি ইলিশ প্রজনন মৌসুমে তিনি নিয়ম লঙ্ঘনকারী ১২৪ জেলেকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়ে মা-ইলিশ রক্ষায় অবদান রাখেন। চৌহালী উপজেলায় থাকা অবস্থায় তিনি সব পাবলিক পরীক্ষাকে সম্পূর্ণরূপে নকলমুক্ত করেছিলেন। শুধু তাই নয়, চৌহালী উপজেলায় থাকাকালীন ৩৩ সপ্তাহে ৩৪টি বাল্যবিয়ে বন্ধ করেন, যা এখনও চৌহালীবাসীর মুখে মুখে।

এরপর বদলি হয়ে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে যোগ দেন। সেখানে এক বছরে ১৬৯টি বাল্যবিয়ে বন্ধ করেন। ইতোমধ্যে একদিনে সাতটি বাল্যবিয়ে বন্ধ করে অনন্য রেকর্ড সৃষ্টি করেন। এদের মধ্যে তৃতীয় শ্রেণির শিশু থেকে একাদশ শ্রেণির কিশোরীও রয়েছে।

পৌরসভায় ৩২টি, ইউনিয়ন পর্যায়ে খোকশাবাড়ীতে ১১টি, সয়দাবাদে ১৬টি, কালিয়া হরিপুরে ১৯টি, বাগবাটিতে ২৬টি, রতনকান্দিতে ২৯টি, বহুলীতে ১৩টি, শিয়ালকোলে ১০টি, ছোনগাছায় ১০টি, কাওয়াখোলায় তিনটি বাল্যবিয়ে বন্ধ করেন তিনি।

তিনি চৌহালী উপজেলায় ৩৪টি ও সদর উপজেলায় ১৬৯টিসহ মোট ২০৩টি বাল্যবিয়ে নিজে উপস্থিত হয়ে বন্ধ করেন।

তিনি বাল্যবিয়ে বন্ধে বিভিন্ন গ্রামে গিয়ে উঠোন বৈঠকের মাধ্যমে জনগণকে এর কুফল সম্পর্কে সচেতন করেন। সামাজিক এ ব্যাধি দূর করতে সমাজের সবার সহযোগিতা চান আনিসুর রহমান। এজন্য তিনি সর্বত্র উপজেলা প্রশাসনের মোবাইল নম্বর সরবরাহ করে এ সম্পর্কে তথ্য চেয়েছেন। এছাড়া বাল্যবিয়ে থেকে রক্ষা পাওয়া অসহায় গরিব তিন ছাত্রীর পড়াশোনার দায়িত্ব নিয়েছেন সরকারি এ কর্মকর্তা।

পূর্বপশ্চিমবিডি/ এআর

বাল্যবিয়ে
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close