• শনিবার, ২৫ জানুয়ারি ২০২০, ১১ মাঘ ১৪২৬
  • ||

এমন পরিস্থিতি আমরা আগে কখনও দেখিনি: প্রধান বিচারপতি

প্রকাশ:  ০৫ ডিসেম্বর ২০১৯, ১৫:৪৩ | আপডেট : ০৫ ডিসেম্বর ২০১৯, ১৬:০৩
নিজস্ব প্রতিবেদক
ফাইল ছবি

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে আপিল বিভাগের ছয় সদস্যের বেঞ্চে জিয়া চ্যারিটেবল মামলায় খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনের শুনানি শুরু হয় বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে।

শুনানির শুরুতে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিকেল বোর্ডের বরাত দিয়ে আদালতকে জানান, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর কিছু স্বাস্থ্য পরীক্ষা বাকি আছে, সেগুলো করতে সময় লাগবে। খালেদা জিয়ার মেডিকেল প্রতিবেদন এবং শুনানির জন্য দুই সপ্তাহ সময় প্রার্থনা করেন অ্যাটর্নি জেনারেল। আদালত আগামী ১১ ডিসেম্বর মেডিকেল প্রতিবেদন দাখিল এবং শুনানির জন্য ১২ ডিসেম্বর, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সময় দেন।

এ সময় খালেদা জিয়ার আইনজীবী অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীনসহ অন্যরা আজকের মধ্যেই শুনানি করার দাবি জানান।

এ সময় দুপক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে চরম উচ্চবাচ্য শুরু হয়। জয়নুল আবেদীন বলেন, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা খুবই খারাপ, আগে তার জামিন দেন, প্রয়োজনে শুনানি পরে হোক। তিনি খালেদা জিয়ার অন্তর্বর্তী জামিন প্রার্থনা করেন। এর বিরোধিতা করেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা।

তখন আদালত জানান আগামী বৃহস্পতিবার শুনানি হবে। এর পর বিএনপির আইনজীবীরা কোর্টে হট্টগোল শুরু করেন।

হট্টগোলে সকাল ১০টা ৫ মিনিটে বিচারপতিরা এজলাস কক্ষ থেকে চলে যান।

পরে প্রধান বিচারপতি দ্বিতীয়বার আদালতে ওঠার পর খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের উদ্দেশে বলেছেন, বাড়াবাড়ির একটা সীমা আছে। এমন পরিস্থিতি আমরা আগে কখনও দেখিনি। তিনি বলেন, আপনারা যে আচরণ করেছেন, এমন আচরণ নজিরবিহীন।’

বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে এজলাসে এসে অন্য মামলার শুনানি শুরু করলে বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা উচ্চস্বরে আওয়াজ তুলতে থাকেন। ফলে এজলাসে বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন উপরোক্ত মন্তব্য করেন।

তখন আইনজীবী জয়নুল আবেদীন প্রধান বিচারপতিকে বলেন, আমরা এখনও বসে আছি। পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী রবিবার (৮ ডিসেম্বর) দিন নির্ধারণ করুন।

জবাবে আদালত বলেন, অর্ডার পাস হয়ে গেছে। এখানে বসে আদালতের পরিবেশ নষ্ট করবেন না।

জয়নুল আবেদীন বলেন, খালেদা জিয়ার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী গতকাল (বুধবার) কী বলেছেন, তা আপনারা দেখুন। জবাবে প্রধান বিচারপতি বলেন, কে কী বলেছেন, আমরা তা দেখবো না। আমরা কাগজ না দেখে বিচার করবো না।

এ পর্যায়ে খালেদা জিয়ার আরেক আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, শেষ একটি কথা বলতে চাই। প্রধান বিচারপতি বলেন, আমরা অর্ডার দিয়ে দিয়েছি। আর কোনও কথা শুনবো না।

খালেদা জিয়ার আরেক আইনজীবী এএম মাহবুব উদ্দিন খোকন আদালতকে বলেন, হাতজোড় করে বলছি, আগামী রোববার দিন নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নিন। প্রধান বিচারপতি বলেন, আমরা সবাই (ছয় বিচারপতি) মিলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, বৃহস্পতিবার (১২ ডিসেম্বর) শুনবো।

এরপরও বিএনপি সমর্থিত আইনজীবীরা এজলাসে নিজেদের অবস্থান অব্যাহত রাখেন।

তবে প্রধান বিচারপতির নির্দেশে কার্য তালিকায় থাকা অন্য মামলার শুনানি শুরু হয়। শুনানির বিভিন্ন পর্যায়ে বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ বলে স্লোগান দিতে থাকেন। ফলে আর কোনও মামলার শুনানি করতে না পেরে বিচারপতিরা নির্ধারিত সময় পর (১টা ১৫ মিনিটে) এজলাস কক্ষ ত্যাগ করেন।


পূর্বপশ্চিমবিডি/ওআর

প্রধান বিচারপতি,জিয়া চ্যারিটেবল,খালেদা জিয়া
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত