• রোববার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯, ১ পৌষ ১৪২৬
  • ||

মানুষ আমার কানের ভেতর আঙুল দিয়ে কথা শোনানোর চেষ্টা করল: নানক

প্রকাশ:  ০৩ ডিসেম্বর ২০১৯, ২১:২০ | আপডেট : ০৩ ডিসেম্বর ২০১৯, ২১:৩৪
নিজস্ব প্রতিবেদক

পেঁয়াজসহ প্রায় সব ধরনের নিত্যপণ্যের চড়া দামের বিষয়টি সরেজমিনে থেকে প্রমাণ পেয়েছেন আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতা জাহাঙ্গীর কবির নানক। ঢাকার বাইরের এবং রাজধানীর বেশ কয়েকটি বাজার ঘুরে এর সত্যতা পান তিনি। নিত্যপণ্যের দামের উর্ধ্বগতির বিষয়টি স্বীকার করে তিনি বলেন, মানুষ এখন কানে আঙুল দিয়ে দাম বাড়ার কথা শোনাচ্ছে।

দলের পক্ষ থেকে ব্যবসায়ীদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে নানক বলেন, বাজারে অস্থিরতা রয়েছে। এই বাজারকে লাগামহীন পাগলা ঘোড়া হতে দেওয়া যাবে না। জননেত্রী শেখ হাসিনাকে অস্বস্তিতে রাখলে দেশ অস্বস্তিকর হবে। কাজেই আগামীকাল থেকে যেন সব বাজার নিয়ন্ত্রণে আসে মানুষের দিকে তাকিয়ে সেই সিদ্ধান্ত নিন। দোহাই আপনাদের অন্তত মানুষের মুখের দিকে তাকিয়ে হলেও বাজার দর কমিয়ে আনতে হবে।

মঙ্গলবার (০৩ ডিসেম্বর) দুপুরে রাজধানীতে ‘নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধকল্পে ব্যবসায়ী সমাজের করণীয়’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় তিনি এই আহ্বান জানান।

আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক উপ কমিটি রাজধানীর একটি হোটেলে মঙ্গলবার এ সভার আয়োজন করে। এতে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি ও আওয়ামী উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য কাজী আকরাম উদ্দীন আহমদ, শিল্প-বাণিজ্য বিষয়ক উপ কমিটির সদস্যসচিব আবদুছ সাত্তারসহ এফবিসিসিআইয়ের কয়েকজন পরিচালক, বিভিন্ন পণ্যের ব্যবসায়ী ও দোকান মালিক সমিতির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় বাজার পরিস্থিতি সচক্ষে দেখতে বেশকয়েকটি বাজার সরেজমিনে পরিদর্শন করার কথা জানান জাহাঙ্গীর কবির নানক।

সেই অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, আজকের মতবিনিময় সভার কারণে গতকাল (সোমবার) রাত ১১টায় ঢাকা থেকে রওনা হয়ে কুমিল্লার উদ্দেশে রওনা করি। আমি সোয়া বারোটায় গিয়ে নিমসার বাজারে পৌঁছাই এবং রাত আড়াইটা পর্যন্ত নিমসার বাজারে বাজারদর বোঝার চেষ্টা করেছি।

কুমিল্লার নিমসার বাজারে যে মালগুলি পাওয়া যায়, সেই নিমসার বাজার থেকে কারওয়ান বাজারে এসে কত হয়, কারওয়ান বাজার থেকে বিক্রি হওয়ার পরে সেই মাল নিউমার্কেট বা টাউন হল মার্কেটে গিয়ে কত হয়? এই জিনিসগুলো বোঝার প্রাণান্তকর চেষ্টা করেছি।

তিনি বলেন, আমি সকালে গেলাম আমার মোহাম্মদপুর। যেখানে আমি দুইবার এমপি ছিলাম সেখানকার কৃষি মার্কেটে। সেখানে গিয়ে আমি কী দেখলাম? মানুষের কথা শুনলাম, মানুষ আমাকে কথা শোনাল। আমার কানের ভেতর আঙুল দিয়ে কথা শোনানোর চেষ্টা করল।

বিদেশ থেকে আমদানির পরেও দেশে পেঁয়াজের কেজি ২০০ টাকার ওপরে। এ বিষয় উল্লেখ করে নানক বলেন, শুধু পেঁয়াজ নিয়ে আলাপ করবো কেন? আপনারা ব্যবসায়ীরা রয়েছেন। তেলের বাজার বাড়েনি? ভোজ্য তেলের দর বাড়েনি, চালের দর বাড়েনি? কেন বাড়ল? কে বাড়িয়েছে আদার দাম, কেন বাড়ছে রসুনের দাম?

তিনি বলেন, নিমসার বাজারে যে ফুলকপিটি কিনছেন সাত টাকায়, সেই ফুলকপি কারওয়ান বাজারে তিন হাত বদলি হয়ে কেন সেখানে ২০ টাকায় বিক্রি হবে? সেই কারওয়ান বাজারের ২০ টাকার কপি এখান থেকে যেতে না যেতেই কৃষি মার্কেটে গিয়ে ৪০ টাকা ৫০ টাকা হয়ে যাবে কেন? এটি মেনে নেওয়া যায় না। এটি কোনো জনবান্ধব সরকার মেনে নিতে পারে না। আর এটি আওয়ামী লীগের মতো দল মেনে নিতে পারে না। মানুষের মুখের দিকে তাকিয়ে দর সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসতে হবে আপনাদের।

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট উপকমিটির আহ্বায়ক কাজী আকরাম উদ্দীন আহমেদের সভাপতিত্বে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, আওয়ামী লীগের উপকমিটির শিল্প ও বাণিজ্য সম্পাদক আবদুস সাত্তারসহ ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।


পূর্বপশ্চিমবিডি/ওআর

নানক,বাজার,দ্রব্যমূল্য,পেঁয়াজ,নিত্যপণ্য
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত