• শনিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
  • ||

কাজ খুঁজছেন সাবেক অর্থমন্ত্রী মুহিত 

প্রকাশ:  ০১ ডিসেম্বর ২০১৯, ১৬:৫৭
নিজস্ব প্রতিবেদক

আবুল মাল আবদুল মুহিত। সরকারি চাকরি থেকে রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন তিনি। আওয়ামী লীগের গত দুই মেয়াদের অর্থমন্ত্রী তিনি। সরকারি চাকরি থেকে অবসর নিয়ে দেশে বিদেশে গবেষণা, সামাজিক সংগঠন ও পরে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন।

বর্ণাঢ্য জীবনে বিশ্রাম পেয়েছেন খুব সামান্যই। জীবনের সিংহভাগ ব্যয় করেছেন ব্যস্ততার মাঝে। সেই গুণী মানুষটির সময় কাটছে একাকীত্বে। বেকার সময় তার ভাল লাগছে না। এখন নিজেকে নতুন কোন কাজে জড়াতে চান তিনি।

আবুল মাল আবদুল মুহিতের বয়স এখন ৮৬ বছর। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে রাজনীতিতে অবসরের ঘোষণা দেন মুহিত।

অবসরের ঘোষণার সময় মুহিত বলেছিলেন, বাকি দিনগুলি বই পড়ে লেখালেখি করেই কাটাতে চান তিনি। একসময় যে মানুষটির সময় জুটতো না মোটেই, তার এখন সময় কাটছে একাকী। তাই একাকিত্ব কাটিয়ে উঠতে কাজ খুঁজছেন তিনি। এমনটাই জানিয়েছেন তার ঘনিষ্ঠজনরা।

মুহিতের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানায়, অবসরে আসার পর থেকে অনেকটাই একা হয়ে পড়েন মুহিত। সারাদিন শুয়ে, বসে কিংবা বই পড়ে সময় কাটান। নিত্য এই কাজ দিনকে দিন একঘেয়ে হয়ে আসছে। তাই তিনি চাইছেন বাইরের কোনো কাজে যুক্ত হতে।

সজ্জন ও পরিচ্ছন্ন ব্যক্তি হিসেবে মুহিত অর্থমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকাকালে স্পষ্ট কথাবার্তার জন্য গণমাধ্যমে প্রায়ই আলোচনায় আসতেন। এ বিষয়টি তাকে মন্ত্রিসভার অন্যদের চেয়ে স্বাতন্ত্র্য পরিচয় এনে দিয়েছিল। ইংরেজি সাহিত্যের অনুরাগী মুহিত ডাক পেলে ছুটে যেতেন এ ধরণের যে কোনো অনুষ্ঠানে।

তার ঘনিষ্ট সূত্র জানায়, এখনও যে কোনো উৎসব-অনুষ্ঠানে নিমন্ত্রিত হলে যোগ দেন তিনি। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী পালন উপলক্ষে আয়োজিত নানা সভাতেও যান মাঝেমধ্যে। মূলত তিনি কাজে ব্যস্ত থেকে মানুষের সঙ্গে ভালো সময় কাটাতে চান। প্রায়ই তার ঘনিষ্ঠদের মুহিত বলেন, আগে অনেক কাজ করতে হতো। সারাক্ষণ ব্যস্ত থাকতাম। এখন কোনো কাজ নেই। একা সময় কাটাতে ভালো লাগে না।

আমলা হিসেবে কর্মজীবন শুরু করা আবুল মাল আবদুল মুহিত বিভিন্ন সময় সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। মুক্তিযুদ্ধের সমর্থনে ১৯৭১ সালে সরকারি চাকরি থেকে ইস্তফা দেওয়া, স্বাধীনতাপরবর্তী সময়ে সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে দায়িত্ব পালন করার পর গত শতকের একেবারে শেষ প্রান্তে রাজনীতিতে নাম লেখান। আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়ে মর্যাদাপূর্ণ সিলেট-১ আসনে ২০০১ সালে নির্বাচন করেন আবুল মাল আবদুল মুহিত। তবে প্রথমবারের অভিজ্ঞতা সুখকর ছিল না। সেবার হেরে যান আরেক হেভিওয়েট প্রার্থী বিএনপি নেতা ও সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের কাছে। কিন্তু পরেরবার ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাইফুর রহমানকেই পরাজিত করে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মুহিত।

আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এলে তাঁকে অর্থমন্ত্রী করা হয়। এরপর ২০১৪ সালের নির্বাচনে জয়লাভ করে টানা দ্বিতীয়বারের মতো সংসদ সদস্য হন তিনি। অর্থমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা মুহিত তাঁর সরাসরি ও স্পষ্ট কথাবার্তার জন্য নিয়মিত সংবাদমাধ্যমে আলোচিত হতেন। সৎ ও পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ হিসেবে দেশজুড়ে সুনাম কুড়িয়েছেন তিনি।

দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিশ্বব্যাংক যখন বাংলাদেশের পদ্মাসেতু প্রকল্প থেকে তাদের সহায়তা প্রত্যাহার করে নেয়, তখন অর্থমন্ত্রী মুহিতই নিজেদের অর্থে পদ্মাসেতু প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীকে সাহস যুগিয়েছিলেন। সরকারের মর্যাদা ও ইমেজ প্রতিষ্ঠায় এটি ছিল কঠিন সিদ্ধান্ত। আর তা ফলপ্রসূও হয়।


পূর্বপশ্চিমবিডি/ওআর

মুহিত,অর্থমন্ত্রী,আবুল মাল আবদুল মুহিত
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত