• শনিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
  • ||

বিদেশে মা-বোনেরা নির্যাতিত হলে রেমিট্যান্সের মূল্য থাকে না : প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী

প্রকাশ:  ১৯ নভেম্বর ২০১৯, ১৯:১২
নিজস্ব প্রতিবেদক

চলতি বছরই প্রবাসী রেমিট্যান্স ২০ বিলিয়নে চলে যাবে জানিয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদ বলেছেন, আমরা বর্তমানে প্রায় ১৬ বিলিয়ন ডলার প্রবাসী রেমিট্যান্স এনে দিচ্ছি। যেভাবে এগুচ্ছে তাতে এ বছরই ২০ বিলিয়নে চলে যাব। কিন্তু, আমাদের মা-বোনেরা যদি নির্যাতিত হয়, লাঞ্ছিত হয় তাহলে এই ২০ বিলিয়নের (রেমিট্যান্স) কোনো মূল্য থাকে না।

মঙ্গলবার (১৯ নভেম্বর) বিকেলে রাজধানীর প্রবাসী কল্যাণ ভবনে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধনে বিএমইটির আওতায় টিটিসিসমূহে হাউজকিপিং প্রশিক্ষণকে আরো কার্যকরি ও ফলপ্রসূ করার জন্য কর্মপন্থা নিরূপনে দিনব্যাপী কর্মশালায় মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী বলেন, মহিলাকর্মীরা যারা বিদেশে গেছেন, তাদের সেখানেই শুধু সমস্যা নয়। যেসব অভিযোগ আসছে তা কিন্তু আমাদের উপরই বর্তায়। দোষ ত্রুটিগুলো আমাদের সংশোধন করতে হবে।

ইমরান আহমদ বলেন, গরীব মানুষ হলেও কেউ তো অসম্মানের জন্য বিদেশ যায় না। কেমনে তাদের সাহায্য সহযোগিতা করতে পারি, এটাই আমাদের কাজ।

প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী বলেন, মালয়েশিয়া বা যেখানেই যাই আনডকুমেন্টারি বা ইলিগ্যাল কর্মীদের কথা আসে। জমি জমা বিক্রি করে তারা বিদেশ গিয়ে ইলিগ্যাল হয়েছে। সরকার যখন একটা রেট নির্ধারণ করে দেয়, রিক্রুটিং এজেন্সি এতো বেশি টাকা নেবে কেন? টিচিং বা প্রশিক্ষণ দেয়া আপনাদের বড় দায়িত্ব। পাশাপাশি যারা বিদেশে যাচ্ছে তাদের গাইডলাইন বা সচেতন করাও কিন্তু দায়িত্বের মধ্যে বর্তায়।

নারীকর্মীদের বিষয়ে তিনি বলেন, ট্রেনিং এক মাস করা হয়েছে। প্রয়োজনে আরও বাড়ানো হবে। যারা বিদেশ যাবে তাদের যথাযথ প্রশিক্ষণ দিতে হবে। প্রাকটিক্যাল শিক্ষায় গুরত্ব দিতে হবে। তবে সংশ্লিষ্ট দেশের ভাষাকেও গুরত্ব দিতে হবে। আমার দেশের একটা মেয়েও যেন লাঞ্চিত না হয়। সবাই যেন ভালভাবে থাকতে পারে। ইতোমধ্যে সৌদি থেকে কিন্তু অভিযোগ এসেছে যে, আমরা অপ্রশিক্ষিত বা অদক্ষ মেয়েদের পাঠাচ্ছি। এটা যেন না হয়। প্রশিক্ষিত মেয়েদের যদি পাঠাতে পারি, তারা যদি ভাষা শিখে যায় তাহলে কিন্তু কোনো অভিযোগ আসবে না।

প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে ইমিগ্রেশনসহ বিভিন্ন দফতরে ভিসা প্রসেসিং, স্মার্টকার্ডসহ বিভিন্ন অভিযোগ বিষয়ে তিনি বলেন, গত ৮-১০ মাসে (দায়িত্ব নেয়ার পর) আর কিছু পারি আর না পারি, এই মন্ত্রণালয়ের যে বদনাম ছিল তা দূর করতে পেরেছি। আমি আর্থিক অনিয়মের কথা বলছি। এই ধরনের অভিযোগ আর মন্ত্রণালয়ে নাই। আর যদি কখনো এ ধরনের খবর আসে, আমি জিরো টলারেন্সে আছি। কঠোর ব্যবস্থা হবে।

জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠক করতে সৌদিতে যাচ্ছেন প্রবাসী কল্যাণ সচিবের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল। এ প্রসঙ্গে সচিব বলেন, ২৫ নভেম্বর সৌদি আরবে যাচ্ছি, ২৬ তারিখে মিটিং হবে। এদিন আমরা এসব সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করবো। এই কর্মীদের সেখানে গিয়ে যাতে ভোগান্তি পোহাতে না হয়। এ ব্যাপারে আমরা জিরো টলারেন্স। কারো যদি কোনো রকম অনিয়ম পাওয়া যায় তাহলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেব।

দেশের বিভিন্ন ট্রেনিং সেন্টারের (টিটিসি) অধ্যক্ষ ও জেলা কর্মসংস্থান বা ডিএমও অফিসের সহকারী পরিচালকদের নিয়ে এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়। বিএমইটির মহাপরিচালক শামসুল আলমের সভাপতিত্বে এতে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন প্রবাসী কল্যাণ সচিব সেলিম রেজা। এ সময় প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ও বিএমইটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


পূর্বপশ্চিমবিডি/ওআর

প্রবাসী শ্রমিক,নারী,সৌদি আরব,রেমিট্যান্স
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত