• বুধবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
  • ||

অনির্দিষ্টকালের বাস ধর্মঘটে জেলায় জেলায় দুর্ভোগ

প্রকাশ:  ১৮ নভেম্বর ২০১৯, ২০:০৬ | আপডেট : ১৮ নভেম্বর ২০১৯, ২০:১৫
পূর্বপশ্চিম ডেস্ক

নতুন সড়ক পরিবহন আইনের প্রতিবাদে এবং এর কিছু বিধান সংশোধনের দাবিতে দেশের বিভিন্ন জেলায় অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট পালন করছেন বাসচালক ও শ্রমিকরা। খুলনা বিভাগের ১০ জেলা, রাজশাহী বিভাগের কয়েকটি জেলাসহ ঢাকা বিভাগের টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে পালিত হয়েছে এ ধর্মঘট।

কোনো ধরনের পূর্ব ঘোষণা ছাড়া হঠাৎ করে বাস বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন বিভিন্ন গন্তব্যের সাধারণ যাত্রীরা। তারা অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে নছিমন, করিমন ও ইজিবাইকে করে গন্তব্যস্থলে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন।

খুলনা জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি কাজী মো. নুরুল ইসলাম বেবী জানান, খুলনা বিভাগের ১০ জেলাতেই চালকদের কর্মবিরতি চলছে। মূলত রোববার থেকেই বাসচালকরা ধর্মঘট শুরু করেছেন। তবে সেটা ছিল আংশিক। সোমবার থেকে সব বাসচালকই নিজ নিজ দায়িত্ব থেকে ধর্মঘট শুরু করেছেন। এক্ষেত্রে শ্রমিক ইউনিয়ন বা মালিক সমিতির কোনও আহ্বান নেই।

পূর্বপশ্চিমবিডির প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর:

সাতক্ষীরা:

সাতক্ষীরায় সোমবার সকাল থেকে বাস চলাচল বন্ধ থাকায় যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। পরিবহন শ্রমিক নেতাদের দাবি, নতুন সড়ক পরিবহন আইন সংশোধনের পর এটি বাস্তবায়ন করা হোক। সংশোধন করা না হলে বাস চলাচল বন্ধই থাকবে।

সাতক্ষীরা জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির সাবেক সভাপতি অধ্যক্ষ আবু আহমেদ বলেন, নতুন সড়ক পরিবহন আইন বাস্তবায়নের প্রতিবাদে শ্রমিকরা বাস চালানো বন্ধ করে দিয়েছে। শ্রমিকরা বাস চালানো বন্ধ করে দিলে মালিকপক্ষের কিছুই করার থাকে না।

নড়াইল:

নড়াইলের অভ্যন্তরীণ ৫টি রুটে বাস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছেন পরিবহন শ্রমিকরা। রোববার সন্ধ্যা থেকে এসব রুটে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন বিভিন্ন গন্তব্যের যাত্রীরা। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও নড়াইল জেলা বাস মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান সোমবার সকালে জানান, বাস বন্ধ রাখার ব্যাপারে সংগঠন কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি।

তিনি বলেন, আমাদের সঙ্গে আলাপ না করে বাস চালক-শ্রমিকরা নতুন পরিবহন আইনের ভয়ে নিজেরাই অভ্যন্তরীণ ৫টি রুটে বাস চালানো বন্ধ রেখেছে। তবে বিক্ষিপ্তভাবে কোনো কোনো রুটে দু’একটি বাস চলছে।

কুষ্টিয়া:

সড়ক পরিবহন আইনের কয়েকটি ধারা সংশোধনের দাবিতে কুষ্টিয়ায় বাস ধর্মঘট করছেন শ্রমিকরা। ফলে কুষ্টিয়ার সঙ্গে আন্তঃজেলা বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। ঢাকাগামী দূরপাল্লার কিছু কিছু বাস চলাচল করলেও সকাল থেকে কুষ্টিয়ায় অধিকাংশ বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে।

যশোর:

দ্বিতীয় দিনের মতো বাস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে যশোরের পরিবহন শ্রমিকরা। নতুন সড়ক আইন সংশোধনের দাবিতে রোববার দুপুর থেকে তারা স্বেচ্ছায় কর্মবিরতি শুরু করে। রাতে প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকের পর বাস চলাচল কিছুটা স্বাভাবিক হলেও সোমবার সকাল ১০টার দিকে ফের বাস চলাচল বন্ধ করে দেয় পরিবহন শ্রমিকরা। এতে চরম বিপাকে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা।

মেহেরপুর:

নতুন সড়ক ও পরিবহন আইন সংশোধনের দাবিতে মেহেরপুরে আন্তঃজেলার সকল রুটে বাস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছেন শ্রমিকরা। সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বাস না চালানোর সিদ্ধান্ত নেন চালকরা। ফলে মেহেরপুর-চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর-কুষ্টিয়া, মেহেরপুর-মুজিবনগর সড়কে বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

চুয়াডাঙ্গা:

নতুন পরিবহন আইনের প্রতিবাদে চুয়াডাঙ্গায় বাস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছেন শ্রমিকরা। সোমবার চুয়াডাঙ্গা থেকে যাত্রীবাহী অভ্যন্তরীণ ও দুরপাল্লার বাস ছেড়ে যায়নি। নতুন পরিবহন আইন কার্যকর হওয়ার পর থেকে চুয়াডাঙ্গায় বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তারা ফিটনেসবিহীন নসিমন, করিমনসহ অন্যান্য যানবাহনে যাতায়াত করছে। নাটোর: নাটোরে সকাল থেকে যাত্রিবাহী বাস চলাচল কম দেখা গেছে।

পরিবহন শ্রমিকরা বলছেন, নতুন সড়ক পরিবহন আইনে চালকরা বাস চালাতে ভয় পাচ্ছেন। এছাড়া বিভিন্ন জেলায় শুরু হয়েছে বাস ধর্মঘট। এর ফলে সড়কে কমে গেছে যাত্রীবাহী বাসের সংখ্যা।

এদিকে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে নতুন সড়ক আইনের কিছু বিধান সংশোধনের দাবিতে পরিবহন চালকরা অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘট করছেন। সোমবার (১৮ নভেম্বর) সকাল থেকে পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই ভূঞাপুর থেকে দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে চলাচলরত সব প্রকার যানবাহন বন্ধ করে দেয় শ্রমিকরা। এর ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা।

পরিবহন শ্রমিকরা জানান, নতুন সড়ক আইনের কয়েকটি বিষয় সংস্কার না করলে তারা পরিবহন সেক্টরে কাজ করবেন না। বিশাল অংকের জরিমানা, শাস্তি আর অপমানজনক ‘ঘাতক’ শব্দ মাথায় নিয়ে তারা গাড়ি চালাবেন না। আপত্তিকর বিষয়গুলো সংস্কারেরর দাবি জানান তারা।

পরিবহন ধর্মঘটের কারণে সকাল থেকে দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রীরা। যাত্রীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা বাসস্ট্যান্ড ও টার্মিনালে দাঁড়িয়ে থেকে অপেক্ষা করতে হচ্ছে বাসের জন্য। দু-একটি বাস পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই যাত্রীরা হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন বাসে ওঠার জন্য।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও নড়াইল জেলা বাস মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ছাদেক আহম্মেদ খান বলেন, ‘বাস বন্ধ রাখার ব্যাপারে সংগঠন থেকে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। আমাদের সঙ্গে আলাপ না করে বাসচালক-শ্রমিকরা স্বেচ্ছায় নড়াইল থেকে ছেড়ে যাওয়া খুলনা, যশোর, ঢাকাসহ পাঁচ রুটে বাস চালানো বন্ধ করে দিয়েছে। তবে বিক্ষিপ্তভাবে কোনও কোনও রুটে দু-একটি বাস চলছে।


পূর্বপশ্চিমবিডি/ওআর

বাস ধর্মঘট,সড়ক আইন,অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত