• বৃহস্পতিবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
  • ||

সরকারি অ্যাকশনে ভয়ে কাঁপছে ওরা

প্রকাশ:  ১৩ নভেম্বর ২০১৯, ০১:২৯ | আপডেট : ১৩ নভেম্বর ২০১৯, ০১:৫৯
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের রাজনীতিতে অস্থিরতা চলছে, অস্থিরতা বিরাজ করছে সমাজেও। একবছর আগেও যারা বাঘের মত গর্জন করতেন তাদের অধিকাংশই এখন শীত নিদ্রায় বা কেউ কেউ কারাগারে। প্রশাসন চলত যাদের সিণ্ডিকেটে তাদের অনেকেই এখন নিস্ক্রিয়।

জাতীয় পার্টির মহাসচিব ও সড়ক পরিবহন নেতা নুর হোসেনের নামে তার মনের ক্ষোভ ঝেড়েছেন। তার মনোব্যথা অন্য কোথাও। তার ঘনিষ্ঠ পরিবহন শ্রমিক নেতারা অনেকেই বলেছেন যে, নতুন পরিবহন আইন প্রয়োগের ফলে মসিউর রহমান রাঙ্গার অধিকাংশ গাড়ি রাস্তায় চলাচলের অনুপযোগী। উনার তাই মাথা নষ্ট হয়ে গেছে বলেই মনে হচ্ছে। তাই বেসামাল হয়ে আবোল-তাবোল বলা ছাড়া রাঙ্গা সাহেবের আর কোনও উপায় নেই।

অন্যদিকে ‘শৃঙ্খলা ও পেশাগত আচরণ ভঙ্গ এবং গুরুতর অসদাচরণের’ দায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটরের পদ থেকে তুরিন আফরোজকে অপসারণ করেছে সরকার।

ক্যাসিনো কেলেংকারিতে জড়িত থাকা, দেশের টাকা পাচার, পদ ও কমিটি বাণিজ্যের দায়ে আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন যুবলীগ, কৃষক লীগ, শ্রমিক লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগসহ অনেক বাঘা বাঘা নেতা ধরাশায়ী হয়ে পড়েছেন। কেউ কেউ পলাতক জীবন-যাপন করছেন। যারা এখনও লাল ঘরে ঢোকেননি তারা খুব নিরপেক্ষ ভাব নিয়ে আর নানাভাবে তদবির করে টিকে থাকা বা লালঘরে না যাবার প্রাণান্ত চেষ্টায় লিপ্ত।

শেখ পরিবারের আত্মীয় পরিচয়ে যারা বিভিন্ন অনিয়ম, টেণ্ডারবাজি, দলের বা সহযোগী সংগঠনের পদ ও কমিটি বাণিজ্যে জড়িয়ে টাকা কামিয়েছে তাদের অনেকেই এখন পলাতক। যাদের বাসার সামনে পিছনে সকাল সন্ধ্যায় বাহারি গাড়ির ভিড় লেগে থাকতো সে সব অনেক বাড়িতেই এখন কেউ যান না। অনেকের নামেই প্রকাশ্যে বা অপ্রকাশ্যে বিদেশ ভ্রমণে এসেছে নিষেধাজ্ঞা আছে। কার নামে কখন কি হয় তা ভেবে মানসিকভাবে চরম ভেঙে পড়েছেন অন্যায় কাজে জড়িত বাঘা বাঘা রাজনৈতিক নেতারা। অনেকে কর্মী বা ছোট নেতাদের ফোন ধরেন না।

ক্ষমতাসীন দলের জোটের নেতারাও আছেন মহা আতংকে। অনেকের নামে দুর্নীতির অভিযোগ আছে, আছে প্রমাণ। তাই তো অনেক সাবেক মন্ত্রী বর্তমান এমপি’র বেফাঁস কথা নিজেই আটকে গিয়ে নাক খত দিয়ে উল্টা সুরে গান গাইতে শুরু করেছেন। বাঁচা দরকার, জেলখানার বাইরে থেকে।

জিকে শামীমদের কাছে থেকে যারা আর্থিক সুবিধা নিয়েছেন, সেই সব বড় বড় আমলারাও অনেকে লাপাত্তা। কারো কারো বিদেশ ভ্রমণে এসেছে নিষেধাজ্ঞা। বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে বিশেষকরে যে সব দপ্তর বা মন্ত্রণালয় বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে বা রাজস্ব আদায় করেছে তাদের কর্মকর্তা কর্মচারীদের মধ্যে আতংক চরমে।

বিশেষ করে যে সব দপ্তরে সহায়ক বা করণিকদের শত শত কোটি অবৈধ টাকার হিসাব পাওয়া গেছে সেই সব দপ্তরে অস্থিরতা অনেক বেশি।

অনেকেই জানেন যে, সরকারি বিশেষ নিরীক্ষায় ধরা খেয়ে দুই দফায় ৭৩ কোটি টাকা ফেরত দিয়েছেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক সামীম মো. আফজাল। প্রথম দফায় গত ২৩ অক্টোবর সোনালী ব্যাংক পাবলিক সার্ভিস কমিশন শাখায় ১টি চেকের মাধ্যমে ৩২ কোটি টাকা এবং দ্বিতীয় দফায় গত ৩১ অক্টোবর সোনালী ব্যাংকের একই শাখায় ৩টি চেকের মাধ্যমে প্রায় ৪১ কোটি টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেন তিনি।

এ নিয়ে তার ফেরত প্রদানকৃত টাকার পরিমাণ প্রায় সোয়া ৭৩ কোটি টাকা। এমন ভাবে টাকা ফেরত দেবার সুযোগ অনেক কর্মচারী কর্মকর্তা প্রত্যাশা করছেন।

একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে যে, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সম্মেলন শেষে আগামী জানুয়ারি মাস থেকে শেখ হাসিনা একটা একটা করে ‘প্যান্ডোরা বক্স’ খোলা শুরু করবেন।

বাংলাদেশ তথা বিশ্ববাসী শেখ হাসিনার অনেক রূপ দেখেছেন। যারা সারা জীবন শেখ হাসিনা বা বঙ্গবন্ধুকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেছেন, কুৎসা রটনায় লিপ্ত ছিলেন, তারাও যখন শেখ হাসিনার কাছে এসেছেন তখন তিনি কখনও সরকার প্রধানের বা মায়ের মত বা বোনের মত পরম মমতায় তার সমস্যার সমাধানে ব্রতী হয়েছেন। কিন্তু তিনি দুর্নীতির বিরুদ্ধে কি যে কঠিন কঠোর তার প্রমাণ আমরা তার সাম্প্রতিক কিছু আচরণে দেখতে পাই।

পূর্বপশ্চিমবিডি/অ-ভি

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত