• বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২০, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭
  • ||

বাংলাদেশ চায় অত্যাধুনিক সমরাস্ত্র, সামরিক চুক্তির তাগিদ যুক্তরাষ্ট্রের

প্রকাশ:  ১৯ অক্টোবর ২০১৯, ১৭:৪২ | আপডেট : ১৯ অক্টোবর ২০১৯, ১৭:৪৭
বিশেষ প্রতিনিধি

ভৌগলিক অবস্থানে কারণে যুক্তরাষ্ট্র স্বীকৃত গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলো একটি। দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সঙ্গে একটি সামরিক চুক্তি করতে আগ্রহী। ফোর্সেস গোল ২০৩০ বাস্তবায়নে সামরিক বাহিনীকে যুগোপযোগী করে গড়ে তুলতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে অত্যাধুনিক সমরাস্ত্র নিতে চায় বাংলাদেশ। তবে সমরাস্ত্র বিক্রির প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে বাংলাদেশের সঙ্গে সামরিক চুক্তির তাগিদ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন কর্মকর্তা ও কূটনৈতিক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, বাংলাদেশ ফোর্সেস গোল ২০৩০ বাস্তবায়নে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র থেকে অত্যাধুনিক সমরাস্ত্র ক্রয়ের আগ্রহের কথা জানিয়েছে। এক্ষেত্রে সমরাস্ত্র সরবরাহের আগে বাংলাদেশকে সামরিক চুক্তির অংশ হিসেবে জেনারেল সিকিউরিটি অব মিলিটারি ইনফরমেশন এগ্রিমেন্ট (জিএসওএম আইএ) ও অ্যাকুইজিশন অ্যান্ড ক্রস-সার্ভিসিং এগ্রিমেন্টের (এসিএসএ) প্রস্তাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এ দুটি চুক্তি নিয়ে বর্তমানে দুই দেশ কাজ করছে। চুক্তি দুটি বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান সামরিক সম্পর্ককে আরো এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন মার্কিন কূটনীতিকরা।

সংশ্লিষ্ট বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা সম্প্রতি বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলকে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে ফোর্সেস গোল ২০৩০ বাস্তবায়নে সবধরনের সহযোগিতা করতে চায়।বাংলাদেশের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে বিভিন্ন যৌথ প্রশিক্ষণ, বাংলাদেশ সামরিক বাহিনীর সদস্যদের প্রশিক্ষণ দেয়া, বাংলাদেশের কাছে অস্ত্র বিক্রিসহ দুই দেশের সামরিক সম্পর্ক বেশ এগিয়েছে। এখন বাংলাদেশ যদি সামরিক বাহিনীর জন্য অ্যাডভান্সড মিলিটারি হার্ডওয়্যার ক্রয় করতে চায়, তাহলে উভয় দেশের মধ্যে সামরিক চুক্তি সম্পন্ন করতে হবে।

অস্ত্র ক্রয়-বিক্রয়ে সামরিক চুক্তির প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে ওই কর্মকতা বলেন, বাংলাদেশের কাছ থেকে আমরা ২০১৮ সালে সমরাস্ত্র ক্রয়ের প্রস্তাবটি পাই। সামরিক চুক্তি ছাড়া অ্যাডভান্সড মিলিটারি হার্ডওয়্যার বিক্রি করতে পারে যুক্তরাষ্ট্রের বিধিনিষেধ রয়েছে। তাই এধরনের সমরাস্ত্র নিতে চাইলে জিএসওএমআইএ চুক্তি করতে হবে।

কূটনৈতিক সূত্র জানায়, বর্তমানে দুইদেশ উল্লেখিত দুটি সামরিক চুক্তির সম্ভাব্যতা নিয়ে যাচাইবাছাইয়ের কাজ করছে।

সূত্র মতে,ওয়াশিংটনের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়াতে আগ্রহী ঢাকা। এ আগ্রহের কথা জানিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওকে চিঠিও লিখেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। ওই চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ কৌশলগতভাবে দুই বড় প্রতিবেশী চীন ও ভারতের মাঝে অবস্থিত। এর সঙ্গে সামনে রয়েছে বিশাল মহাসাগর। আর বাংলাদেশ অবাধ ও মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশল দৃষ্টিভঙ্গিতে বিশ্বাস করে। অন্তর্ভুক্তিমূলক, শান্তিপূর্ণ ও সুরক্ষিত একটি ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল চাই আমরা, যেটি সবার জন্য উন্নতি ও সুযোগ সৃষ্টি করবে।

ঢাকা ও ওয়াশিংটনের মধ্যে প্রতিরক্ষাবিষয়ক সম্পর্ক বয়স প্রায় প্রায় চারদশক। সেই আলোকে দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। বৈঠকগুলোয় প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়াতে দুই দেশের অগ্রাধিকার ইস্যুর সঙ্গে নিরাপত্তা সহযোগিতা, সাইবার নিরাপত্তা, শান্তিরক্ষী মিশন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে মানবিক সহায়তা ও ত্রাণ বিতরণ, জল ও স্থল সীমান্ত নিরাপত্তা, দুই দেশের মধ্যকার সামরিক সহযোগিতা এবং সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনের মতো বিষয়গুলো আলোচনায় আসে। সেই সঙ্গে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সদস্যদের মধ্যকার প্রশিক্ষণ ও মহড়াগুলো নির্ধারণ করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশকে বেশ আগে থেকেই সামরিক চুক্তি ও সমরাস্ত্র বিক্রির প্রস্তাব দিয়ে আসছিল যুক্তরাষ্ট্র। বাংলাদেশে নতুন সরকার গঠনের পর বাংলাদেশের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অস্ত্র বিক্রির জন্য প্রস্তাব দেয় ওয়াশিংটন। চলতি বছর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনের সঙ্গে বৈঠক করে এমন প্রস্তাব দেন ঢাকায় মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল রবার্ট মিলার। আর সর্বশেষ বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সপ্তম নিরাপত্তা সংলাপেও সমরাস্ত্র বাণিজ্যের বিষয়টি উঠে আসে।

পূর্বপশ্চিমবিডি-এনই

প্রতিরক্ষা,সমরাস্ত্র,সামরিক চুক্তি
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close