• সোমবার, ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
  • ||

আবরার পানি খেতে চাইলে খুনিরা বলে, ও নাটক করছে

প্রকাশ:  ১০ অক্টোবর ২০১৯, ০১:১৮ | আপডেট : ১০ অক্টোবর ২০১৯, ০১:৫৩
নিজস্ব প্রতিবেদক

ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়াকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে হত্যার লোমহর্ষক বর্ণনা জানা গেছে শের-ই বাংলা হলের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে। ওই হলের একটি কক্ষে থাকতেন আবরার। গত ৬ অক্টোবর রাত তিনটায় হলের সিঁড়ি থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

ঘটনার দিন রাত আটটায় শেরে বাংলা হলের ২০১১ নম্বর কক্ষে আবরার ফাহাদকে ডেকে নিয়ে নির্যাতন শুরু করা হয়। প্রথমে জিজ্ঞাসাবাদের নামে চলে মানসিক নির্যাতন। পরে শুরু হয় বেধরক পেটানো। সেখানে থাকা ছাত্রলীগ নেতারা পেটানোর ফাঁকে ফাঁকে মদ পান করে। কয়েক ঘণ্টা পেটানোর পর রাত দুইটার দিকে আবরারের গাঁ ছেড়ে দেয়। এসময় সে কয়েক বার বমি করে এবং মুখ দিয়ে ফেনা বের হতে থাকে। এরপর তাকে টেনে হিচড়ে বাইরে নিয়ে সিঁড়ির সামনে ফেলে দেওয়া হয়। মুমূর্ষু অবস্থায় খুনীদের উদ্দেশে মৃদুকণ্ঠে আবরার বলেন, আমার অবস্থা খুবই খারাপ। মনে হচ্ছে আমি মরে যাচ্ছি। আমাকে মাফ করে দেন। আমাকে একটু পানি খেতে দেন। কিন্তু খুনীরা আবরারের এই শেষ আবদারটুকুও পূরণ করেনি। উল্টো তারা হাসাহাসি করে বলে, ও নাটক করছে। পরে তারা আবরারকে ফেলে রেখে টিভি রুমে খেলা দেখতে চলে যায়। সিঁড়ির সামনে ফেলে যাওয়ার পর বেশ কয়েকজন আবরারকে জীবিত অবস্থায় দেখেছেন।

শের-ই বাংলা হলের আরাফাত নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, আমি খাবার নিতে নিচে নেমে দেখি আবরারের নিথর দেহ পড়ে আছে। আমি বলি ভাই কি হইছে? আবরার বলে, ভাই বাঁচা বাঁচা। আমি হাত-পা মালিশ করা শুরু করি। শরীর এতোটাই ফুলে ছিলো যে রগ খুঁজে পাচ্ছিলাম না। আমি চিল্লাইতাছি ভাই কেউ একটু ডাক্তাররে খবর দে। যখন হাত মালিশ করতে ছিলাম তখন দেখি হাতের মধ্যে রক্তের ছোপ। পুরো বডি ঠান্ডা। মনে হচ্ছিল তোশকের মধ্যে একটা বরফের টুকরা পড়ে আছে। আবরারের তোশক ছিলো প্রস্রাবে ভেজা। তোশকে বমি। মুখে ফেনা। হাত পা মালিশ করার পরও কিছু না হওয়ায় বুক মালিশ শুরু করি। চাপ দেই কিছু হচ্ছে না। ভিতর থেকে শুধু হো হো একটা শব্দ আসে। কেউ যে চোখের সামনে মরতে পারে কল্পনাই করি নাই। শেষ সময়ে আবরার বলেছিলো, আল্লাহ আমার সকল গুণা মাপ করে দিও। ঠিক মারা যাওয়ার আগ মুহুর্তে সে কালেমা পড়ে।

বুয়েটের শেরেবাংলা হলের শিক্ষার্থী মহিউদ্দিন রাত আড়াইটার দিকে পড়া শেষে খেতে বের হন। তখন তিনি দেখেন আবরার সিঁড়ির মেঝেতে কাতরাচ্ছে।

তিনি বলেন, আমি আমার রুমমেটকে বলি ওর মনে হয় মৃগি হয়েছে ওকে হাসপাতালে নিতে হবে। বুয়েট ছাত্রলীগের ক্রীড়া সম্পাদক জিয়ন তখন বলে, ‘ও নাটক করতেছে। ওকে ফেলে রাখ, তোরা যা। ওরে এখনো দুই ঘণ্টা পিটানো যাবে।’ আমি তিনদিন ঘুমাতে পারিনি। আমারে মাফ করে দিস ভাই।

পূর্বপশ্চিমবিডি/এস.খান

আবরার ফাহাদ,আবরার হত্যাকাণ্ড
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত