Most important heading here

Less important heading here

Some additional information here

Emphasized text
  • বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৯, ২ কার্তিক ১৪২৬
  • ||

‘বাংলাদেশের স্বার্থ শেখ হাসিনা বিক্রি করবে, এ হতে পারে না’

প্রকাশ:  ০৯ অক্টোবর ২০১৯, ১৫:৫৯ | আপডেট : ০৯ অক্টোবর ২০১৯, ১৬:২৩
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রিন্ট icon

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে ভারত গ্যাস দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। বাংলাদেশের স্বার্থ শেখ হাসিনা বিক্রি করবে, এ হতে পারে না।

বুধবার (৯ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে তিনটায় গণভবনে তাঁর সাম্প্রতিক ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি সফর সম্পর্কে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ভারতের সঙ্গে গ্যাস নিয়ে চুক্তি বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ত্রিপুরায় যে গ্যাস দিচ্ছি, সেটা এলপিজি, বোতল গ্যাস। এটা বিদেশ থেকে আমদানি করে নিজেদের দেশে সরবরাহ করছি। আর কিছুটা ত্রিপুরায় দিচ্ছি।

তিনি বলেন, যারা বলছেন প্রাকৃতিক গ্যাস রফতানি করছি, বিশেষ করে বিএনপি- তারা ভারতে গ্যাস রফতানি করতে চেয়েছিল। তখন আমরা বলেছিলাম আমাদের স্বল্প মজুদ আছে, নিজেদের ৫০ বছরের চাহিদা রেখে তারপর রফতানির করার কথা ভাবব। এটা যেহেতু বলেছিলাম তাই আমরা তখন ক্ষমতায় আসতে পারিনি।

প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিন্টন এসেছিলেন, তিনিও গ্যাস রফতানির প্রস্তাব দিয়েছিলেন, কিন্তু আমি তখন বলেছিলাম গ্যাস দিতে পারব না, যোগ করেন প্রধানমন্ত্রী ।

শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় থাকতে বলেছিল গ্যাসের উপরে ভাসছে বাংলাদেশ, তখন আমি প্রশ্ন করেছিলাম কত গ্যাস আছে? সেটার উত্তর দিতে পারেনি। বাংলাদেশের কোন স্বার্থ শেখ হাসিনা বিক্রি করবে- সেটা সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, আমরা বিদেশ থেকে এলপিজি গ্যাস এনে প্রক্রিয়াজাত করে ভারতে রপ্তানি করবো। এটা প্রাকৃতিক গ্যাস নয়। অন্য পণ্য যেমন আমরা রপ্তানি করি ঠিক তেমন। এটা নিয়ে ভুল বোঝাবুঝির কিছু নেই।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে ও ইকোনোমিক সামিটে অংশ নেওয়া প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, সবদিক থেকেই এ সফর ছিল সফল। চারদিনের এ সফরে গত ৫ অক্টোবর হায়দরাবাদ হাউসে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। দ্বিপাক্ষিক বৈঠক শেষে আমরা ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে বাংলাদেশ সফরে আমন্ত্রণ জানাই। তিনি আগামী বছর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে উৎসবে যোগ দেয়ার জন্য বাংলাদেশ সফরে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

তিনি আরও বলেন, দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অভিন্ন নদীর পানিবণ্টন, ফেনী নদীর পানিবণ্টন, মুহুরী নদীর সীমানা নির্ধারণ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এছাড়া রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানের বিষয়ে নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, ভারত বলেছে মিয়ানমারের সঙ্গে আমাদের নিয়মিত যোগাযোগ আছে। রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে ভারত কাজ করে যাবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এক বিশেষ উচ্চতায় উন্নীত হয়েছে। এতে দুই দেশের সম্পর্কে এক নতুন গতির সঞ্চার হয়েছেন।

ভারতের ত্রিপুরায় ফেনী নদীর পানি দেওয়ার প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশে-ভারতের কিছু সীমান্তবর্তী নদী রয়েছে। এসব নদীর অধিকার দুই দেশেরই। ফেনী নদী এমনই একটি নদী। আমরা পানি পান করার জন্য তাদের কিছু পানি আমরা দেবো।

তিনি খালেদার শাসনামলে তার ভারত সফরের সমালোচনা করে বলেন, খালেদা জিয়া যখন ভারত সফর করে দেশে ফিরেছিলেন, তখন গঙ্গার পানি নিয়ে প্রশ্ন করেছিলেন, তখন খালেদা জিয়া বলেছেন, আমি তো গঙ্গার পানির কথা ভুলেই গিয়েছিলাম। যারা এত গুরুত্বপূর্ণ নদীর পানির কথা ভুলে যান তারা আজ ফেনীর পানির কথা বলছেন।

প্রসঙ্গত, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৭৪তম অধিবেশনে যোগদানের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ২২ থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র সফর করেন। পরে বিশ্ব অর্থনীতি ফোরামের ভারত অর্থনৈতিক সম্মেলনে যোগদানের উদ্দেশে গত ৩ থেকে ৬ অক্টোবর ৪ দিনের সফরে নয়াদিল্লি যান।

পূর্বপশ্চিমবিডি/ এনই

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত