• সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২০, ২৯ আষাঢ় ১৪২৭
  • ||

‘বাংলাদেশে যত ক্ষতিকর প্রকল্প তা যৌথভাবে করছে ভারত’

প্রকাশ:  ০৫ অক্টোবর ২০১৯, ১৫:৩৫
নিজস্ব প্রতিবেদক

সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল বলেছেন, বাংলাদেশে যত ক্ষতিকর প্রকল্প তা যৌথভাবে করছে ভারত। বাংলাদেশে যেনতেন ভাবে মানুষকে তাদের জায়গা-জমি থেকে উৎখাত করে রামপালের মতো পরিবেশ বিধ্বংসী প্রকল্প বিভিন্ন জায়গায় করা হচ্ছে। এসব প্রকল্পের সুবিধাও ভারত ভোগ করছে।

তিনি বলেন, স্বাধীনতার আগে সকল সুযোগ সুবিধা যেত পশ্চিম পাকিস্তানে আর শোষণ হতো পূর্ব পাকিস্তান, যত ক্ষতিকর প্রকল্প হতো পূর্ব পাকিস্তানে। তেমনিভাবে বাংলাদেশে যত ক্ষতিকর প্রকল্প তা যৌথভাবে করছে ভারত। সেটা করতে যে পণ্য ব্যবহৃত হবে তা হতে হবে ভারতীয়। এবং সমস্ত সুযোগ-সুবিধাও নিয়ে যাবে ভারত। এই জায়গায় মনে হয় চিন্তা-ভাবনার সময় এসেছে।

শনিবার (৫ অক্টোবর) ‘ইউনেস্কোর ৪৩তম সভার সকল সুপারিশ বাস্তবায়ন, সুন্দরবনের পাশে রামপালসহ সকল শিল্প নির্মাণ প্রক্রিয়া বন্ধ ও সমগ্র দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কৌশলগত পরিবেশ সমীক্ষা সম্পন্ন’ করার দাবিতে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

ডিআরইউ সাগর-রুনি মিলনায়তনে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটি।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্য রুহিন হোসেন প্রিন্স, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) সাধারণ সম্পাদক ড. মো. আব্দুল মতিন এবং ওয়াটার কিপারস বাংলাদেশের সমন্বয়কারী ও বাপার যুগ্ম সম্পাদক শরীফ জামিল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সুলতানা কামাল বলেন, কার্বন তৈরির দায় কমাতে ভারতীয় কোম্পানি এনটিপিসি তাদের দেশে সব কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ করে দিয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশে গণআপত্তির মুখেও তারা সুন্দরবনে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র তৈরিতে পিছপা হচ্ছে না। এটা এনটিপিসির ডাবল স্ট্যান্ডার্ড আচরণ।

তিনি আরও বলেন, আমি ভারতবিরোধী কোনো কথা বলছি না। স্বাধীনতার যুদ্ধের সময় ভারত যদি আমাদের পাশে না দাঁড়াতো তাহলে আমরা মুক্তিযুদ্ধটা যেভাবে শেষ করতে পেরেছি সেভাবে হয়তো শেষ করতে পারতাম না। আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সেটা স্মরণ করি, সেজন্য অবশ্যই ভারতের প্রতি কৃতজ্ঞও। কিন্তু আজকে বাংলাদেশকে একটা বাজারে কিংবা তাদের শিল্প কারখানার জায়গা বানিয়ে নিজেরা সব সুযোগ সুবিধা নিয়ে নেবে, এ বিষয়ে আমাদের এখন চিন্তাভাবনা করতে হবে।

সুলতানা কামাল বলেন, ইউনেস্কোর ৪৩তম সভা আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনের দুরাবস্থা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এরআগে ৪১তম সভায় (২০১৭) বেশ কিছু নেতিবাচক কিন্তু সঠিক পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছিল ইউনেস্কো। বাংলাদেশের দায়িত্ব ছিল সেসব বিষয়ে করণীয় সকল কাজ সম্পন্ন করে এবারের অর্থাৎ গত জুনের ৪৩তম সভায় প্রতিবেদন জমা দেয়া। কিন্তু বাকুর সভায় বাংলাদেশের কৃত কাজের প্রতিবেদনে ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটি সন্তুষ্ট হয়েছে বলে মনে করেনি। কারণ ২০১৭ সালের কাজগুলো সম্পন্ন করার করার জন্য কমিটি আবার জোর তাগাদা দিয়েছে। ডিসেম্বরের মধ্যে তাদের পর্যবেক্ষণ দল সরেজমিন সুন্দরবন দেখতে আসবে। আর বাংলাদেশকে ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে আবার প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। যা ৪৪তম সভায় মূল্যায়িত হবে। কিন্তু সভা বাংলাদেশ সরকারের কাজকর্মে সন্তুষ্ট না হলে ‘সুন্দরবন বিপদাপন্ন ঐহিত্য’ তালিকায় চলে আসতে পারে। যা হবে জনগণের ও দেশের জন্য অযোগ্যতা, ব্যর্থতা, দুঃখজনক, লজ্জাকর ও অপমানজনক।

তিনি বলেন, সুন্দরবন নিয়ে ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটির ৪৩তম সভায় সিদ্ধান্ত জানায় যে, সুন্দরবন নিয়ে বাংলাদেশ-ভারত যৌথ কার্যকরী গ্রুপের কর্মকাণ্ড ও ফলাফল সুনির্দিষ্টভাবে ইউনেস্কোকে জানাতে হবে। কীভাবে যৌথ গ্রুপ দীর্ঘমেয়াদে সুন্দরবনের ‘অনন্য বৈশ্বিক গুরুত্ব’ ধরে রাখতে অধিক কার্যকরী ভূমিকার কথা রাখবে। পশুর নদীতে যে কোনো ড্রেজিং করার পূর্বে পরিবেশগত মূল্যায়ন, সুন্দরবনের মধ্যে ড্রেজিং করার কঠোরভাবে লক্ষ্য রাখতে হবে যেন সুন্দরবনের ‘বৈশ্বিক গুরুত্ব’ অক্ষুণ্ন থাকে, বাঘ রক্ষার কর্মপরিকল্পনার উন্নয়নসহ ১৪টি সিদ্ধান্তের কথা জানানো হলেও বলা যায় কোনোটিই তোয়াক্কা করা হচ্ছে না।


পূর্বপশ্চিমবিডি/ওআর

সুলতানা কামাল,বাংলাদেশ ভারত,সাগর-রুনি মিলনায়তন
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close