Most important heading here

Less important heading here

Some additional information here

Emphasized text
  • রবিবার, ২০ অক্টোবর ২০১৯, ৪ কার্তিক ১৪২৬
  • ||

জাহাঙ্গীরনগরে ছড়িয়ে পড়েছে উত্তেজনা, ক্যাম্পাসে মুখোমুখি ৩ পক্ষ

প্রকাশ:  ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৩:৩৩ | আপডেট : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১০:০৭
জাবি প্রতিনিধি
প্রিন্ট icon

গত কয়েকদিন ধরেই সংবাদ শিরোনামে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববদ্যিালয় (জাবি) বার বার ওঠে আসছে । জাবির উন্নয়ন প্রকল্পের ১,৪৪৫ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে উপাচার্য ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। টাকা ভাগাভাগির বিষয়ে ছড়িয়ে পড়া অডিও নিয়ে ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।

ছাত্রলীগের একটি অংশ এখন প্রকাশ্যে টাকা পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করছে। অন্যদিকে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতিসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন বিষয়টি বানোয়াট বলে বিবৃতি দিচ্ছে। এদিকে দুর্নীতির অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিচার বিভাগীয় তদন্তসহ তিন দফা দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের একাংশ কর্মবিরতি, পদযাত্রা ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে। তাদের সঙ্গে যোগদিয়েছে শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ। সব মিলিয়ে ক্যাম্পাসে এখন তিনটি পক্ষ মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়িয়েছে। যে কোনো সময় ঘটতে পারে অনাকাঙ্খিত ঘটনা।

এদিকে সোমবার সাদ্দাম হোসেনের নেতৃত্বে শাখা ছাত্রলীগের একটি পক্ষ দিনব্যাপী ক্যাম্পাসে শোডাউন দিয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ছাত্রলীগের একাধিক নেতা জানিয়েছেন, শাখা ছাত্রলীগের যেসব নেতা এই কথোপকথন ও অডিও ফাঁসের সঙ্গে জড়িত তাঁদের ক্যাম্পাস থেকে বিতাড়িত করতে ছাত্রলীগের অপর পক্ষ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এমন সংবাদে ছাত্রলীগের এই পক্ষটি ক্যাম্পাসের নিজেদের অবস্থান জানাতে এ শোডাউনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে ফাঁস হওয়া ফোনালাপের তথ্য ‘মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে দাবি করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও উপাচার্যপন্থী শিক্ষকেরা। একই দাবি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল রানারও।

শাখা ছাত্রলীগ ও প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ঈদের আগে ৯ আগস্ট ভিসির বাসভবনে প্রশাসনের সঙ্গে ৪ ছাত্রলীগ নেতার আলোচনা হয়। সেখানে এক কোটি টাকা ভাগবাটোয়ারা হয়। তাদের মধ্যে নিয়ামুল হাসান তাজ ও সাদ্দাম হোসেন ছিলেন। এরা দু’জন গোলাম রাব্বানীকে অনুসরণ করতেন।

এদিকে ফাঁস হওয়া কথোপকথনে যে দুর্নীতির কথা বলা হয়েছে, সেটিকে মিথ্যা-ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সোমবার বিকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ অফিস থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ দাবি করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের সঙ্গে ছাত্রলীগ নেতাদের মধ্যে টাকা ভাগের কোনো আলাপ হয়নি। তিনি কাউকেই অর্থ প্রদান করেননি। গোলাম রাব্বানী উপাচার্য মহোদয়কে বিতর্কিত করার জন্য ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে এই ফোনালাপের গল্প তৈরি করেছেন।

এ ধরনের পরিকল্পিত মিথ্যা গল্পের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাচ্ছেন কর্তৃপক্ষ।’ এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, পাঠক তথা দেশবাসী এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে মিথ্যা অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হয়ে সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে সমর্থন দেয়ারও আহ্বান জানানো হয় এই বিজ্ঞপ্তিতে।

প্রশাসনের এমন দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার গণমাধ্যমের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে সাদ্দাম হোসেন ২৫ লাখ টাকা পাওয়ার কথা আবারও স্বীকার করেন।

তিনি বলেন, প্রশাসন দাবি করছে আমরা মিথ্যা গল্প বলছি। তাই পাল্টাপাল্টি অভিযোগ না করে প্রশাসনের সঙ্গে আমাদের কী কনভারসেশন (আলোচনা) হয়েছে, সেটি বের করলেই ক্লিয়ার (পরিষ্কার) হয়ে যাবে। আমি আবারও বলছি, ভিসির ছেলের সঙ্গে আমার ও তাজের ৯ আগস্টের আগে ও পরে কী কনভারসেশন (মুঠোফোনে কথোপকথন) হয়েছে, সেগুলো বের করা হলে সবকিছু ক্লিয়ার হয়ে যাবে- এই দুর্নীতির সঙ্গে কে জড়িত এবং কে কত টাকা পেয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ যদি চায় বিষয়টি উদ্ঘাটন করবে তবে আমরা সর্বোচ্চ সহযোগিতা করব।

৬ মিনিট ১০ সেকেন্ডের ওই অডিওতে শোনা যায়, উপাচার্যের দেওয়া এক কোটি টাকা থেকে ৫০ লাখ টাকা পেয়েছেন শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল রানা। তবে জুয়েল রানা গণমাধ্যমের কাছে দাবি করেন, এই অডিও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে কেউ ছড়িয়েছে। এর তথ্যগুলো বানোয়াট।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আওয়ামী ও ভিসিপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন ‘বঙ্গবন্ধু শিক্ষক পরিষদ’ রাব্বানী-সাদ্দামের ফোনালাপকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, কল্পিত কাহিনী ও চক্রান্তমূলক দাবি করে।

সোমবার বিকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটির সভাপতি অধ্যাপক আবদুল মান্নান ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক বশির আহমেদ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ দাবি জানানো হয়। এতে বলা হয়, একটি গোষ্ঠীর স্বার্থ হাসিল না হওয়ায় তারা ভিসির বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে।

উল্লেখ্য, গত বছর ২৩ অক্টোবর ১ হাজার ৪৪৫ কোটি ৩৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ‘জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পের’ অনুমোদন দেয় একনেক। এই প্রকল্পের অধীন ১ মে ছয়টি হলের টেন্ডার আহ্বান করা হয়। কিন্ত ৫টি হলের টেন্ডার চূড়ান্ত হয়। ৩০ জুন ছেলেদের ৩টি এবং মেয়েদের ২টিসহ ৫টি আবাসিক হলের কাজ শুরুর মাধ্যমে এই উন্নয়ন প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ভিসি অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম।

জাহাঙ্গীরনগর
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত