Most important heading here

Less important heading here

Some additional information here

Emphasized text
  • রোববার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৭ আশ্বিন ১৪২৬
  • ||

৩০ বছর ক্ষমতায় ছিল টাউট-বাটপারের দলেরা: মোজাম্মেল হক

প্রকাশ:  ২৬ আগস্ট ২০১৯, ০০:১৩ | আপডেট : ২৬ আগস্ট ২০১৯, ০০:১৭
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রিন্ট icon

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেছেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পর থেকে এখন পর্যন্ত স্বাধীন বাংলাদেশের ৪৯ বছর চলে গেল। এই বছরের মধ্যে বঙ্গবন্ধু ছিলেন সাড়ে তিন বছর ক্ষমতায়, আমাদের নেত্রী, সফল রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা আছেন সাড়ে ১৫ বছর। এই ১৯ বছর আমাদের ক্ষমতা। আর ৩০ বছর ছিল জিয়া-এরশাদ-খালেদ, মার্শাল, টাউট বাটপারের দলেরা।’ এই ৩০ বছরে তারা দেশকে শুধু পেছনের দিকে নিয়ে গেছে।

রোববার (২৫ আগস্ট) সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৪তম শাহাদাতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ আইন সমিতি অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুর যে অবদান, আমরা এখনো বাঙালি জাতির সামনে তুলে ধরতে পারিনি। আজকে ৪৯ বছর ধরে আমরা ডিফেনসিভ হচ্ছি, অফেনসিভ হতে পারছি না। শুধু আত্মপক্ষ সমর্থন করতে হচ্ছে।

প্রয়াত রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানকে বঙ্গবন্ধুর প্রত্যক্ষ খুনি উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, জিয়াউর রহমান যে বঙ্গবন্ধুর প্রত্যক্ষ খুনি, এটা যারা আত্মস্বীকৃত খুনি তারাই বলে গিয়েছে। এছাড়াও জিয়াউর রহমান ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ দিয়ে বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিচারের পথ রুদ্ধ করেছিল। কাদের মন্ত্রী বানিয়েছিল? যাদের প্রত্যেকে একাত্তরের স্বাধীনতা যুদ্ধে বিরোধিতা করেছিল। সব ক্রিমিনালদের সে মন্ত্রী করে দিলো। একজনও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের ছিল না এবং সংবিধান থেকে ধর্ম নিরপেক্ষতা উঠিয়ে দিল। ধর্ম নিরপেক্ষতা উঠিয়ে দিয়ে গোলাম আজমকে এনে, পাকিস্তানের নাগরিক গোলাম আজমকে এ দেশে এনে নাগরিকত্ব দিলো। তাকে আবার জামায়াতে ইসলামী দল গঠন করার সুযোগ করে দিলো। এতে কী বুঝা যায়? এ দেশকে মিনি পাকিস্তান বানানোর জন্য যা যা করণীয়, সব করল।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোজাম্মেল হক বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় ১১ জন (সেক্টর কমান্ডারের) মধ্যে একমাত্র জিয়াউর রহমানই বলেছিল, ‘আমি মুজিব নগর সরকারের, অর্থাৎ রাজনৈতিক সরকারের অধীনে যুদ্ধ করব না।’ সে বলল, ‘আমরা ওয়ার্ড কাউন্সিল করে যুদ্ধ করব।’ এই সেই ক্রিমিনাল।

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের প্রধানমন্ত্রী ২০৪১ সাল পর্যন্ত সময় চেয়েছিলেন। যে গতিতে তিনি চলছেন, ২০৩০ সালের মধ্যেই সেটা সম্ভব।

অনুষ্ঠানে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বলেন, একমাত্র বঙ্গবন্ধুই বাংলাদেশকে মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে, আন্দোলনের মধ্য দিয়ে স্বাধীন সত্তা দেয়ার জন্য চেষ্টা করে সফল হয়েছেন। শোক দিবসে শুধু গতানুগতিকভাবে বঙ্গবন্ধুর খুনীদের বিষয়ে কথা না বলে বঙ্গবন্ধুর খুনীদের দ্বিতীয় প্রজন্ম যাতে তৈরী হতে না পারে সে জন্য আমাদের প্রস্তুতি নিতে হবে। আদর্শিক জায়গায় কর্মী প্রস্তুত করা দরকার, যেনো আরেকটি পঁচাত্তরের ১৫ই আগস্টের মতো ঘটনা দৃঢ়তার সাথে, সাহসের সাথে মোকাবেলা করা যায়।

মন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুর খুনীদের দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে সরকারের প্রচেষ্টা কোনভাবে ব্যর্থ বলতে চাইনা। শেখ হাসিনা সরকার বিভিন্নভাবে বঙ্গবন্ধুর খুনীদের দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে। বঙ্গবন্ধুর বিচারের জন্য আমাদের ৩৪ বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে। যখন কোন সাক্ষ্য-প্রমাণ ছিলো না, পরিস্থিতি পরিবর্তিত, খুনীরা যখন বিভিন্নভাবে সুপ্রতিষ্ঠিত দেশে, রাজনীতিতে, অর্থে এবং দেশের বাইরে, তাদের বিচার করে দাম্ভিকর্তা চূর্ণ করা শেখ হাসিনার পক্ষেই সম্ভব হয়েছে।

শ ম রেজাউল করিম বলেন, ইতিহাসের অনিবার্যতায় আমাদের একটি জায়গায় পৌঁছে যেতেই হয়। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার মধ্যে দিয়ে দেশটা প্রতিষ্ঠিত। ৩২ নম্বরে বাঙালির উৎসের আর অস্তিত্বের বেদীমূলে গিয়ে আত্মসমর্পণ করতে দেশের একজন লোকও যেনো বাদ না থাকে। বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় সুবিধা ভোগ করতে হলে, নাগরিক হিসেবে নিজেকে ভাবতে হলে সকল মানুষকে সেখানে আত্মসমর্পণ করতে হবে, যেখানে বাঙালির সমস্ত অস্তিত্বের উৎস প্রাঞ্জল হয়ে আমাদের মাঝে রয়েছে। সেই অস্তিত্তের উৎস বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। আদর্শিক জায়গা কখনো খুন করা যায় না, তাই বঙ্গবন্ধুকে কখনো খুন করা যায় না।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি এ কে এম সাহিদুল হক, বিচারপতি মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট বার এসোসিয়েশনের সভাপতি এম আমিন উদ্দিন প্রমুখ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ আইন সমিতির জাতীয় শোক দিবস উদযাপন কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট মোল্লা মোঃ আবু কাওছার।

পূর্বপশ্চিমবিডি/জিএম

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়,জাতীয় শোক দিবস,বাংলাদেশ আইন সমিতি,আলোচনা সভা
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত